পরবর্তী অংশ.....
এরপর নিঝুম ও আনিকা দুজনে তাদের ক্লাসরুমে চলে যায়। আজ তাদের কলেজে ফার্স্ট ক্লাস তাই তারা বেশ শান্ত শিষ্ট হয়ে আছে। তাদের ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার নিয়ে কোনো কিছু বলার নেই। কারন এই প্রথম বছরটি তারা এমনভাবে কাটিয়েছে যা সাধারন মানুষের সক্ষমতার বাইরে। কারণ, তারা দুজনে শুধু রোজ কলেজে যেত, কোচিং করতো আর বাসায় এসে ধুমসে পড়াশোনা করতো। এমনকি তারা নিজেদের সাথেও ভালো করে কথা বলতো না। নিঝুম সাইন্স নিয়েছে আর আনিকা কমার্স নিয়েছে। তাদের টার্গেট একটাই ছিল তা হচ্ছে, তাদের জন্য কলেজের ফার্স্ট ইয়ার হবে না তাদের জন্য chilling ইয়ার। তারা এই বছরটা রোবটের মতো পড়াশোনা করবে। আর সেকেন্ড ইয়ারে তারা একটু chill করবে। তারা দুজনে মা বাবার সাথে কথা বলার জন্য একটা সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছে। সে সময়ে তারা তাদের মা বাবার সাথে কথা বলবে। কিন্তু এক্ষেত্রে নিঝুম ছিল আলাদা। তার বাবা মা কখনোই তাকে কল করতো না। শুধু মেসেজে রিপ্লাই দিত। নিঝুম এটা নিয়ে বেশি একটা মাথা ঘামায় না। এভাবেই কেটে যায় টানা ৬ মাস।
ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ রাত ১১টা বেজে ৪০ মিনিট...
আনিকা তার টেবিলে বসে কি জানি লিখছে। লিখতে লিখতে হঠাৎ আনিকা লেখা থামিয়ে দিয়ে লাফ মেরে উঠে আর চিৎকার করে বলে,
আনিকা: Done, i have done. ইয়াহু.. আমি পেরেছি, সব কিছু complete করতে পেরেছি আমি। নিঝুম তোর হয়নি ?
নিঝুম কোনো উত্তর দেয় না। তবে ঠিক ১ মিনিট পর নিঝুমও আনিকার মতো লাফ মেরে বলে,
নিঝুম: Done, i have completed my target.
তারা দুজনে একসাথে নাচতে থাকে। এরপর তারা নাচা বন্ধ করে একসাথে বলে, We are genius.
আসলে তারা এই ৬ মাস ধরে তাদের লক্ষ্য পূরনে সফল হয়েছে তাই তারা অনেক খুশি। এরপর তারা ঘুমাতে যায়। তবে ঘুমাতে পারে না কারণ বাইরে সবাই নিউ ইয়ার সেলিব্রেট করছে। তাদের এই ইংরেজি নিউ ইয়ারের প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই।তাই তারা স্বাভাবিক ভাবেই রাতটা পার করে।
পরদিন সকালে তারা যখন রেডি হয়ে কলেজে যায়। সবাই তাদের দেখে অনেক অবাক হয়ে যায়।এমনকি টিচাররাও অবাক। কারণ, যেই মেয়ে দুটো কলেজে কখনো হাসে না, কারোর সাথে কথা বলে না তারা আজ হাসছে, ভালো করে সবার সাথে কথাও বলছে। সবাই একেবারে টাসকি খেয়ে যায়। তবে কিছুদিন যেতেই তারা সবাই মানিয়ে নেয়। আনিকা বেশি কথা বললেও নিঝুম একটু শান্ত প্রকৃতির তবে বেশ মিশুক। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল দিন।
চলবে...