দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মুক্ত আলোচনা। আলোচনা করতে করতে তা গিয়ে ঠেকলো তেলের দামে হঠৎ করে তেলের দাম এক লাফে ২০টাকা বেড়ে গেলো। এ নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছে এটা সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, কেউ বলছে কয়েক লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে পুরো দেশটাকে একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিলো। কেউ বলছে ফ্যামিলি কার্ড এই কার্ড ঐ কার্ডের টাকা যোগাড় করছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর এক চা দোকানে আলাপ জমেছে তুমুল বিষয় বস্তু ঐ তেল। একজন বলছে জানস তেলের দাম কমানোর আমি একটা উপায় বাহির করছি। অন্য সবাই জিজ্ঞাস করলো কি সেটা, সে বলল দেশের মানুষের চুলের কত বাহার এত এত মানুষের মাথায় তো তেল দিতে হয় এতে কত তেলের অপচয় হয় তাই সকলের মাথা ন্যাড়া করে দিতে হবে। আরেক জন বললো ধুর বেটা এটা কোন কথা। আমি ভাবছি মানুষ যে পরিমান পুরি পেঁয়াজো বেগুনী খায় তাতে অনেক তেলের অপচয় হয় এসব ভাজা পুরি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করে দিতে হবে এসব দোকান। আরেক জন বললো ধুর বেটা এটা কোন কথার মধ্যে পড়ে না তা হলে গ্যাসের কি হবে। দেশে তো গ্যাসের ও সংকট হয়ে যাবে। অন্যরা বললো আসলেই তো তুই তো ঠিক বলছস। এদের মধ্যথেকে আরেক জন বললো এই যে দেশে এত তেইল্লাচোরা / তেলাপোকা তারা তো মনে হয় সব তেল চুরি করে নিয়ে যায় এতে করে তেলের সংকট হচ্ছে না ? এসব তেলাপোকা নিধন করতে না পারলে তেল বাঁচানো যাবেনা।
তাদের মধ্যে ছিল একজন মহাজ্ঞানী সে এতক্ষন চুপ ছিল আর চুপ থাকতে পারলো না। গলা খেঁকিয়ে বললো তোমরা এসব কি বলছো এখানে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আরেক জন লাফদিয়ে ওঠে বলছে আমিও তো তাই বলছি। সব সমস্যা মুলে এই তরমুজ, তরমুজ! সবাই তো হা, তেলের মধ্যে তরমুজ আসলো কোত্থেকে থেকে। আরে বুঝো না সারা বিশ্ব জানে তোমরা জান না। তেল সংকটের মূল কারণ এই যুদ্ধ। এই ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে তরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিছে। তাই তেল আসতে পারছে না এ জন্য তেলের সংকট। আরেক জন বললো বেটা তরমুজ না তরমুজ না এটা হরমুজ প্রণালী হবে, হরমুজ প্রণালী। বাকি সবাই এতে সায় দিয়ে বললো তরমুজ ও চিনে না হরমুজ ও চিনেনা আসছে তেলের সমাধান করতে।
আলোচনা মোড় নিলো হরমুজ না তরমুজ। তরমুজ হলে কি অসুবিধা, তরমুজের উপকারিতা, ভালো তরমুজ কোথায় পাওয়া যায়, তরমুজের রং, তরমুজের ওজন তরমুজের জাত, তরমুজের চাষ পদ্ধতি তরমুজের স্বাদ, এখন তো তরমুজের সিজন না দামটা একটু বাড়তেই পারে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কি আছে। কয়েক দিন তরমুজ না খেলে কি হয়। সিজনে দাম কমলে খেলেই তো হয় আচ্ছা সিজনে তরমুজ কি সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। তখন তো দামটা একটু কমতে পারে তরমুজের আদিনিবাস বা কোথায় ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কত আলোচনা তরমুজ ব্যবসায়িরা খুবই খারাপ আবার ফেরাউন ও নাকি তরমুজ ব্যবসায়ি ছিল। অথচ যে তেল নিয়ে আলোচনা শুরু তা সবাই ভুলেই গেলো। কেউ একবার ও বললো না তেল ভাজিতে না কমিয়ে তেল বাজিটা কমাতে হবে।
নাসির ফরহাদ