১০ই জানুয়ারি সকাল ৬ বেজে ৩৩ মিনিট।
আজ নিঝুম ও আনিকা দুজনে হেঁটে হেঁটে কলেজে যাচ্ছে আর কথা বলছে।
নিঝুম : দোস্ত, মনটা বেশ ফুরফরে লাগছে না?
আনিকা : ঠিক, কিন্তু আমার মনটা খারাপ।
নিঝুম : কিন্তু কেন?
আনিকা : আব্বু আম্মুকে অনেক মিস করছি।
নিঝুম : তাহলে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঘুরে আয়।
আনিকা : আমি চট্টগ্রাম চলে গেলে তুই একা একা থাকতে পারবি?
নিঝুম : আরে বোকা, তুই চলে গেলে আমি কি একা থাকবো না কি? আমিও কিছুদিনের জন্য ছুটি কাটাতে খুলনায় চলে যাবো।
আনিকা : ঠিক কিন্তু, কিছুদিন পর তো কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে যাবে। ভাবছিলাম এবার আমি যাবো।
নিঝুম: তাহলে শিক্ষা সফর থেকে ঘুরে আয় তারপর যাবি।
আনিকা: নিঝুম, তুই তো কখনো শিক্ষা সফরে যাস নি। এবার একটু আমার সাথে চল প্লিজ।
নিঝুম : তুই জানিস না আমার family কতটা রাগী। বিশেষ করে এসব বিষয়ে তো খুবই সেনসিটিভ। আমাকে কখনোই একা ছাড়বে না।
আনিকা : আমি আংকেল আন্টিকে বোঝাবো। প্লিজ প্লিজ প্লিজ চল আমার সাথে। অনেক মজা হবে। একটা জিনিস ভাব সেখানে তো আর্মিরাও যাবে। তুই আর আমি দুজনে কতগুলো সুদর্শন যুবক আর্মি দেখতে পাবো।
একথা শুনে নিঝুম মুখটাকে ভেচকি মেরে ব্যাগ থেকে মেবাইল বের করে আনিকাকে দিয়ে বলে,
নিঝুম: মেরি পেয়ারি দোস্ত আমাকে না বুঝিয়ে আমার বাবা আর মাকে বোঝা।
তখন আনিকা নিঝুমের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে নিঝুমের বাবাকে কল করে কিন্তু সে কল ধরে না। সেসময় নিঝুম বলে
নিঝুম : কল ধরবে না, তুই মেসেজ কর।
আনিকা : কেন ধরবে না?
নিঝুম : বাবা মা দুজনেই তাদের বিজনেসের জন্য দেশের বাইরে গিয়েছে। বড্ড ব্যস্ত তাই কল করার সময় নেই। তবে মেসেজের রিপ্লাই দিতে পারবে।
নিঝুমের কথা মতো আনিকা মেসেজের মাধ্যমে তাদের সাথে কথা বলে। কিছুক্ষণ পর আনিকা attitude এর সাথে নিঝুমকে ফোনটা দিয়ে বলে,
আনিকা: দেখ আমি কিভাবে আংকেল আন্টিকে সহজেই বুঝিয়ে ফেলেছি।
নিঝুম তাড়াতাড়ি করে ফোনটা নিয়ে মেসেজ চেক করে। ওমা একি! তারা তো সত্যি সত্যি নিঝুমকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
নিঝুম : কি করে সম্ভব !!!!!!!!!!!!!!!! এই আমায় চিমটি কাট তো।
আনিকা নিঝুমকে চিমটি কাটার বদলে একটা থাপ্পড় দেয়।
আনিকা: কি বিশ্বাস করেছেন, মেরি পেয়ারি দোস্ত।
নিঝুম : উহ্.. এত জোরে কেউ মারে। by the way, আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।
আনিকা: আরও একটা থাপ্পড় দেয়।
নিঝুম : না না, বিশ্বাস হয়েছে।
এরপর তারা কলেজের সামনে চলে আসে। দেন আর কি কলেজে গিয়ে ক্লাস করতে থাকে। তবে আজকে একটা মজার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি হচ্ছে, আজ তাদের কলেজ ভিজিট করতে একজন মেজর এসেছে। সেই মেজর আবার নিঝুম আর আনিকাদের ক্লাসেও গিয়েছিল। মেজর সাহেব তার কথা বলা শেষ করে সেখান থেকে চলে যায়।
যাওয়ার সাথে সাথেই নিঝুম আনিকাকে ধরে ঝাঁকাতে থাকে আর বলে,
নিঝুম: দোস্ত সেই ছিল। মেজরটা সেই লেভেলের ছিল।
আনিকা আর নিঝুম এর কান্ড কারখানা দেখে পুরো ক্লাস হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা। যাই হোক কোনোরকমে এই দিনটাও পার হলো। তবে হোস্টেলে ফেরার পরও নিঝুম ও আনিকা দুজনের কেউই মেজরকে ভুলতে পারছিলো না। তবে কিছুক্ষণ পর পড়াশোনা করতে করতে মেজরের কথা ভুলে যায়। কালকের জন্য তারা বেশ এক্সাইটেড। কারণ আগামীকাল তাদেরকে জানানো হবে যে, "কবে শিক্ষা সফরে যাওয়া হবে? "
চলবে...