তুমি কেমন আছ? তোমার শহরে কি
কখনো মেঘ করে? কি রকম সে মেঘগুলো?
পেঁজা পেঁজা তুলোর মত মেঘ করে সেখানে?
আমি কেন তোমায় ভুলতে পারি না?
তুমি এখনো অপেক্ষা করো কেন?
আমিই তো মুক্তি ভিখ চেয়েই চলে এসেছি।
মুক্তি! কে দেবে তোমায় মুক্তি! আমার যদি
তোমায় মুক্তি দেবার ক্ষমতা থাকতো!
আমার মুক্তিতেই তোমার মুক্তি। জবাব
দিলেনা যে, তোমার শহরে কি রং এর মেঘ হয়?
আমাদের কি কথা ছিল, মনে নাই তোমার?
তোমার ছায়া বয়ে বেড়াবো আমি জীবনভর।
সত্যিই, এ শহরে আমার কোন ছায়া পড়েনা।
আমার ছায়ায় তোমার ছায়া, সারাক্ষণ হেঁটে
বেড়ায় আমার সাথে।
এখনো আমার ছায়া নিয়ে থাকো কেন? ছায়া
নিয়ে গেছ আমার, তাহলে মুক্তির কথা বলো কেন?
আমি যেদিন তোমার আরশি হয়েছি, যেদিন
তুমি আমার স্পর্শ হয়েছ, সেদিন হতে তো
এটাই কথা ছিল। আমি তোমার ছায়া নিয়ে
এসেছি বলেই তো মুক্তির কথা বলি।
আমি কখন তোমার কাছে আসবো?
না, তুমি কক্ষনো আসবে না। তুমি এলে
আমাদের অদেখার সংসারের কি হবে?
আমি দুরে থাকলেই তুমি ভাল থাকবে?
না, তা আমি ভাল থাকি না। তবু তুমি এসো না।
কেন সয়ে যাচ্ছ এভাবে আমাকে এখনো?
কে বলে আমি সয়ে যাচ্ছি! আমি তোমায়
বয়ে বেড়াই। তোমার প্রতিবিম্ব হয়ে তোমার
আরশি ভাল আছে, স্পর্শ।
আমার আর সয় না, অপার্থিবের সাথে
পার্থিবেও তো তোমার সংগ চাই আমি।
নইলে আমি কি মুক্তি খুঁজবো? আমি তাহলে
চলে যাই, মেঘের দেশে মুক্তি নিয়ে?
তুমি আমার মেঘ হয়ো না।
তুমি আমার মেঘ হয়ো না, স্পর্শ।
বরং আমরা একসাথে মেঘ হবো, তুমি দেখো।
এই অপার্থিবেই তুমি যদি ভাল থাকো,
তুমি এভাবেই ভাল থেকো।
তোমায় না পাওয়ার দায় ঈশ্বরের।
ঈশ্বরের চেয়ে নিষ্ঠুর আর কেউ নয়।