গভীর রাতে,
ডাস্টবিনগুলোতে বসে সংসদ অধিবেশন।
বিষাক্ত বাসী গন্ধে ভাঁজ করা রুটির গায়ে
এক ফোঁটাও রক্ত নেই,
তবু কাড়াকাড়ি চলে।
এক টুকরো আলুর দম নিয়ে কাড়াকাড়ি,
তখন খুন হয়েও যেতে পারে বেনামি বুভুক্ষু মানুষ।
কোথাও বাজছে ডিজে,
দেশ এগোচ্ছে, দেশ এগোচ্ছে!
আর এখানেই, এখন;
একজন মানুষ খাচ্ছে কুকুরের সাথে পাল্লা দিয়ে
একটা হাড়, যেখানে মাংসের অস্তিত্ব ইতিহাস।
উন্নয়ন নামের ঢাক বেজে ওঠে বড় স্ক্রিনে,
আর পেটের ভেতর?
সেখানে ক্ষুধার রক মিউজিক।
একজন মা চাঁদা চায়, ভিক্ষে নয়,
শুধু বাচ্চার জন্য আধা গ্লাস দুধ চাঁদা চাচ্ছে।
চাল দাও ভাই!
চিৎকার করে ওঠে বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা,
তার শরীরে এখন আর কোন পোস্টার নাই।
তবে তার চোখে একটা তালিকায় দেখি,
প্রতিশ্রুতি দেয়া নেতাদের শুয়োররূপী মুখশ্রী।
মাঠে উৎসব,
বাজারে আতশবাজি,
প্লেটে গরুর কালিয়া।
একশত গজ দূরে শুয়ে আছে ছেঁড়া কম্বলের নিচে
একটা মৃত শিশু।
যার জন্মদিন ছিল গতকাল।
বুক ফুলিয়ে মন্ত্রী বলে,
খিদের কোনো ধর্ম নেই!
ঠিকই বলেছে সে
তাইতো তার ইফতার হয় সত্তর পদ দিয়ে।
এদিকে বাসী বিরানি খেয়ে,
ভিক্ষুকের আঙুলে লেগে থাকে ফাইভ স্টারের তেল।
তোমরা যারা গৃহস্থের মশারিতে ঘুমাও
পিতার আদর্শের চেতনার গর্ব নিয়ে,
তোমাদের ডিনারে যে মাংস উচ্ছিষ্ট হয়,
তা নিয়েই যুদ্ধ শুরু হয়
রাত বারোটায়,
রাজপথের সকল ডাস্টবিনে।
এ দেশ এখনো রাতগুলো সজাগ থাকে,
ডাস্টবিনের গন্ধে,
উচ্ছিষ্ট হাঁড় মাংসে
মানুষ হয়ে ওঠার
অপমানজনক ইচ্ছেতে।
এটাই তো গণতন্ত্র!
একটা হাড় নিয়ে লড়াই মানুষ আর কুকুরের।
বাসি বিরানির উচ্ছিষ্ট পরিবেশন,
ইয়েস ব্রাদার, প্রতিরাতে বসে ডাস্টবিনে সংসদ অধিবেশন।