Story

ভালোবাসার প্রথম অনুভূতি পর্ব ৩

October 8, 2026

15 views

আনিকার বাবা- মা আনিকাকে বিদায় জানাচ্ছিল আর তাকে সাবধানে থাকতে বলছিল। অন্যদিকে নিঝুমের বাবা - মা নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। শারফারাজ খান নাহিয়ান অশ্রুশিক্ত নয়নে তার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে। তারপর নিজের চোেখ মুছে নিঝুমকে বলে, ভালো থাকিস মা। নিঝুমের মা তো কথাই বলতে পারছিলো না। শুধু মেয়ের মাথায় হাত বুলাচ্ছিল। তাদের মেয়েকে তারা কখনো একা ছাড়েনি। আজ তাকে একটা হোস্টেলে রেখে যাচ্ছে।

অন্যদিকে নিঝুম মনে মনে বলছে, শুধু কি দাদা দদির অসুস্থতার জন্য তারা আমাকে এখানে রেখে যাচ্ছে। নাকি অন্য কোনো কারণ আছে। তখন নিঝুমের মা বলে, "আমার সোণামনি কখনো মনে কষ্ট রেখো না। যদি কষ্ট পেয়েও যাও তবে, চিন্তা করো না সময়ের সাথে সাথে তুমি সেগুলো ভুলে যাবে।" এই বলে মা মেয়ের কপালে চুমু খায়।

এরপর নিঝুম ও আনিকা দুজনের বাবা মায়েরা চলে যায়। তাদের দুজনের জন্য একটি বড় রুম দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তারা দুজন একে অপরের রুমমেট হিসেবে থাকবে। তারা প্রথমেই রুমে গিয়ে তাদের রুমটা সুন্দর করে গুছিয়ে নেয়। এরপর তারা এমন একটা ঘুম দেয় যেই ঘুমের মেয়াদ হচ্ছে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৯টা বেজে ৫৯ মিনিট। সবার আগে ঘুম ভাঙে নিঝুমের। নিঝুম লাফ মেরে উঠে আগে সময় দেখে এরপর আনিকাকে চিৎকার করে ডাকতে থাকে।

নিঝুম: আনিকা.. এই আনিকা উঠ। দ্রুত উঠ, তা না হলে আজকে রাতের খাবার কপালে জুটবে না। খাবারের কথা কানে যেতেই আনিকা তৎক্ষনাৎ উঠেই বলে,

আনিকা: কি, কই, কোথায় আমার রাতের খাবার?

নিঝুম: ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকা, রাত ১০ টা বেজে গেছে এখন আর খাবার পাবো না। কারণ খাবার দেওয়ার কথা রাত ৮টায়। আনিকা: কি খাবার না খেয়ে থাকতে হবে।

নিঝুম: হ্যাঁ, আজ ড্রাইফুডস খেয়ে রাত কাটাতে

হবে।

আনিকা: অ্যা... মাম্মাম আমি তোমার হাতের রান্না খাবো।

নিঝুম: আরে ন্যাকা কান্না বন্ধ কর, ১ দিনেরই তো ব্যাপার।

তারপর তারা কিছু শুকনা খাবার খেয়ে পড়তে বসে। তারা বেশি না একটু পড়াশোনা করে আবার ঘুম দেয়।

সকাল ৫টা বাজে......

নিঝুম সবার আগে ঘুম থেকে উঠে। তারপর আনিকাকে টেনে হিঁচড়ে ঘুম থেকে উঠায়।

নিঝুম: হায় আল্লাহ এ কি মেয়ে রে বাবা এতো করে ডাকছি তাও শুনছে না। এখন আমি বুঝতে পারছি আন্টির কষ্ট।

এই আনিকা উঠ, তা না হলে রাতের মতো আবার চিড়া খাইতে দিবো।

এরপর আনিকা চোখ ডলতে ডলতে ঘুম থেকে উঠে। তারপর তারা দুজনে ফ্রেশ হয়ে যায়। আর পড়তে পড়তে অপেক্ষা করতে থাকে কখন খাবার আসবে। আসলে এই হোস্টেলের নিয়মটা হচ্ছে যেসব স্টুডেন্ট ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়াশোনা করে তাদের খাবার দেওয়া হয় সকাল ৬টায়। কারণ, ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ক্লাস শুরু হয় সকাল ৭টায়।

সকাল ৬টা বাজে...

নিঝুম ও আনিকার খাবার দেওয়া হয়েছে। খাবারটা আসতে দেরি তবে দুজনের খেতে আর দেরি হয় না। আশাকরছি কারনটা না বলাই শ্রেয়। তারা দুজনে খাবার খেয়ে রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। কলেজে যাওয়ারর আগে তারা দুজনে টেইলার্সের দোকানে গিয়ে তাদের কলেজের ইউনিফর্ম বানাতে দিয়ে আসে।

এরপর আনিকা আর নিঝুম অটোতে উঠে চলে যায় কলেজে।

কলেজে যাওয়ার সাথে তাদের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠে দুজন হ্যান্ডসাম আর্মি। আসলে তারা দুজনে আর্মি বেশ পছন্দ করে। এজন্যই তারা এই কলেজে আছে।

তারা গেইটের ভেতরে ঢুকে কথা বলতে বলতে হাঁটার সময় আনিকা বলে,

আনিকা: দোস্ত কালকে থেকে আমরা সানগ্লাস পরে আসবো ওকে।

নিঝুম আর আনিকা একে অপরের দিকে তাকাতেই হি হি করে হাসতে থাকে। তখন নিঝুম বলে,

নিঝুম : দোস্ত আমরা জীবনেও শুধরাবো না

চলবে

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login