বৃষ্টি ঝরছে পড়ে বুকের ভেতরে, পাতাগুলো ভিজে যায়,
তুমি কি এসেছ? নাকি কোনো ভুল হাওয়া ডেকে গেল?
যে মেয়েটি রোজ বাসে ওঠে নীল শাড়ি গায়ে দিয়ে,
তার আঙুলে কি বিষাদ জমেছে শতাব্দীর সমান?
আমি জানি, এই শহরের সব চোরকাঁটা জানে।
কার রক্তের বদলে কেনা হয় আলো, কার প্রেমে হাহাকার।
এই মেয়ে, তোর জন্য মেঘে মেঘে জমে লাল আগুনের আঁচ,
তোর উঠোনে কি এখনও ফুটবে সেই আশ্চর্য জবা?
আমরা তো কেউ দেবদূত নই, ধুলো লেগে আছে গায়ে,
অপরাধ আর অনুতাপ নিয়ে হেঁটে চলি মাঝরাতে।
কেউ কোনোদিন ক্ষমা চাইনি, কেউ কোনোদিন ক্ষমা করেনি,
তবু বুকের যে গভীর ক্ষত, তাতে ফুটে থাকে গোলাপ।
কাঁচ ভেঙে গেলে শব্দ হয়, মন ভাঙলে নিঃশব্দ ছাই,
বাতাস হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় মধ্যরাতের স্টেশনে।
যে নামটি আমি কোনোদিন আর উচ্চারণ করব না মুখে,
তাই আজ লিখে রেখে যাই ঘোলা কাঁচের এই জানলায়।
আয় বৃষ্টি, আয় বিষাদ, আমার সমস্ত আঁধার চুয়ে,
যে মানুষ একা, তাকে আরও কিছুটা একা করে দে।