ভাগ্যিস, চোখ খোলা থাকলেও দেখা যায়নি।
কিভাবে বুক ভেঙ্গে চৌচির হয়েছিল, সামান্য
কাগজে তিন ছত্রের লেখাতেও আকূল হয়ে
ব্যাথাতুর চোখ মুখে কেঁদেছিল অনেক দিন।
ভাগ্যিস, চোখ খোলা থাকলেও ব্যাথা দেখা যায়নি।
আশাভঙ্গের হতাশায় কৈশোরের বন্ধু একদিন
বেমালুম হাওয়া হয়ে গেল জনপদ থেকে। বুঝতেই
পারেনি কেউ, কিভাবে সে সব হারানোর কষ্ট পেল।
কষ্ট কিভাবে পায়, কেমন করে পায় বা কখন পায়;
আমাদের চোখ খোলা থাকলেও আমরা কষ্ট দেখিনি।
আমরা শুধু দিন রাতের পালাবদল দেখেছি, রাতভর
বৃষ্টি শেষে সকালের সূর্যটা কেমন ভেজা ভেজা লাগে,
সেটা দেখেছি। গোছালো কিছু মানুষ আলুথালু বেশে
কান্না করল মাঝে মাঝে, গ্রামের মেঠো পথটা আচমকা
পাকা সড়ক হয়ে গেল, পুরনো তালগাছগুলো কেউ
এসে কেটে ফেলল, সেসব দেখেছি। একা একা কেউ
কেউ কষ্ট পেয়ে বিবাগী হয়ে গেল কেন, তা আমরা
চোখ খোলা রেখেও দেখিনি। জনপদের কারো কারো
আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলো- চোখ খোলা তাও দেখিনি।
গ্রামের পাশের নদীটা কি এক অজ্ঞাত অসুখে পড়ে
দিনে দিনে মরে যাবার আগে অন্তিম শ্বাসের জন্য যখন
খাবি খাচ্ছিল, আমরা চোখ খোলা রেখেও কিছুই দেখিনি।
অথচ, যাকে আমরা চোখ বলি, শুধু সে নাকি চোখ নয়।
চোখ নাকি অনেকগুলো- দেখার চোখ, বোঝার চোখ, ভাবার
চোখ। এদিকে আমি নিরর্থক বলেই যাচ্ছি কিছু না জেনে-
আমাদের চোখ খোলা থাকলেও আমরা কিছুই দেখিনি।
(কবিতাটি আমার 'আজ আকাশকে বলে দেওয়া যায়' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)
Comments
First reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.
-
-
আমরা চোখ থাকতেও অন্ধ, তাই বহু কিছুই দেখিনা বা দেখার মতো চোখই আমাদের নাই।