Article

কাফাসো'র কৃষিভাবনা (পর্ব-৩)

October 10, 2026

6 views

যে কোনো তরকারি রান্নায় কাঁচামরিচের ব্যবহার অপরিহার্য। কেউ কেউ অবশ্য লাল মরিচের গুঁড়ো ব্যবহার করেন। তবে উপকারী বিবেচনায় দুইটার মধ্যে কাঁচা মরিচ ব্যবহার করা উত্তম। গুঁড়ো মরিচ দিয়ে রান্না করা তরকারি অনেকেই সহ্য করতে পারেন না। যাই হোক, মরিচ ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য সঠিক পরিমাণ ঝাল নিশ্চিত করা। আজ আলোচনা করব মরিচের চাষাবাদ, যত্ন, রোগবালাই, রোগ দমন পদ্ধতি এবং উপকারী- অপকারী দিকগুলো নিয়ে।

মরিচ গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় বাসার ছাদে / বেলকনিতে টবে চাষ করতে পারেন। আজ মরিচ চাষের খুঁটিনাটি সহ মরিচের উপকারী / অপকারী দিক নিয়ে আলোচনা করব। দেশের কৃষিতে মরিচের অবদান নিয়ে। বগুড়ার ঝাল মরিচের সুনাম সারা দেশব্যাপী হলেও বরিশাল, নোয়াখালী, জামালপুর, মেহেরপুর এবং ফরিদপুরেও মরিচের ফলন বেশ ভালো।

তবে বগুড়ার বিখ্যাত লাল ঝাল মরিচ এখন স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। কেবল শীতকালীন রবি মৌসুমেই এ জেলায় উৎপাদন হচ্ছে ৮০০ কোটি টাকার শুকনো লাল মরিচ। দামের দিক দিয়ে শুকনো মরিচের দাম মণ প্রতি ৪ থেকে ৬ হাজার টাকায় ওঠে। মূলত রবি মৌসুমেই শুকনো মরিচ উৎপাদন হয় বলে বন্যার ক্ষতি থেকে রেহাই পায় মরিচ চাষিরা।

বিভিন্ন জাতের মরিচ আছে। তার মধ্যে বিনা-২ তূলনামূলক উচ্চ ফলনশীল। তবে বর্ষাকালে মরিচের দাম সবচেয়ে বেশি থাকে যদিও ঝাল কম থাকে। ঝাল মরিচের মধ্যে বগুড়া, চাঁদপুরী, ফরিদপুরী উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কামরাঙ্গা, আকালী, কালো মরিচ খুব ঝাল হয়।

চাষাবাদ :

বড় পরিসরে চাষাবাদ প্রক্রিয়া বিশদভাবে আলোচনা করার চেয়ে স্বপ্ল পরিসরে কিভাবে নিজের বাসায় মরিচের যোগান দেয়া যায় সেটা বলি। সাধারণত দোআঁশ মাটিতে ফলন ভালো হয়। জৈব সারের বিকল্প নেই তবে মূল পুষ্টি উপাদান যেমন নাইট্রোজেন, মিউরেট অব পটাশ, ফসফরাসের পরিমাণ নিশ্চিত করা জরুরী।

রোগবালাই :

মরিচের কান্ডপঁচা রোগ

ঢলে পড়া রোগ

লিফ কার্ল রোগ

মোজাইক

ব্লাইট এবং ক্যাংকার প্রধান রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রতিকার :

সাধারণত কান্ডপঁচা রোগে নিম্নলিখিত প্রতিকার পদ্ধতি রয়েছে।

*আক্রান্ত পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করা

*সুস্থ গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা

*সুষম সার ব্যবহার করা

*প্রোভেক্স বা হোমাই বা বেনলেট ১% দ্বারা বীজ শোধন করা

* প্রতি লিটার পানিতে কার্বেন্ডিজম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: ব্যাভিস্টিন বা নোইন ১গ্রাম/ লিটার হারে মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর ২ বার স্প্রে করা।

মূলত বড় পরিসরে চাষের ক্ষেত্রে এসব প্রয়োজন। অল্প জায়গায় মরিচের রোগ দমনের ক্ষেত্রে প্রথমটাই কার্যকরী। অর্থাৎ আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করা।

সবগুলো রোগ নিয়ে আলোচনা করা সময় সাপেক্ষ। তাই আপাতত এখানেই ক্ষান্ত দিলাম।

পোকামাকড়:

থ্রিপস

জাবপোকা,

মাকড়সাসহ বেশ কয়েকটা পোকার সংক্রমণ ঘটতে পারে।

সাবান পানির স্প্রে খুব সহজ একটা সমাধান। অনেকেই ছাই অথবা তামার গুঁড়ো ব্যবহার করেন।

পুষ্টি উপাদান:

ভিটামিন এ বি সি এর যোগান দেয় মরিচ।

উপকারিতা:

উপকারিতার কথা বলতে গেলে প্রধান যেসব পয়েন্ট মাথায় আসে তা হলো.....

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ( বিশেষ করে মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সার )

হার্ট ভালো রাখে

মেদ কমায়

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ( যেহেতু ভিটামিন সি থাকে প্রচুর )

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

অপকারী দিক যৎসামান্য। তবুও উল্লেখযোগ্য হলো

কাঁচা মরিচে থাকা ক্যাপসিনিন অন্ত্রে ব্যাথা সৃষ্টি করতে পারে।

কাঁচা মরিচ খেলে পাকস্থলীতে ফলিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।

ঘুমের অভাব কিংবা এসিডিটির সমস্যা হতে পারে।

সবশেষে একটা ঘটনা বলি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একটা কথা প্রায়ই শুনতাম।

"বগুড়ার মেয়েদের ঝাল বেশি।" এই ঝাল বলতে কি রাগ বোঝানো হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। যদিও আমি শান্তশিষ্ট স্বভাবের। আরেকটা কাহিনী বলে আজকের লেখা শেষ করব।

ক্রপ বোটানির প্রাক্টিক্যাল পরীক্ষায় একবার শ্রদ্ধেয় একজন স্যার জিজ্ঞেস করলেন, বলো তো ঝালের ইংরেজি কী?

প্রথমে জবাব দিলাম, "স্পাইসি"

"উঁহু, হয়নি। তোমার বাসা তো বগুড়া। বলা হয়ে থাকে, বগুড়ার মেয়েদের ঝাল বেশি। এই ঝালের ইংরেজি কী হবে?"

সেদিনই উত্তর পেয়েছিলাম।

এখন আপনারাই বলেন দেখি, ঝালের ইংরেজি কী?

মজার ব্যাপার হলো আমার মাস্টার্সের থিসিসের শিরোনাম ছিল-

"Biological management of chilli seeds of Bogura District."

আজ এ পর্যন্তই। শুভ রাত্রি।।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login