Story

স্বভাব

September 25, 2026

10 views

১
পানি খাবে বলে কলসটা ধরে কাৎ করতেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো সুফিয়া বেগমের। কলসে পানি নেই। চিৎকার করে কাকলিকে ডেকে বললেন,
হারামজাদি কলসিতে পানি নাই কেন?
কাকলি উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছিল। শাশুড়ির হুংকার শুনে ঝাড়ু ফেলে এক দৌড়ে এসে কলসিটা নেয়ার উপক্রম করতেই সুফিয়া বেগম আবার চিৎকার শুরু করলেন। ঝাড়ু ফেলে হাত ধুয়ে আসিসনি কেন, মাগী?
কাকলি কিছুই বললো না। রীতিমতো দৌড়ে টিউবওয়েল এর কাছ চলে গেলো। মুহুর্তের মধ্যে হাত ধুয়ে এসে কলসি নিয়ে আবার টিউবওয়েলের কাছে চলে গেলো। শাশুড়ির এই আচরণ বা যে সব শব্দ বলেন, সেগুলোকে মোটেই ভ্রুক্ষেপ করে না সে আজকাল। এগুলো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
প্রথম প্রথম এসব শুনে মন খারাপ হতো। কান্নাকাটি করতো। কান্না করতে দেখলে শাশুড়ি আবার শুরু করতো। এখন আর মন খারাপ করে না, বরং মাঝে মাঝে মনে মনে বলে, এত মানুষ মরে, এই বুড়ি মরে না কেন?
সুফিয়া বেগমের এক ছেলে, জাফর উল্লাহ নাম। এদের নামেই বাহার, আসলে ভিটা ছাড়া আর কিছু নাই। হ্যাঁ, আগে অনেক কিছু ছিলো। সুফিয়া বেগমের স্বামী, মানে তার শ্বশুরের ছিলো জুয়ার নেশা। জুয়ার নেশায় জমি জিরাত সব বিক্রি করে শেষ করেছে। শেষে শুধু বাকী ছিলো এই ভিটা আর এই টিনের ঘর। এ সময় মানুষটা না মরে গেলে হয়তো এগুলোও বিক্রি করে ফেলত। সেই শ্বশুর মারা যাবার এক বছর পর কাকলি এলো এ বাড়িতে, সেও তিন বছর আগে। টিনের ঘরটার মতো ঘরের সকল জিনিসপত্রে একসময়ের স্বচ্ছল পরিবারের ক্ষয়িষ্ণু চেহারাই এখন এ বাড়ির আসল চেহারা।
এই পরিবারে খুব আশ্চর্যজনভাবে জাফর উল্লাহ একটা ভিন্ন মেজাজের মানুষ। বাপের মতো জুয়ার নেশা নাই, মায়ের মতো মেজাজিও নয়। লোকটা নিরীহ ধরণের। বাজারে একটা মুদি দোকান আছে। সে সেটা নিয়ে খুশি। ওই দোকানটাকে বড় করতে বলেছিল তাকে কাকলি অনেকবার, দোকানে আরেকটা ঘর নিতেও বলেছে। জাফর উল্লাহর একটাই জবাব, আরে ধুর, এগুলো বাড়িয়ে কী হবে? সম্পত্তি বেশি হলে আমার ছেলেপুলেরা জুয়া খেলে সব শেষ করবে। এই ছোট মুদি দোকানের আয় নিয়েই সে সন্তুষ্ট। কাকলিও সেটা মেনে নিয়ে আজকাল এসব নিয়ে কিছুই বলে না স্বামীকে।

