আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আজকের পর্বে আলোচনা করব এমন একটা গাছ নিয়ে যার পাতা, বাকল, শেকড় সবকিছুর গুণাগুণ রয়েছে। কৃষিতে এই গাছ ঔষধি গাছ নামে পরিচিত। আন্দাজ করতে পারছেন নিশ্চয়ই কোন গাছের কথা বলছি।
নিম গাছের গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবে না। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ নিমগাছের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, যদি বসতবাড়ির আশেপাশে অন্তত একটি নিমগাছ থাকে তবে সেই বাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে দূরে থাকে।
বর্তমানে নিম ব্যবহার করে হারবাল সাবান তৈরি করা হচ্ছে। অনেকেই চর্মরোগের প্রধান এবং একমাত্র প্রতিষেধক হিসেবে নিমই বোঝেন। নিমের পাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর যে দ্রবণ তৈরি হয় তা খোসপাঁচড়া নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেউ কেউ পানিতে সিদ্ধ করেও গোসলের সময় সেই পানি ব্যবহার করেন। নিমপাতা বেটে মুখে ব্যবহার করলে ব্রণের প্রকোপ কমে যায়।
নিয়মিত এই পাতা খেলে এটি পেটের হজম ক্ষমতার উন্নতি করে
ক্লান্তি দূর করে,
কাশি কমাতে পারে,
ক্ষত তাড়াতাড়ি নিরাময় করতে সাহায্য করে,
ইউটিআই বা মূত্রনালীর সংক্রমণ কমায়,
কৃমির সমস্যা দূর করে
বমি বমি ভাব কিংবা বমির উপশম করে প্রদাহ কমাতেও নিমপাতা দারুণ কাজে আসে। শুধু তাই নয়, নিমপাতা খাওয়ার অভ্যাসে ত্বক পুনরুজ্জীবিত হয়।
নিম পাতায় রয়েছে অনেক ধরনের ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
নিম চাষের পদ্ধতি :
নিমের বীজ থেকে যে চারাগাছ হয় তা জমিতে রোপণ করতে হয়। সাধারণত উঁচু জমি নিম চাষের উপযোগী। বর্ষাকাল নিমগাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। তবে নিমের গোড়ায় পানি জমলে অর্থাৎ জলাবদ্ধ অবস্থায় নিমগাছের গোড়া পঁচে মরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এবার আসি নিম গাছের রোগ এবং কীটপতঙ্গের বিষয়ে। মজার ব্যাপার হলো নিম তেল, নিমের নির্যাস এসব ব্যবহারই হয় পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য। নিম কাঠ খুবই শক্ত ও মজবুত বিধার কখনও ঘুন ধরে না। আই মিন উইপোকা জাতীয় কোনো পতঙ্গ নিমের ক্ষতি করতে পারে না। খুব ইন্টারেস্টিং তাই না?
আর হ্যাঁ, দাঁতের ব্রাশ হিসেবে নিমের চিকন ডাল ভীষণ উপকারী। যদিও সামান্য তিতা স্বাদের হয়। অবশ্য উপকারী বেশিরভাগ জিনিস তিতাই লাগে কী বলেন?
এ পর্যায়ে আরেকটা কথা না বলে পারছি না। সম্প্রতি আশরাফুল ইসলাম ভাইয়া তার তৈরিকৃত প্রচ্ছদের বিনিময়ে দুটো করে নিমের চারা লাগানোর শর্ত দিয়েছেন। এটাকেই তার কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করেছেন। কী মহৎ চিন্তা! যারা শহর এলাকায় থাকেন অর্থাৎ গাছ লাগানোর জায়গা সংকটে ভুগছেন তাদের জন্য শর্ত হচ্ছে দুটো নিমের চারা কিনে যে কোনো মসজিদ, স্কুল কিংবা রাস্তার ধারেও লাগানো যাবে। আমি নিজেও আমার প্রকাশিতব্য উপন্যাস "প্রজাপতি এ মন" এর জন্য ভাইয়ার কাছ থেকে প্রচ্ছদ নিয়ে রেখেছি। পান্ডুলিপি গোছানো হলেই হয়তো প্রচ্ছদ প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ।
আজ এ পর্যন্তই......
শুভ সন্ধ্যা 🌼
©কাফাসো