তুমি এসো প্রিয়া—
খোঁপায় পরে দোলনচাঁপা,
ঠোঁট রাঙিয়ে রক্তজবায়,
পরে নীল তাঁতের শাড়ি,
লাল টিপ ললাটে,
কাজল মেখে আঁখিতে।
আমি আছি অপেক্ষায়—
উদ্যানের সদর দরজায়,
অশ্বত্থ বৃক্ষের গোড়ায়,
হাওয়াই মিঠাই যেথায়,
বসে আছি হেথায়,
তৃষ্ণায় ভরা আঁখিতে।
তুমি এসো গুটি গুটি পায়ে—
বিন্দু বিন্দু ঘাম নিয়ে নাকে,
আধফোটা গোলাপ হাতে,
মায়া মাখা দৃষ্টি নিয়ে,
মৃদু কাঁপা কাঁপা স্বরে
বলো, "ভালোবাসি"।
বহু ঝড়-ঝাপটা সয়েছি,
বহুবার ধুলোয় মিশেছি,
কতবার ভেঙে গেছি,
আবার উঠে দাঁড়িয়েছি;
এভাবে পাথর হয়ে গেছি—
তাই তোমাকেই বলতে হবে।
অশ্বত্থ বৃক্ষে নতুন পাতা,
দখিনা হাওয়া দেবে দোলা,
বুলবুলি নাচবে ডানা মেলে,
কোকিল ডাকবে কুহু সুরে;
হাওয়াই মিঠাই হাতে নিয়ে
আমরা হাঁটবো পায়ে পা মিলিয়ে।
তুমি এসো প্রিয়া—
ভোরের স্নিগ্ধ রোদের মতো,
বর্ষার প্রথম পশলা বৃষ্টির মতো,
শীতের সকালে শিশিরের মতো,
অমাবস্যায় জোনাকির মতো,
বাদলা শেষে সূর্যের মতো।
জীবন নামক নদীতে
আমি হাবুডুবু খাচ্ছি;
জীবনানন্দের মতো
ক্লান্ত এক প্রতিচ্ছবি,
দিকভ্রান্ত পথিকের মতো
অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি।
তুমি এসো প্রিয়া—
উদ্ধারকারী জাহাজের মতো,
ক্লান্ত দিনের শেষে
বনলতা সেনের মতো,
অন্ধকার রাতে
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মতো।
তুমি এসো প্রিয়া—
পাথর হৃদয়ে ফুল ফোটাতে,
ক্লান্ত হৃদয়ের শ্রান্তি দিতে;
জীবন নামক রণাঙ্গনে
ভালোবাসা নামক তোমাকে
খুব বেশি প্রয়োজন।