২
বাজারে জাফর উল্লাহর দোকানের মুখোমুখি একটা মিষ্টির দোকান। ঠিক উল্টো পাশে মিষ্টির দোকান হওয়ায় জাফর উল্লাহর সুবিধা অসুবিধা দুটোই হয়েছে। এমনিতেই সে মিষ্টি খুব পছন্দ করে। সকালে দোকান খুললেই উল্টো দিকের দোকান হতে তার জন্য দুটো কালোজাম আসে। আবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় আবার দুটো কালোজাম খাওয়া তার দৈনন্দিন অভ্যাস হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে দোকানদার তার কাছ থেকে টাকা নেয় না। টাকা দিতে গেলে বলে,
জাফর ভাই, এমনিই শরম লাগে আপনের কাছ থেইকা টেকা নিতে। আপনি আমারে আর টেকা দিয়েন না। আপনে আর কয়টা মিষ্টিই খান? কিন্তু আপনে আমার লক্ষ্মী কাস্টমার। আমি বউনি করি আপনেরে দিয়া। আপনে ভালা মানুষ। বউনির লাইগা আপনের মতন কাস্টমার আমার বিরাট ভাগ্য।
জাফর উল্লাহ তার স্বভাবসুলভ মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
গোপাল, যদি টেকা না নেস আমি কিন্তু মিষ্টি খাওয়া বন্ধ কইরা দিমু।
ধুর ভাই, এইসব কতা আমারে কইয়েন না। আমরা একসাথে এক গেরামে ছোড থেইকা বড় হইছি। আপনে আমার ভাইয়ের থেইকা বেশী। ভাই হইয়া ভাইয়ের লগে এইরকম কথা কওনের নিয়ম নাই।
গোপালের এই কথার পর আর কথা বলার সুযোগ থাকে না। তাই দুজনেই চুপ হয়ে যায়।
মুদি দোকানে সারাদিন দোকানদারির একটা সুবিধা আছে। নানান রকমের কাষ্টমার আসে। এখানে সবাই সবাইকে চেনে। সদাই কেনার ফাঁকে দুই একটা সুখ দুখের কথাও হয়। একে অন্যের খবর নেয়। এদিক বিবেচনা করলে বলা যায়, গ্রামে কোথায় কে কিরকম আছে, জাফর উল্লাহ মোটামুটি সব খবর জানে। তবে জাফর উল্লাহ নিজে খানিকটা চাপা স্বভাবের বলে তার সাথে কথা বললে বোঝা দায়, সে কোন খবরের কতটুকু জানে।
সারাদিনের দোকানদারির পর বাড়ি যাবার সময় মনটা কিছুটা বিষিয়ে আসে মাঝে মাঝে। বাড়ি গেলে প্রতিদিন একই ঘটনা। সারাদিনে কি কি দোষ করেছে, কি কি ভুল করেছে কাকলি, সেসবের ফিরিস্তি শুনতে হয় মায়ের কাছে। জাফর উল্লাহ তার মায়ের স্বভাব জানে। যতটুকু বলেন, তার বার আনা বাদ দিলেও যেটুকু হয়, কাকলি সেটাও করে না; সে জানে। বাড়িতে পৌঁছামাত্রই মিনিট দশেক এগুলো শুনতে হয়। নিত্যদিনের ঘটনা। সুফিয়া বেগমের একটাই দুঃখ, ছেলেকে এত কিছু বলার পরেও কাকলিকে সে কিছুই বলে না। তখন সুফিয়া বেগম ঘরের এক কোণায় বসে নাকি কান্না শুরু করেন। তখন কাকলি গিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে নিজে কিছু না করেও দোষ স্বীকার করে মাফ চায় এবং খেতে আসতে বলে। আর ঠিক তখনই সুফিয়া বেগম খেতে বসেন।
এগুলো প্রতিদিন দেখতে দেখতে জাফর উল্লাহর মাঝে মাঝে ক্লান্তি লাগে, বিরক্ত লাগে। কখনো কখনো তার ইচ্ছে হয়, এ বাড়ি ছেড়ে কোথাও চলে যেতে।
তবে এ সব কথা মনে হলে সাথে সাথেই সে নিজে নিজে মনে মনে জিব কাটে। নাহ, এ ধরণের ভাবনা চিন্তা করাই ভুল হচ্ছে। মা এখন বুড়ো হয়ে গেছেন। এ বয়সে সবাই কমবেশি খিটমিটে হয়ে যায়। কাকলিকেও এসব বলেই বুঝায় সে। কাকলি হয়ত বুঝে, কিছুই বলে না। মাঝে মাঝে জাফরের এও মনে হয়, কাকলি যদি কোনদিন ধৈর্য হারিয়ে মাকে মুখের উপর কিছু বলে বসে! সেদিন থেকে এ বাড়ি অশান্তির গুদাম হয়ে যাবে। জাফর উল্লাহ মন থেকে চায়, এরকম যেন কখনো এ বাড়িতে না ঘটে।

