এখনকার মানুষ নিজেদের জটিল অনুভূতিগুলো প্রকাশে খুব একটা দক্ষ না। সমস্যা কিন্তু জটিল অনুভূতির কারণে হয় না। সহজ অনুভূতিগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করলে তা জটিল রূপ ধারণ করে। তাই কেউ যদি যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের খরচ থেকে বাঁচতে চায় তাহলে তাকে সম্পর্কের শুরু থেকে সচেতন থাকতে হবে।
কুশল ছেলেবেলা থেকে অন্যদের তুলনায় এ বিষয়ে দক্ষ ছিল। কেন-তা সে বলতে পারে না। তার বড় হওয়া যে অন্যদের থেকে খুব আলাদা তা নয়। বরং খানিকটা ঘাটতি আছে। খুব ছোটবেলায় মা মারা যাওয়ায় সে দাদির কাছে মানুষ হয়।
দীর্ঘদিন গ্রামে থাকা হয়েছে। গ্রাম শহরের তুলনায় খানিকটা নিরিবিলি। এছাড়া আর সবকিছু কমবেশি একই রকম। সে এ সময়ের সবচেয়ে বেশি আয় হয় এমন পেশাগুলোর একটি নিয়ে কাজ করে।
তার কাজ মানুষের যোগাযোগ ঠিক রাখা।
যোগাযোগের অভাবে যে সমস্যা গুলো হয় প্রথমত, তা ঘটতে না দেয়া।
দ্বিতীয়ত, ঘটে গেলে তা সমাধানের চেষ্টা করা।
আয় হয় মূলত তিনটি মাধ্যম থেকে।
এক. ব্যক্তিগত যোগাযোগ
দুই. দলীয় যোগাযোগ
তিন. কর্মশালা, সেমিনার। সেখানে সে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে।
আজকে তার জন্য কয়েকটি কঠিন কাজ অপেক্ষা করছে। প্রথমে সে শহরের একটু বাইরের দিকে যাবে। শহরতলি বলা যেতে পারে। একঘণ্টার পথ।
সেখানে একজন বৃদ্ধা মা তার ছেলের জন্য অপেক্ষা করে আছেন। আগামীকাল ভদ্রমহিলার জটিল একটি অপারেশন আছে। তাঁকে ওটিতে ঢোকানোর আগে ছেলের মনের ভাব জানাতে হবে। যদিও আসলে ওনার ছেলের মনের কোনো ভাব নেই। ভদ্রলোক কুশলকে হায়ার করেছেন যাতে সে নিজের মতো করে সব কিছু ম্যানেজ করতে পারে।
এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় তাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। বিশেষ করে যাদের পুরানো দিনের মানসিকতা আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। সন্তান-সন্ততি বিশেষজ্ঞ ভাড়া করেছেন এটা তাঁরা পছন্দ করেন না।
কাছাকাছি আরেকটা গ্রামে যেতে হবে একজন রাগী বাবার সঙ্গে তার সন্তানের দীর্ঘ দিনের বোঝাপড়ার ঘাটতি মিটমাট করতে। সেটা একদিনের কাজ না। অনেকদিন ধরেই সে করছে।
কুশলের সবচেয়ে বিরক্ত লাগে স্বামী-স্ত্রীর কাজ নিতে। খুব বাধ্য না হলে নিতে চায় না। সে নিজে অবিবাহিত। বিয়ে করার খুব একটা ইচ্ছাও নেই।
এই পেশা সহসা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। যন্ত্রের কারণে, কাজের কারণে মানুষ যত বেশি যোগাযোগহীন হয়ে পড়বে, এর চাহিদা ততটাই বাড়বে। মানবিক যোগাযোগের জন্য মানুষ যন্ত্রের উপর নির্ভর করতে পছন্দ করে না।
ভয়ের বিষয় হচ্ছে, এমন সময় আসতে পারে যখন মানুষ আর যোগাযোগের প্রয়োজন বোধ করবে না। একা থাকতে পছন্দ করবে। মাত্র ত্রিশ বছর আগেও পৃথিবীতে গ্রামের অনেক মানুষ একসঙ্গে শীতের রাতে চুলার পাশে বসে আগুন পোহাতো। ভাবা যায়? অথবা, বয়স্করা শহরে সবাই মিলে আড্ডা দিত। এমনকি তরুণরাও। সেইসব দিন না জানি কেমন ছিল!