একটা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে সব সময় ট্যাংক লাগে না, কখনো কখনো একটি আটকে থাকা ফাইলই যথেষ্ট।
ইভান:
সবাই রাজনীতিবিদদের নিয়ে কথা বলে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের আরেকটা বড় অংশ আছে, যাদের নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।
এস্তেজা:
কারণ তারা আলোয় থাকে না, অথচ সিদ্ধান্তের ছায়া অনেক দূর পর্যন্ত যায়।
ইভান:
অনেকেই বলেন, একজন মন্ত্রী পাঁচ বছর থাকেন, কিন্তু একজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বহু সরকার দেখেন। তাই প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে ব্যক্তি বদলালেও সমস্যার পুরো সমাধান হয় না।
এস্তেজা:
আবার এটাও সত্য, সব কর্মকর্তা এক রকম নন। অসংখ্য সৎ, দক্ষ ও নিবেদিত মানুষ আছেন, যাঁদের কারণেই রাষ্ট্রের অনেক কাজ এগিয়ে যায়। তাই পুরো ব্যবস্থাকে এক রঙে আঁকা ঠিক হবে না।
ইভান:
ঠিক। কিন্তু যদি কোথাও জবাবদিহির ঘাটতি থাকে, তাহলে ভালো মানুষও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেন না।
এস্তেজা:
এই জন্যই বিশ্বের অনেক দেশ প্রশাসনিক সংস্কারে গুরুত্ব দিয়েছে।
ইভান:
সবাই এখন চীনের উদাহরণ দেয়।
এস্তেজা:
চীনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ক্ষমতায় এসে শি জিনপিং বড় পরিসরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন। সেখানে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ—দুই স্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহু কর্মকর্তা শাস্তি পেয়েছেন, আবার এই অভিযানের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি একমাত্রিক নয়।
ইভান:
কিন্তু কিছু বিষয় শেখার মতো আছে।
এস্তেজা:
অবশ্যই। যেমন— রাষ্ট্রসেবার অনেক কাজ ডিজিটাল করা, অনলাইনে আবেদন ও সেবার সুযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তির লক্ষ্য, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা।
ইভান:
আমাদের দেশে যদি মানুষকে একটি সাধারণ সনদের জন্য বারবার অফিসে যেতে না হতো, তাহলে দুর্ভোগও কমত।
এস্তেজা:
প্রযুক্তি দুর্নীতির সব সমাধান নয় কিন্তু সুযোগ অনেক কমিয়ে দিতে পারে।
ইভান:
তাহলে সমাধান কী?
এস্তেজা:
আমার মনে হয় কয়েকটি বিষয় জরুরি—
— নিয়োগে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা।
— পদোন্নতিতে শুধু চাকরির মেয়াদ নয়, কাজের মানের মূল্যায়ন।
— সরকারি সেবার নির্দিষ্ট সময়সীমা।
— অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ।
— স্বাধীন ও কার্যকর দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা।
— নাগরিকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা।
ইভান:
অর্থাৎ লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, ব্যক্তিকে নয়।
এস্তেজা:
ঠিক তাই। শক্তিশালী রাষ্ট্র মানে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে সৎ কর্মকর্তা নিরাপদে কাজ করতে পারেন, আর অসৎ ব্যক্তি পদমর্যাদা দেখে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে জবাবদিহির মুখোমুখি হন।
ইভান:
আমরা প্রায়ই ভাবি, একজন নেতা এলেই সব বদলে যাবে।
এস্তেজা:
অথচ ইতিহাস বলে, টেকসই পরিবর্তন আসে তখনই, যখন নিয়ম ব্যক্তি থেকে বড় হয়ে ওঠে।
ইভান:
তাহলে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি কে?
এস্তেজা:
কোনো একক ব্যক্তি নয়। সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—আইনের শাসন, জবাবদিহি, দক্ষ প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিক।
ইভান:
অর্থাৎ রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে রাজনীতি ও প্রশাসন—দুটোকেই জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।
এস্তেজা:
কারণ ক্ষমতার আসল সৌন্দর্য শাসনে নয়, সেবায়। আর যে রাষ্ট্রে সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক হয়, সেই রাষ্ট্রই নাগরিকের আস্থা অর্জন করে।
Comments
Be this story’s first reader
+25 XPNobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.
Sign in to claimFirst reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.