আমাদের চোখ যেদিন বলে বসলো,
আজ থেকে আর কিছুই দেখব না।
উচ্ছন্নে গেছে সব, ভাষা গেছে, আদব গেছে,
হায়া শরম উঠে গেছে, আর দেখার কী আছে!
আমাদের কান সেদিন হেসে বলল,
বক্তৃতা শুনে আর কী হবে?
প্রতিটি শব্দ তো আগে থেকেই ঠিক করা।
এরা কি আমাদের জিন্দা ভাবে? নাকি আমরা সব মরা!
আমাদের মুখও সেদিন তালা লাগানোর আগে বলেছে,
সত্যের দাম বেশি, মিথ্যে আজ ভর্তুকি পায়।
দেশটার হলো কী, শান শওকত দেখি,
অথচ ভেতরে সব হায়, হায়।
পতাকারা আকাশ জুড়ে উড়ল খুব,
কিন্তু বাতাসটা ছিল ধার করা।
স্লোগানের আড়ালে ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না।
কপর্দকহীন মানুষেরা পতাকা দেখে ভাবে,
আহা, এটা যদি আমার ভাত হতো!
সংসদে করতালির ঝড় উঠল,
বিরোধিতাও ছিল নিয়মমাফিক;
যেন নাটকের প্রতিটি চরিত্র
আগেই মুখস্থ করে এসেছে সংলাপ।
ইতিহাস সেদিন কাশি দিয়ে বলল,
আমাকে এতবার লিখো না,
কালি শুকাতে না শুকাতেই
তোমরা নতুন সংস্করণ ছাপাও।
তোমরা শালা মানুষ হবা কবে?
আর আয়না,
সে বহুদিন পর মুখ খুলে বলল,
দোষ আমার নয়,
তোমরাই মুখ বদলে বদলে
প্রতিচ্ছবিকে দেশ বলে ডাকো।
তাই আমাদের চোখ যেদিন বলে বসলো,
আজ থেকে আর কিছুই দেখব না...
সেদিনই অন্ধ হলো না চোখ,
অন্ধ হলো সেই সময়,
যেখানে সত্যকে দেখার চেয়ে
তাকে ঢেকে রাখাই রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার।
Comments
-
-
তারিক হোসেন
2 hours ago
Awesome Writing.
-
probash khobor 3 hours ago
দারুণ লিখেছেন। একটা প্রচ্ছন্ন প্রতিবাদ দেখতে পেলাম কবিতাটিতে।