Poetry

নোনাজলের ঋণশোধ

October 10, 2026

7 views

আশ্চর্য এই দিন, অথবা অন্যদিন,

কিংবা কোনো একদিন,

সব সাগর মহাসাগর একদিন জিজ্ঞেস করে বসবে,

নোনতা কেন তোমার অশ্রুপাত?

তোমাদের চোখে আমাদের জল!

সাগর জানে না, সাগরের বিশালত্ব ছাড়িয়ে

মানুষের মন, সে মনের ভেতর এক অবাক সাগর।

অশ্রু তো নোনা হবেই, সেটাই তো সত্য।

দুঃখ হাসির দোলাচলে সেখানে নিত্য জোয়ার-ভাটা।

মানুষ আর সাগর, দুয়ের ভেতর একই স্মৃতি-কান্নার কোষ্ঠীকাটা.

উপকূলে দেখেছি, সন্ধ্যাবেলায়,

ঢেউ এসে প্রশ্ন করে একা পাথরের পায়ে,

সেই ছোঁয়ায় থাকে এক নিঃশব্দ প্রশ্ন,

বহুকাল পরেও কি তুমি এখানে থাকবেতো?

আমাকে তখনো মনে রাখবে তো?

গোধূলির রঙ ডুবে যায় মাছধরা নৌকার আড়ালে,

পেছনে তখনো নিরন্তর ঢেউ এর কান্নাভেজা ফিসফাস!

সেটিও নোনা স্বাদের দীর্ঘশ্বাস!

সাগরও কান্না করে!

ঝরা পাতা,

হাওয়ায় ভেসে উঠে, আবার মাটিতে পড়ে!

সেও কি কান্নাহীন?

তারও তো আছে বিসর্জন, অবসান, আর না-বলা ঝরে যাওয়া।

দেয়ালের গায়ের নোনা দাগ,

তা কি কেবল বৃষ্টির?

সেখানে শত শত গৃহবন্দী আর্তনাদের ছাপ,

একটা ঘরে কান্নার মানুষকে শুধু তার দেয়াল চেনে।

নোনা জল শুধু চোখের নয়।

মাটির গভীরে, পাখির ঠোঁটে, কিশোরীর চুলে,

সবখানেই সব নোনা জল জমে,

কারণ তীব্র অনুভবের স্বাদটাই নোনা।

গাছের ফুল, খোলা জানালা,

একটা ফেলে রাখা মিঠে গন্ধের পত্রিকা,

কিংবা মাটিতে পড়ে থাকা খোঁপার কাঁটা,

সবই জানে, কীভাবে হারিয়ে যাওয়ার স্বাদ নোনতা হয়!

কাঁদতে হলে কাঁদো, কান্না করো সমস্ত ভূমির হয়ে,

কারণ পৃথিবীর সকল কান্না কেবল মানুষের!

মানুষের কান্নায় পৃথিবীর সকলের, সব কিছুর, সব নোনা জলের ঋণশোধ হয়।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+20 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login