রোদের দিকে তাকিয়ে অসহায় চোখে
কপালের ঘাম মুছে খেতের আলে বসে
জীবনকে অভিশাপ দিতে থাকে চাষী।
আসমানে সূর্যের রাগী রাগী চেহারা দেখে
বিড়বিড় করে বিস্তর গালি দিয়ে দিয়ে
ক্লান্ত হয়ে যায়। মরার দেশে কেবল খরাই আসে,
বলে আবার গাল দেয় চাষী। মহাজনের
সুদের হিসাব কোথায় গিয়ে ঠেকবে, দিশেহারা
লাগে তার দিন রাত, খরার রাগ গিয়ে পড়ে
নিরীহ চাষীর বউ এর উপর। নিষ্পাপ
ভুলগুলোতেও গালমন্দ জোটে তার যখন
তখন। চাষী বউ গালে হাত দিয়ে কাঁদে
নিরাল দুপুরে। এ কোন কপালের দোষে
ঘরে অশান্তির কুডাক, আল্লারে ডাকে সে।
দিনে দিনে ফসলের মাঠে কেবল চিটা,
জমির বুকে মানচিত্রে নদীপথের মতো
খরার দাগ জানান দিয়ে যায়, আসছে আবার
অনাহারের কান্নার দিন। আমাদের চাষী
গঞ্জের বাজারে হেঁটে বেড়ায় দিনমান।
কোথায়, উপায় কি, কিভাবে চলবে পেট,
ঘর সংসার, মহাজনের সুদের অংকের আতংকে
বুকের ভেতর মুচড়ে আসে নিজের হৃৎপিণ্ড,
নিজের ফুসফুস, নিজের সব নাড়িভুঁড়ি।
চাষীবউ মাঝরাতে বিলাপ করে কাঁদে, ক্ষুধার
কষ্টের চেয়ে বেশী কষ্ট আর কিছুতে লাগে না।
চাষী দিনমান হাঁটে আর হাঁটে, দীর্ঘশ্বাসে
ফ্যালফ্যাল করে দেখে ফসলের মাঠ দূর হতে।
মহাজনের লোক আসে যায়, চাষী খুব ভোরে
জেগে ভাবে, পালাতে হবে জীবন থেকে।
জনপদ ছেড়ে পালিয়ে যায় আমাদের চাষী।
যাবার বেলায় ফসলের মাঠে আবার গিয়ে
জমিনকে ছুঁয়ে কান্না করে বলে, ফিরে আসব আবার।
(কবিতাটি আমার 'আজ আকাশকে বলে দেওয়া যায়' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)
Comments
First reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.
-
-
probash khobor 27 minutes ago
কৃষক জীবনকে সুন্দর ভাবে তুলে এনেছেন।
-
এখানেও মহাজনের ধারের টাকা শোধের কথা এল। বাংলার কৃষকদের চিরন্তন কষ্ট এই মহাজনের ধার শোধ। ভালো লিখেছেন।