Article

কথার ভেতর কথা ২৬

October 7, 2026

27 views

এস্তেজা:
আজ হঠাৎ করে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্পটা মনে পড়ছে, ইভান।

ইভান:
অদ্ভুত… আমারও সারাদিন ধরে ওই গল্পটাই মাথার ভেতর ঘুরছে।
শৈশবে গল্প ছিল, আর এখন মনে হয়—এটা যেন আমাদের সময়ের লাইভ রিপোর্ট।

এস্তেজা:
তখন ইঁদুর ছিল সমস্যা।
এখন ইঁদুর নেই… কিন্তু আছে কথাওয়ালা।

ইভান:
আর বাঁশির জায়গায় আছে—
মাইক, ক্যামেরা, ইউটিউব থাম্বনেইল, ফেসবুক লাইভ, রিলসের কাটছাঁট সুর।

এস্তেজা:
হ্যাঁ। ওদের সুরে ইঁদুর নয়—
হাঁটছে আমাদের ছেলেমেয়েরা।

ইভান:
সবচেয়ে ভয়ংকর জানো কী?
হ্যামিলনের গল্পে অন্তত বাঁশিওয়ালাকে আলাদা করে চেনা যেত। রঙিন জামা, অদ্ভুত মানুষ।

এস্তেজা:
আর এখন? এখন তারা আমাদের মতই দেখতে। ভাষাও আমাদের। কথাও আমাদের কষ্টের মতো করে সাজানো।

ইভান:
ঠিক তাই। তারা শোনায়—
“তোমার ব্যর্থতার কারণ ওরা।”
“এই দেশটা শেষ।”
“সব শিক্ষা ভুয়া।”
“সব বিজ্ঞান ধোঁকা।”
আর আমাদের ছেলেমেয়েরা— প্রশ্ন করতে শেখেনি, তাই বিশ্বাস করতে শেখে খুব সহজে।

এস্তেজা:
কারণ আমরা এমন একটা শিক্ষা দিয়েছি- যেখানে মুখস্থ আছে কিন্তু যুক্তি নেই।
ডিগ্রি আছে কিন্তু বিচারবোধ নেই।

ইভান:
আমরা বিজ্ঞান পড়িয়েছি— কিন্তু বৈজ্ঞানিক মন তৈরি করিনি।

  • ইতিহাস পড়িয়েছি— কিন্তু ইতিহাস থেকে শেখার ক্ষমতা দিইনি।

  • নৈতিকতা পড়িয়েছি— কিন্তু নৈতিক সাহস শেখাইনি।

    এস্তেজা:
    ফলে কী হচ্ছে জানো? যে জোরে কথা বলে— সে-ই সত্য হয়ে যাচ্ছে।
    যে আত্মবিশ্বাসের অভিনয় ভালো পারে—সে-ই নেতা হয়ে যাচ্ছে।

    ইভান:
    হ্যামিলনের মেয়র যেমন বুঝতে পারেনি পুরস্কার না দেওয়ার মূল্য কী—
    আমরাও বুঝিনি- চিন্তা না শেখানোর মূল্য কত ভয়ংকর।

    এস্তেজা:
    আজকের বাঁশিওয়ালারা কিন্তু ইঁদুর মারছে না, ইভান। ওরা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাচ্ছে। চুপচাপ। মোহের সুরে।

    ইভান:
    আর সবচেয়ে ভয়ংকর অংশটা হলো—এইবার পাহাড়ের গুহা চোখে দেখা যায় না।
    এই গুহার নাম— অন্ধ বিশ্বাস। চরমপন্থা।বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব।

    এস্তেজা:
    ওরা বুঝতেই পারছে না— পানিতে নামছে, শ্বাস আটকে আসছে, তবু সুর থামছে না।

    ইভান:
    কারণ কেউ তাদের বলেনি— “থামো। প্রশ্ন করো।”

    এস্তেজা:
    আমরা কি দেরি করে ফেলেছি, ইভান?

    ইভান:
    হয়তো অনেকটাই। কিন্তু পুরোটা না। যতদিন একজন তরুণ প্রশ্ন করে— “কেন?”
    ততদিন সব গুহার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

    এস্তেজা:
    তাহলে আমাদের কাজটা কী?

    ইভান:
    বাঁশি বাজানো না। চিৎকারও না।
    শান্তভাবে— যুক্তি শেখানো। মানুষ হওয়া শেখানো। ভুল মানে শত্রু নয়—এই সাহসটা শেখানো।

    এস্তেজা:
    কঠিন কাজ।

    ইভান:
    সবচেয়ে কঠিন। কিন্তু একমাত্র কাজ।

    এস্তেজা:
    জানো, মাঝে মাঝে মনে হয়— আমরাও যদি চুপ করে থাকি, তাহলে ইতিহাস আমাদেরও ক্ষমা করবে না।

    ইভান:
    হ্যাঁ। কারণ এই গল্পে সবচেয়ে ভয়ংকর চরিত্র শুধু বাঁশিওয়ালা না— যারা বুঝেও নীরব থাকে, তারাও।

    এস্তেজা:
    তাহলে কথা বলা যাক।

    ইভান:
    হ্যাঁ। নরমভাবে। কিন্তু সত্য করে।

    এস্তেজা:
    কারণ এইবার হারিয়ে গেলে শুধু শিশুরা না— একটা প্রজন্ম হারাবে।

    ইভান:
    আর প্রজন্ম হারালে, দেশ ফিরে আসে না।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login