৩
কাকলির মনটা খারাপ হয়ে আছে। সকালে তার বাড়ি থেকে তার মা ফোন করেছিলো। ছোট বোনটার অসুখ। মায়ের সাথে কথা বলার সময় সুফিয়া বেগম কাকলির কাছ হতে ফোনটা টেনে নিয়ে নিজে কথা বলতে লাগলেন। কথা বলতে গিয়ে তিনি এক গাদা কথা শুনিয়ে দিলেন কাকলির মাকে। মেয়েকে কোন কাজকর্ম না শিখিয়ে বিয়ে দিয়েছে কেন, এ মর্মে অনেকগুলো কথা বলে দিলেন।
কাকলি চুপ করে শুনল। এ অভিযোগগুলো একেবারেই মিথ্যে অভিযোগ। বিয়ের পর তিনটে বছর পার হয়ে গেছে। তার মনে হলো, যদি এই বুড়ি আরও বিশ বছর বেঁচে থাকে, তখনো এসব কথাই বলে যাবে। মনে করেছিলো, আজ শাশুড়িকে বলবে, দিন দুয়েকের জন্য বাড়ি যাওয়ার কথা বলবে। এখন যে অবস্থা হলো, শাশুড়িকে কিছুই বলা যাবে না। মনটা কেন যেন বিষিয়ে উঠলো সব কিছুর উপর। মনের মধ্যে একটা ভয়াবহ কথা কেন যেন ঠিক এখনই এলো, এই বুড়িটা কোন অসুখে বিছানায় পড়ে থাকলে যদি তার মুখটা কয়েকদিনের জন্য বন্ধ হতো! পরক্ষণেই তার মনে হলো, না এ ধরণের ভাবনা ঠিক না। হাজার হলেও শাশুড়ি, তার স্বামীর গর্ভধারিনী মা।
শাশুড়ি তাকে ডেকে বললেন, চুপ কইরা বইসা আছস ক্যান? পাকের ঘরে যা।
মনের মধ্যে প্রবল অনিচ্ছার পাহাড় নিয়ে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো। ছোট বোনটার এখন কী অবস্থা কে জানে।
জাফর উল্লাহ তার দোকানে বসে আছে। দুপুর গড়িয়ে গেছে। এ সময়টায় বাজারে লোকজন কম। মিষ্টির দোকান থেকে গোপাল বেরিয়ে এসে তার দোকানের সামনে এসে সিগারেট ধরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা দুজন এটা ওটা গল্প করছিলো। মোবাইলটা বেজে উঠতেই জাফর উল্লাহ সেদিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল। কাকলি সাধারণত কখনো ফোন করে না। বাড়িতে কারো কোন অসুবিধা হলো নাকি। কলটা ধরতেই দেখলো, যা ভেবেছিলো, ঠিক তা’ই। মা কলতলায় পড়ে গেছেন। কোমরে ব্যথা পেয়েছেন। এ খবর শোনার পর দোকানে থাকার প্রশ্নই আসে না। দোকান থেকে বেরিয়ে এসে গোপালকে মায়ের কথা বলল। গোপাল বলল, চলেন বাড়ি যাই। কী অবস্থা কে জানে, আপনে একলা কদ্দুর পারবেন, কে জানে। আরেকজন সাথে থাকলে অসুবিধাতো নাই। দোকান বন্ধ করেন, চলেন বাড়ি চলেন।

