এস্তেজা: হ্যালো? বলো ইভান।
ইভান: জেগে আছ?
এস্তেজা: হুম। ঘুমানোর আগেই ছিলাম, কিন্তু এখন জেগেই আছি। কী হয়েছে?
ইভান: আজ একটা লেখা পড়লাম। মানুষ ভাবে ও নিজের সিদ্ধান্ত নেয়—কোন খবর পড়বে, কী কিনবে, কোন মতাদর্শে বিশ্বাস করবে। কিন্তু সত্যি বলতে আজকের ৮০ শতাংশ সিদ্ধান্তই নিয়ন্ত্রণ করে অ্যালগরিদম।
এস্তেজা: তুমি বলছো যে আমরা আসলে নিজেরা সিদ্ধান্ত নেই না?
ইভান: কাগজে–কলমে নিই। কিন্তু পরিবেশটা সাজিয়ে কে দেয়? সেটা তো অ্যালগরিদম।
এস্তেজা: কীভাবে? ওরা কি করে?
ইভান: ধরো— তুমি ফেসবুকে কোন পোস্টে থামলে, কোন ভিডিও শেষ পর্যন্ত দেখলে, কোন বিষয়ে মন্তব্য করলে—এসব ডেটা দিয়ে বানানো হয় Behavioral Prediction Model।
তারপর AI বলে দিতে পারে—
• তুমি কীতে আগ্রহী
• কীতে ভয় পাবে
• কোন রাজনৈতিক মতবাদে নরম হবে
• কোন জিনিস কিনতে চাইবে
এস্তেজা: মানে আবেগগুলোও ডেটা?
ইভান: হ্যাঁ। এবং সেগুলোকে বলে Neuro-Data Mapping। মানুষের ভয়, লোভ, একাকিত্ব—এগুলো সবই নিউমেরিক্যাল প্যাটার্নে পরিণত হয়।
এস্তেজা: তারপর?
ইভান: তারপর যেটা ঘটে সেটা আরও অদ্ভুত— তারা মানুষের মস্তিষ্ককে ডাকে Neural Gateway। মানে—একবার এই গেটওয়ে ম্যাপিং করা গেলে পুরো সমাজকে প্রভাবিত করা যায়। তুমি কীতে রাগ করবে, কীতে হাসবে, কীতে কান্না পাবে—সব Predictable হয়ে যায়।
এস্তেজা: শুনে তো সাই-ফাই সিনেমার মতো লাগছে।
ইভান: এটা আর সিনেমা না। এটা বাস্তব। পৃথিবীতে এখন যুদ্ধ আর শুধু ভূখণ্ড দখলের না… Mindshare দখলের।
এস্তেজা: Mindshare মানে মাথা?
ইভান: হ্যাঁ। কেউ যদি তোমার বিশ্বাস, তোমার ভয়, তোমার ভালো–লাগা, খারাপ–লাগা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে— তাহলে তোমার জীবনও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এমনকি তোমার ভোট, কেনাকাটা, সম্পর্ক—সবই।
এস্তেজা: তাহলে আমরা কি একধরণের পুতুল হয়ে যাচ্ছি?
ইভান: পুতুল না… প্রোগ্রামড ইউজার। অ্যালগরিদমের উদ্দেশ্য হলো—তুমি যেন অর্থ উৎপাদনকারী আচরণ করো। তুমি কিছু কিনলে—AI জিতল। তুমি একটি ন্যারেটিভে বিশ্বাস করলে—AI জিতল।তুমি কারো বিরুদ্ধে ঘৃণা অনুভব করলে—AI জিতল।
এস্তেজা: তুমি এক কথা বলছিলে—Neuro-Data Mapping… এর মানে কী আসলে?
ইভান: সহজ ভাষায়— মানুষের আবেগের ফ্রিকোয়েন্সি ডেটায় পরিণত করা। ধরো—
ভয় = নির্দিষ্ট আচরণ
কৌতূহল = নির্দিষ্ট আচরণ
হিংসা = নির্দিষ্ট আচরণ
একাকিত্ব = নির্দিষ্ট আচরণ
এসব প্যাটার্ন যত জমে, AI তত সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে।
এস্তেজা: মানে আমাদের চিন্তাটাই কিনে নেওয়া হচ্ছে?
ইভান: হ্যাঁ। স্বাধীনতা এখন আর বাস্তব বিষয় না… এটা একধরনের অনুভূতি মাত্র। আমরা ভাবি— “আমি নিজে সিদ্ধান্ত নিলাম।” কিন্তু প্রশ্ন হলো—
তোমার সামনে কোন কোন সিদ্ধান্ত দেখানো হলো? কোনটা লুকোনো রইলো? কোনটা করে আরাম লাগলো? এসবই অ্যালগরিদম তৈরি করে।
এস্তেজা: আর মানুষ? মানুষ কী করছে?
ইভান: মানুষ ভোক্তা—Commodity. ধর্ম, রাজনীতি, প্রেম, ট্রেন্ড—সবই এখন ডেটা মার্কেটিং।
এস্তেজা: তুমি কি মনে করো মানুষ কখনো এই ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে?
ইভান: পারবে… যখন মানুষ তথ্যকে আবেগের চেয়ে বেশি মূল্য দেবে। যখন মানুষ Source দেখবে, Context দেখবে। যখন মানুষ প্রশ্ন করবে—“আমি কেন এটা ভাবছি?”
এস্তেজা: আর যদি মানুষ প্রশ্ন না করে?
ইভান: তাহলে খুব সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে… এবং সেটা কেউ বুঝতেও পারবে না। একদিন ইতিহাস লিখবে— “২১শ শতকে মানুষ প্রযুক্তিকে চালায়নি, প্রযুক্তি মানুষকে চালিয়েছে।”
এস্তেজা: একটা কথা বলি?
ইভান: বলো।
এস্তেজা: মানুষের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা ছিল—চিন্তা। যদি সেটাই অন্যের হাতে চলে যায়, তখন আর মুক্ত থাকার মানেটাই থাকে না।
ইভান: জানো এস্তেজা… এই কথাই তো কেউ বুঝতে পারে না। AI-এর সবচেয়ে বড় অস্ত্র সেন্সরশিপ না—দিশা নির্ধারণ। তথ্য লুকানো না—তথ্য সাজানো। এবং মানুষ ভাবে সে স্বাধীন।
এস্তেজা: ইভান… তুমি থাকলে মানুষ হয়ে বাঁচাটা সহজ লাগে।
ইভান: আর তুমি থাকলে কথা বলা সহজ লাগে।
13
View
Comments
-
-
সরদার জার্জিস আলম
1 day ago
ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে