আমি জানি, আমাদের দিনগুলো আর ফিরবে না।
তবু মনের ভেতর মাঝে মাঝে অচেনা এক আশার বাতি জ্বলে
উঠে আমায় জানান দেয়, আমি আসছি অচিরেই।
পুরোনো শহরের ধূলিমলিন গলিগুলোর মতো
আমাদের জমে থাকা স্মৃতিদের কপালে এখন চড়া রোদ,
তবু নিভে যাওয়া চিমনির ভেতর জমা হয় অদৃশ্য ওম।
আমি ভেঙে যাওয়া জলোচ্ছ্বাসের শেষ তরঙ্গটিকে ধরে রাখি,
যেন শুকনো বালিয়াড়িতে আবার ফুটবে নীল জলপদ্ম।
আমাদের বিচ্ছেদ তো এক দীর্ঘ পথ হাঁটার ক্লান্তি মাত্র,
শেষেই হয়ত অপেক্ষা করছে শান্ত কোনো পান্থশালা।
হেমন্তের ঝরা পাতাদের শোকসভা পার হয়ে গেলে,
বসন্তের প্রথম মুকুল যেভাবে বাতাসকে বিশ্বাস করে,
আমিও ঠিক সেভাবে আগামীর নিঃশ্বাসে খুঁজি তোমার সুবাস।
তুমি হয়তো ভাবছো নদীটি শুকিয়ে পাথর হয়ে গেছে,
কিন্তু মাটির গভীরে তৈরি হচ্ছে এক গোপন ফলগুধারা—
যা অচিরেই ধুয়ে দেবে আমাদের সমস্ত অভিমানের দূরত্ব।
তুমি হয়তো দরজা বন্ধ করে বসে আছো অন্য এক আঁধারে,
কিন্তু আমি জানি, রাত্রির শেষ প্রহরেই থাকে ভোরের ঠিকানা।
আমি কোনো হারানো নাবিক নই যে সলিলসমাধিতে তলিয়ে যাব,
আমি সেই ধ্রুবতারা, যে কেবল মেঘ কেটে ওঠার অপেক্ষায় থাকে।
তোমার জানালায় যেদিন আলো হয়ে আসব,
তুমি দেখবে, ভালোবাসার কোনো মৃত্যু হয় না,
তা কেবল নতুন ছদ্মবেশে ফিরে আসে বারবার।