এস্তেজা:
জানো ইভান… একটা বয়সের পর আর গায়ের রঙ, উচ্চতা, বাহ্যিক গঠন— এসব দেখে প্রেম হয় না।
ইভান:
হুঁ। তখন মানুষ শুধু একটা জিনিস খোঁজে— একটা শান্ত মন।
এস্তেজা:
আর এমন কাউকে… যার সাথে প্রেমের আগে এক আকাশ সমান বন্ধুত্ব পাওয়া যায়।
ইভান:
কারণ প্রেম তো হঠাৎ আসতে পারে কিন্তু বন্ধুত্ব লাগে সময়। বোঝাপড়া লাগে। একসাথে নীরব থাকার ক্ষমতা লাগে।
এস্তেজা:
ঠিক তাই। এমন কেউ— যে আমাকে খুব চেষ্টা করে বুঝবে না, স্বাভাবিকভাবেই বুঝে ফেলবে।
ইভান:
আর পড়তে জানবে। তুমি কিছু না বললেও— তোমার চোখ, তোমার চুপ করে থাকা, সব পড়ে ফেলবে।
এস্তেজা:
আর যার সামনে… দু’চোখে কাজল লেপ্টে যাওয়া, আলুথালু মুখ নিয়েও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যাবে।
ইভান:
কারণ সে জানবে— এই আলুথালু অবস্থাটাই সবচেয়ে সত্যি তুমি।
এস্তেজা:
তার সামনে সহজ হওয়া যাবে। সাবলীল।কোনো অভিনয় ছাড়াই।
ইভান:
আর কোনো কারণ ছাড়াই চুপচাপ বসে অঝোরে কাঁদা যাবে।
এস্তেজা:
হ্যাঁ। কিছু বোঝানোর দরকার হবে না।
সে নিজেই বুঝে নেবে— এই কান্নার মানে প্রশ্ন নয়, শুধু একটু থাকা।
ইভান:
তখন ভালোবাসা আর আলাদা করে প্রমাণ করতে হয় না। থাকাটাই প্রমাণ হয়ে যায়।
এস্তেজা:
ইভান… তুমি কি মনে করো— এমন মানুষ পাওয়া খুব কঠিন?
ইভান:
কঠিন না। দুর্লভ। কারণ সবাই প্রেম চায় কিন্তু সবাই মানুষ হতে শেখে না।
এস্তেজা:
তাহলে যারা এমন মানুষ পায়…
ইভান:
তারা ভাগ্যবান। আর যারা বুঝতে পারে— তারা আরও বেশি ভাগ্যবান।
এস্তেজা:
জানো… এমন কাউকে পেলে আর বেশি কিছু চাইতে ইচ্ছে করে না।
ইভান:
কারণ তখন মানুষ বুঝে যায়— সে যেটা খুঁজছিল, সে আসলে কাউকে না… একটা আশ্রয় খুঁজছিল।
এস্তেজা:
ইভান…
ইভান:
হুঁ?
এস্তেজা:
কিছু মানুষ আছে— যাদের সামনে এসব কথা বলা যায়।
ইভান:
জানি। আর কিছু মানুষ আছে— যাদের সামনে এসব বলা লাগে না।
এস্তেজা:
এই নীরবতাটা… অদ্ভুতভাবে শান্ত।
ইভান:
কারণ এটা পরিচিত নীরবতা। বহুদিনের।
এস্তেজা:
হয়তো এজন্যই… এই বয়সে মানুষ আর প্রেম খোঁজে না।
ইভান:
হয়তো। সে শুধু এমন একজন মানুষ খোঁজে— যার সামনে সে পুরো মানুষ হয়ে থাকতে পারে।
Comments
Be this story’s first reader
+40 XPNobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.
Sign in to claimFirst reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.