সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী
লাউয়ের আগা খাইলাম, ডগা গো খাইলাম
লাউ দিয়ে বানাইলাম ডুগডুগি।।
গানের ভাষায় লাউ যেমনই হোক, বাস্তবে লাউ চাষ খুব একটা সহজও নয় আবার কঠিনও নয়। সহজ নয় এজন্য যে বাড়ন্ত গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করতে উর্বর মাটির দরকার। মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ যত বেশি, ফলন তত বেশি। উপরন্তু এটা হার্ব জাতীয় উদ্ভিদ তথা এর কান্ড নরম বিধায় বাড়তি যত্ন নিতে হয়। লাউয়ের ডগা উপরের দিকে ওঠা এবং বৃদ্ধির নিমিত্তে মাচা তৈরি করতে হয়। গ্রামেগঞ্জে অবশ্য টিনের চালেও কখনও কখনও বেয়ে ওঠে দুরন্ত লাউয়ের কচি পাতা। তবুও গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ঢালতে হয়। শহরে বেলকনিতে লাউ চাষ সম্ভব না। আপনার নিজেরও কষ্ট, লাউগাছেরও কষ্ট। তবে বাসার ছাদে চাষ করা যেতে পারে।
সবজি হিসেবে লাউ কিন্তু ভীষণ উপকারী। সত্যি বলতে লাউ এমন একটা সবজি যার পাতা, কান্ড, ফুল, ফল এমনকি লাউয়ের খোসাটাও অনেকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করি।
প্রথমেই বলি লাউ শাক নিয়ে। শীতকালে লাউ শাক পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
লাউ শাকের স্বাদ মিষ্টি এবং নারকেল সংকল্পবিশেষ। এটি কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর। লাউ শাকে বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফোলেট, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং আয়রন প্রচুর পরিমাণে থাকে। এই সব উপাদান শরীরের স্বাস্থ্য ও উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু অতিরিক্ত শাক খাওয়ার পর অনেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন। বাচ্চাদের খাবারে লাউ শাক পরিমিত রাখা উচিত। অনেকেরই হজমে সমস্যা হয়।
এবার আসি লাউয়ের বেলায়। কেউ কেউ লাউ রান্না করেন বড়ো মাছ দিয়ে, কেউবা গরুর গোশত। আমি একবার মুরগির গোশত আর লাউ রান্না করেছিলাম। বেশ মজাই লেগেছে। তবে সবচেয়ে মজা খুব সম্ভবত কচি লাউয়ের খোসা।
লাউয়ের খোসাও যে এতটা টেস্টি! তা হয়তো জানাই হতো না। আমার থার্ড টাইম প্রেগ্ন্যাসির সময় কাজের বুয়া আমার জন্য কচি লাউয়ের খোসা আর আলু কুচি করে ভেজে দিয়েছিল। আমি আবার এই ভাজিটা করার সময় ২-৩ টা লবঙ্গ ব্যবহার করি। তাতে মিষ্টি স্বাদের পরিবর্তে কিছুটা ঝাঁঝালো ফ্লেভারের হয়। কেউ কেউ শুটকি মাছ ব্যবহার করেন। আবার কেউবা চিংড়ি। কেউ কেউ ভর্তাও বানিয়ে উপভোগ করেন।
পোকামাকড় সংক্রমণ:
রেড পামকিন বিটল
জাব পোকা
মাছি ইত্যাদির সংক্রমণ ঘটে।
প্রতিকার :
রেড পামকিন বিটল/ লাল বিটল পোকা দমনে সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক (যেমন ওস্তাদ ২০ মিলিলিটার অথবা ম্যাজিক অথবা কট ১০ মিলিলিটার) প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০-১২ দিন পরপর ২/৩ বার।
রোগবালাই:
মোজাইক রোগ
পাতা পোড়া
কান্ড পচা
ফল পচা রোগ হতে পারে।
ফল পচা রোগ সাধারণত মাছি পোকার মাধ্যমে ঘটে। সেক্ষেত্রে উত্তম সমাধান হলো ফেরোমন ট্রাপ ব্যবহার করা। বাজারে খুব সহজলভ্য হওয়ায় খুব বেশি দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
আবারও ফিরে আসি লাউয়ের তরকারিতে। কচি লাউয়ের তরকারি অনেকেরই প্রিয় খাবার। যাদের ওজন বেশি তারাও কিন্তু খাদ্যতালিকায় সবজি হিসেবে লাউ রাখতে পারেন। তবে একটা ব্যাপার আমার মাথায় ঘুরপাক খায় মাঝে মাঝেই। একটা জিনিস খেয়াল করেছেন? পুরোনো বাংলা সিনেমায় নায়িকা /নায়কের মায়েরা কখনও আলু,বেগুন কাটে না। বটি দিয়ে লাউ-ই কাটে। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। তাই না?
আজ এ পর্যন্তই। আবারও হাজির হব নতুন কোনো ফল/ ফুল নিয়ে।
শুভ রাত্রি।