৪
সুফিয়া বেগম কোমরে ভালো ব্যথা পেয়েছেন। বিছানা থেকে উঠার সামর্থ নাই। কোমরের ব্যথা মোটেই কমেনি। পড়ে যাবার পর জাফর উল্লাহ আর গোপাল এসে তাকে গঞ্জের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলো। কোমরে এক্সরে করিয়েছে। এক্সরে দেখে ডাক্তার ভ্রূ কুঁচকে বলেছে, উনার যা বয়স তাতে এখন বেশি কিছু করা সম্ভব না। তবে যদি মাস তিনেক বিছানায় শোয়া অবস্থায় রাখা যায়, তাহলে অবস্থার উন্নতি হবে। ব্যথা কমে যাবে, কিন্তু কোমর একটু বাঁকা করেই হাঁটতে হবে সামনের দিনগুলোতে। কথাগুলো শোনার পর সুফিয়া বেগম কান্নাকাটি করতেই থাকলেন দিন দুয়েক। আজ সকাল থেকে কান্না করছেন না। চুপচাপ বিছানায় শুয়ে আছেন। কাকলিকে ডাকলেন একবার। জোরে ডাকতে গেলেও কোমরে ব্যথা করে উঠে।
কাকলি এক ডাকেই চলে এলো। সুফিয়া বেগম তাকে বললেন, খাওনের পানি দে।
কাকলি পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো। সুফিয়া বেগম পানি খেয়ে গ্লাসটা ফিরিয়ে দেয়ার সময় জিজ্ঞেস করলেন, আইজ কি রাঁধতাছস?
কাকলি জবাব দেয়ার পর সুফিয়া বেগম কিছুই বললেন না।
ঘর থেকে বেরিয়ে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কাকলি ভাবল, তিন দিনেই শাশুড়ি ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। প্রথম দিন যখন শাশুড়ি পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলেন, মনে মনে খুব খুশী হয়েছিলো। কিন্তু পরমূহুর্তে শাশুড়ির ভোগান্তি এবং গত দুই দিনে সব দেখে এখন তার খারাপ লাগছে। তার কেন মনে হচ্ছে, শাশুড়িকে নিয়ে খারাপ চিন্তা করাটা ঠিক হয়নি তার। এখন সব মিলিয়ে তারই কাজ বেড়েছে। শাশুড়ির সব কাজও তাকেই করে দিতে হচ্ছে। সংসারের কিছু কিছু কাজ শাশুড়িও করতো। এখন সেগুলোও তাকে করতে হচ্ছে।
তবে একটা জিনিস সে লক্ষ্য করেছে, শাশুড়ি এ দুই দিন যাবত তাকে কথায় কথায় গালি দিচ্ছে না। কথায় কথায় হারামজাদি বলেও ডাকছে না। ব্যপারটা তার নজর এড়ায়নি। মনে হলো, শাশুড়ি নিজে শারীরিক কষ্টে আছেন বলেই হয়তো এখন প্রতিদিনকার মতো রূঢ় আচরণ করছেন না। যাই হোক, শাশুড়িকে তিন বেলা নিয়ম করে ঔষধ খাওয়ানোর কাজটা কাকলি নিজে খুব গুরুত্বের সাথে করে যেতে লাগলো।

