Story

ভালোবাসার প্রথম অনুভূতি পর্ব ১

October 3, 2026

75 views

মেইন গেটের উপরে বড় করে লেখা আছে "Cantonment Public School And College Momenshahi"

নিঝুম হা করে বিস্ময়ের সহিত তাকিয়ে আছে মেইন গেটের দিকে। তারপর নিঝুম কলেজের ভিতরে প্রবেশ করে। আসলে আজ নিঝুমের কলেজে প্রথম দিন। নিঝুম ময়মনসিংহ বোর্ডে এসএসসি এক্সাম দিয়ে এখান থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। যদিও তার বাড়ি খুলনা তবে তার বাবার কাজের সুবাদে এখানে তাকে থাকতে হয়েছে। যাই হোক কলেজের ১ম দিন সে একটু নার্ভাস ফিল করছে। সে সাহস নিয়ে ভিতরে গেল, ভিতরে তখন নতুন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আয়োজন করা হচ্ছিল। সকাল ৯ টায় এর কার্যক্রম শুরু হবে। তাই নিঝুম ক্যান্টনমেন্টের ক্যাম্পাসটা ঘুরে দেখতে শুরু করল। ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎ করে সে একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলো।

নিঝুম : ওহ ! দুঃখিত.... আনিকা তুই !?

আনিকা বিস্ময়ের সহিত বলে, নিঝুম!

আনিকা নিঝুমকে সাথে সাথে জড়িয়ে ধরে আর বলে,

আনিকা: দোস্ত, জানিস আমার খুব ভয় লাগতেছিল খুবই নার্ভাস ফিল করছিলাম বুঝতেই পারতেছিলাম না আমি কি করবো, এখানে সবকিছু তো অপরিচিত।

আসলে আনিকা এবং নিঝুম একই স্কুলে পড়েছিল তারা একে অপরের বান্ধবী আর তাদের এখানে কাকতালীয়ভাবে দেখা হয়ে গিয়েছে।

নিঝুম : সত্যি রে আমি ও খুব ভয় পাচ্ছিলাম, বুঝতেছিলাম না যে কি করবো এখানে একা একা। খুব বোরিং লাগছিল।

আনিকা: যাইহোক দুজনের তো দেখা হয়ে গিয়েছে এবার একসাথে কলেজ লাইফটা পার করি

এরপর তারা বেশ গল্প করে সময় কাটায় যখন অনুষ্ঠান শুরু হয় তখন তারা অনুষ্ঠানটা উপভোগ করে। এরপর তারা বাড়ি চলে যায় কারন আজকে তাদের কোন ক্লাস হবে না।

নিঝুম : আনিকা, তোমার বাসা তো সামনেই। চল আমরা হাঁটতে হাঁটতে যাই আর কথা বলি।

আনিকা: ওকে চল।

তারা দুজন হাঁটছে আর কথা বলছে।

আনিকা : নিঝুম, সত্যিই আমি কখনো ভাবতেও পারিনি আমাদের আবার দেখা হবে স্কুল লাইফের পর তো সবাই সবার রাস্তা বুঝে নিয়েছে কিন্তু আমাদেরটা একই রকম থেকে গেল। কিন্তু জানিস আমার একটা সমস্যা আছে আমার বাবা তার ব্যবসার জন্য চট্টগ্রাম যাবে এবং আমার মাও সেখানে যেতে চাই। কিন্তু আমি যেতে চাই না তাই তারা আমাকে এখানে একটা হোস্টেলে রাখবে তুইও আমার সাথে চলে আয়।

নিঝুম : জানিনা কি হবে? আমি বাবাকে বলে দেখব। আমার বাবা রাজি হবে কারন সে আমাকে হোস্টেলে রাখাতে ইচ্ছুক না। রাজি হবে না তবে চেষ্টা করতে পারি।

আনিকা : যাইহোক তুই আমার নাম্বারটা রেখে দে, কোন কিছু হলেই কল করবি সাথে সাথে।

(ক্যান্টনমেন্ট থেকে আনসার বাসা অনেক কাছে শুধু নিঝুমের বাসায় একটু দূরে।)

আনিকা: ওই তো আমার বাসা দেখা যাচ্ছে তাহলে আমি আজ যাই কাল আবার দেখা হবে, গুডবাই নিঝুম।

নিঝুম :ওকে, গুড বাই।

নিঝুম শান্ত মনে হাটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরল।ঘরে ঢুকেই নিঝুম বললো, মা আমি এসে গেছি। নিচে বাবার গাড়ি দেখলাম বাবা কি বাসায় ?

নিঝুমের মা সংক্ষেপে উত্তর দিলো, হ্যাঁ।

নিঝুম অত কিছু খেয়াল না করে ফ্রেশ হয়ে তার বাবা মায়ের রুমে গেল। তার বাবা এবং মা দুজনে পাশাপাশি সোফার উপরে বসে রয়েছে। নিঝুমের বাবা বলল, নিঝুম বস তোমার সাথে কিছু কথা আছে।

নিঝুম বসলো এবং বলল, বলো কি বলবে তবে আজকের দিনটা আমার জন্য খুব ভালো ছিল, যদিও আমি খুব নার্ভাস ছিলাম তবে জানো আজ আমার আনিকার সাথে দেখা হয়েছে।

নিঝুমের বাবা বলল, শোনো নিঝুম তোমার দাদা ফোন করেছিল। তোমার দাদা ও দাদি বেশ অসুস্থ। তারা মনে করছে তারা এবার তাদের জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। তাই, তারা এই শেষ সময়ে চাই আমি যেন তাদের পাশে থাকি। তোমার মায়ের সাথে আলোচনা করেছি। তোমার মা বলেছে সে আমার সাথে তোমার দাদার বাড়ি যাবে এবং সেখানেই বাকি সময়টুকু থাকবে।

নিঝুমের মা বলল, হ্যাঁ, মামুনি আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন তোমার মতামত জানতে চাই। তুমি কি এখানে কোন হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করবে নাকি তোমার দাদার বাড়ি কোন এক কলেজে পড়াশোনা করবে?

নিঝুম বেশ চিন্তায় পড়ে যায় সে ভাবছিল সে কি করবে।

চলবে...

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login