হঠাৎ যেন দরজা খুলে গেছে আকাশের। অঝোর বৃষ্টি।
এক অদ্ভুত জলমগ্ন শহরে আমি হেঁটে চলেছি,
বৃষ্টি এখন আর শুধু জল নয়,
তা যেন এক স্মৃতির শরাব, এক পরাবাস্তব হাহাকার।
পিচঢালা কালো রাজপথ যেন এক কালচে আয়না
তাতে ফুটে ওঠে একটা ছায়া, একজন নারী।
যে চলে গেছে কত শত বসন্ত আগে,
অথবা হয়তো গতকাল, কিংবা এইমাত্র
আমার এই বিভ্রান্ত ভেজা চেতনার ভেতর থেকে।
তুমি যখন ছিলে, বৃষ্টি তখন একটা গান ছিল।
আমাদের যৌথ ছাতার নিচে একটা ক্ষুদ্র পৃথিবী ছিল,
আজ সেই আশ্রয় নেই, কোনো উত্তাপ নেই।
শুধু আমার এই অঝোর বৃষ্টিতে ডোবা শরীর।
শহরের ল্যাম্পপোস্টগুলো মিটমিট করে জ্বলছে,
যেন কোনো নির্ঘুম কবির চোখের করুণ আলো।
গাড়ির চাকার শব্দে ছিঁড়ে যায় চারপাশের নিস্তব্ধতার চাদর।
এদিকে আমি ভাবনার জলোচ্ছ্বাসের ভেতর হাতড়ে ফিরি তোমার স্পর্শ।
আমার ভেজা চুল বেয়ে গড়িয়ে পড়া প্রতিটি ফোঁটা
আমার গালের ওপর দিয়ে যখন নেমে যায়
সেটা বৃষ্টির জল, নাকি রক্তের কোনো গোপন অশ্রু।
আমি আর আলাদা করতে পারি না এই ভেজা অন্ধকারে।
তুমি চলে গিয়েছিলে অকস্মাৎ এক সাধারণ সন্ধ্যায়
কোনো নাটকীয়তা না রেখে, কেবল একটা শব্দহীন বিদায় দিয়ে।
কিন্তু এই যে স্মৃতি, তা কেন এক বিশাল নদীর মতো
আছড়ে পড়ে আমার বুকের সমস্ত ভাঙা পাড়ে?
আমি হাঁটছি, আমার কোনো গন্তব্য নেই আজ।
প্রতিটি পদক্ষেপে শুধু তোমার ফেলে যাওয়া ছায়া
আমার পায়ে জড়িয়ে থাকা কাদামাটি আর নর্দমার জল
আমাকে মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত মাটিতে মেশে, এতই পার্থিব!
হে আমার পলাতক প্রেয়সী, হে আমার অধরা সময়,
এই মুষলধারায় ঝরে পড়া জল কি তোমার কোনো দীর্ঘশ্বাস?
বাতাস কি বহন করছে তোমার কোনো অনুশোচনা?
নাকি তুমি এখন শুকনো কোনো ঘরে বসে
অন্য কারও চোখে চোখ রেখে এড়িয়ে যাচ্ছ এই অমোঘ বর্ষণ?
নগরীর ইট-কাঠের প্রাসাদগুলো আজ ভেজা ক্যানভাস,
তাতে আঁকা হয়ে আছে এক পরাজিত যুবকের ছবি;
যে কোনো অন্ত্যমিল চায় না তার কবিতায়
যে কোনো ছন্দ চায় না তার জীবনের শেষ অধ্যায়ে।
বৃষ্টি পড়ে যাক, ধুয়ে দিয়ে যাক আমার অস্তিত্ব
মুছে যাক আমার সমস্ত পথ চলার চিহ্ন
শুধু থেকে যাক এই জলজ বাতাসের বুকে
এক অসম্পূর্ণ প্রেমিকের অনন্ত নিঃসঙ্গতার গন্ধ।