৫
মাঝে মাঝে শাশুড়ির কোমরে ব্যথা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা। কাকলি রাত জেগে শাশুড়ির পিঠে কোমরে ব্যথার মলম লাগিয়ে সেঁক দেয়। সুফিয়া বেগম ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলেই কাকলি কাছে এসে জিজ্ঞেস করে, মা, একটু সেঁক দিয়ে দেই? মা, আমি এখনই মলম লাগিয়ে দিচ্ছি।
এরই মাঝে মাসখানেক পেরিয়ে গেছে। সুফিয়া বেগম এখন অল্প কয়েক কদম হাঁটতে পারছেন। তবে ডাক্তার তাকে এখনো হাঁটতে বারণ করে যাচ্ছেন। দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা শুয়ে থাকা খুব কষ্টকর। এরই মঝে একদিন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো। মাঝরাতে ব্যথায় কোঁকাতে লাগলেন সুফিয়া বেগম। যথারীতি কাকলি হারিকেনটা কাছে নিয়ে এলো। সেটিতে একটা কাপড় গরম করে করে শাশুড়ির কোমরে সেঁক দেয়া শুরু করেছে। সুফিয়ে বেগম বাঁয়ে কাৎ হয়ে ঘরের বেড়ার দিকে ফিরে আছেন। সুফিয়া বেগম হঠাৎই বলে উঠলেন, কাকলি।
কাকলি রীতিমতো চমকে উঠলো, এই তিন বছরে আজই প্রথমবার শাশুড়ি তাকে নাম ধরে ডাকলেন।বলেন, মা।
গত একটা মাস যা করলি তুই, আমার নিজের পেটের মেয়েও সেটা করতো না। এই জন্য তোকে কি বলুম, সেইটাও বুঝতে পারছি না।
আপনেরে এইগুলা নিয়া কিছু বলার দরকার নাই।
না রে, আমিতো বুঝি। দিন রাইত এক কইরা তুই যা করলি, সেইটা কেউ কাউর লাইগা করবো না।থাক মা, এইসব বইলা আমারে শরম দিয়েন না।
আমিতো মনে করছিলাম জীবনে আর উইঠা বইতে পারুম না। তুই যেই সেবা যত্ন করলি, সেইজন্য এখন আমি হাঁটতে পারি।
কাকলি এ কথায় কি বলবে, ভেবে পেলো না। সে চুপ করে রইলো।
সুফিয়া বেগম খানিকক্ষণ চুপ থাকার পর বললেন, আল্লাহ্‌ তোর ভালা করুক।
কাকলি কিছু বললো না। খুব সন্তর্পনে চোখ মুছল। শাশুড়ির কথাগুলো শুনতে শুনতে তার চোখ ভিজে গেছে। বিয়ের তিন বছরের মাথায় এই প্রথম তার শাশুড়ি তার সাথে এভাবে কথা বললেন।

৬
সকাল বেলা। ঘুম থেকে উঠে জাফর উল্লাহ বিছানায় কাকলিকে না দেখে চুপচাপ উঠে মায়ের রুমে উঁকি দিয়ে দেখে কাকলি মায়ের পায়ের কাছে শুয়ে আছে। দেখে একটা ছোট দীর্ঘশ্বাস ফেললো। মা অসুস্থ হবার পর থেকে এটা একটা নিয়মিত দৃশ্য হয়ে গেছে।
পা টিপে টিপে ঘর থেকে বেরিয়ে কলতলায় চলে গেল। কারো ঘুমে ব্যঘাত ঘটুক, সেটা সে চাচ্ছে না। হাত মুখ ধুয়ে ফেরার সময় দেখলো, কাকলি ঘর থেকে বেরিয়ে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। ঠিক এ সময় জাফর উল্লাহর মনে হলো, সংসারটাকে সে এভাবেই দেখতে চেয়েছিল সবসময়। একটা শান্ত সৌম্য পরিবেশ, মা এবং কাকলির মধ্যে সদ্ভাবটা থাকুক। এখন ঠিক সেটাই এ বাড়িতে বিরাজ করছে। মনে মনে শুধু বললো, আলহামদুলিল্লাহ।

পুনশ্চ
সুফিয়া বেগম সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে চলতে পারছেন। সকাল দশটার মতো বাজে। কাকলি উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছে। ঘরের দাওয়ায় বসে আছেন তিনি। তার মনে হলো, পানি খাওয়া দরকার। উঠে কলসির কাছে গেলেন। কলসিটা ধরে কাৎ করতেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো সুফিয়া বেগমের। পানি নেই। চিৎকার করে কাকলিকে ডেকে বললেন,
হারামজাদি কলসিতে পানি নাই কেন?
কাকলি ঝাড়ুটা মাটিতে রেখেই কলসিটা নিয়ে কলতলায় ছুটল।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login

  • probash khobor 3 hours ago

    আহা রে স্বভাব! মানুষ কদাচিত তার স্বভাব বদলাতে পারে। দারুন লিখেছেন।

  • অনেক সুন্দর গল্প।