Fiction

ক্যাকটাসের মতো সম্পর্ক

October 8, 2026

5 views

জীবন তো অল্প! দু পা এগোলেই থামিয়ে দেয় সময়ের দেয়াল। দু পায়ের মাঝেই থাকে রঙ বেরঙের মায়ার অস্তিত্ব! মায়াকামী মানুষগুলোর আর সময়ের দিকে চেয়ে দেখার সময় হয় না! বার্ধক্য সহসা টেনে নিয়ে চলে শূন্যের দিকে! জীবন মানেই শূন্যের দিকে ছুটে চলা। আর এই শুন্যমুখী গতিতেই কত ব্যাধির আধিক্য!

মৃত ব্যক্তির শরীরের মতো অসাড় হয়ে আসছে ফজল সাহেবের হাড়গুলো। আজ এতটা ক্লান্তি লাগছে যে ডেড বডির নিথর পড়ে থাকার মতো বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু কি করার! সময়ও নিয়ম মানে! ফজল সাহেবের সময়ের এখন নিয়ম মানার সময়। নিয়মে ব্যঘাত ঘটলে সময়ই বলে উঠবে! সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। তাই সময়কে না বেঁধে কাজে ডুব দিলেন তিনি।

শেষ বয়সে ডিউটি আওয়ার কমিয়ে আনা উচিত। না কাজ করার এনার্জি থাকে, না সময়মতো কাজ শেষ করা যায়! এভাবে বৃদ্ধ মানুষকে দিয়ে কাজ করানোর কোন মানেই হয়না। এর মধ্যে কি সব কম্পিউটারের কাজ! চোখ ও চলেনা ঠিক মতো। চোখ টেনে টেনে দেখতে হয়। এসবের মানে আছে! নিউ জেনারেশন আসার প্রসেস এতো স্লো যে যতদিন না মরার সময় আসছে ততদিন নতুন কেউ আসছেনা। এই হলো সরকারী চাকরির সমস্যা। - নিজের সাথেই বিলাপ বকছেন ফজল সাহেব।

বয়স বেড়ে গেলে মনের কথা শোনানোর মানুষ পাওয়া যায় না। কেউ কথা শুনতে চায়না। কত ভালো হতো এমন কোনো সংঘ পাওয়া গেলে যেখানে জ্যেষ্ঠ, সমবয়সী বা অনুজরা এসে নিজেদের মনের কথা বলবে। অবশ্য বিলেতে এমন সিস্টেম আছে। নানান বয়সের মানুষ একত্রিত হয়ে যার যার কষ্টের কথা বা সমস্যার কথা শেয়ার করতে পারে। কোন হল রুমে, বাড়ির সামনের বাগিচায় অথবা নন্দিত পার্কে কেদারায় চেপে কার্পেটের মতো কোমল লনের উপরে ভর দিয়ে যে যা নির্দ্বিধায় বলে যাচ্ছে; নিজের স্ত্রীকেও যা বলা যায় না কিংবা সন্তানকে।

বিষয়টি ফজল সাহেব জানতো অনেক আগে থেকেই। অফিসের একজন ইয়ং কলিগ এসে বলেছিল তাকে। কথা শুনে ফজল সাহেব বেশ হাসি ঠাট্টাই করেছে মামুনের সাথে। মামুনের বিষয়টি ভালো লেগেছে বলে জানালে ফজল সাহেব বলেন, তোমার মতো ছেলেরা কেন ঐসব ফালতু জিনিসে ইম্প্রেস হবে! এখন তোমাদের কতই বা বয়স হয়েছে! এই বয়স তো মৌমাছির মধু কালেকশনের বয়সের মতো। তোমাকে ঘিরে থাকবে বন্ধুদের পাহাড়। ওসব করবে বৃদ্ধরা, যাদের মৃত্যু অতি নিকটে, দিন পেরুলেই রাতের শীতল বাতাসেই দম আটকে যাবে কিনা ভয়ে থাকে। মানুষের কথা শুনবে, মানুষকে সহানুভূতি দিবে, সওয়াব কামাই করবে।  মামুন আর কিছু বলেনি। বিরস চোখ নিয়ে কি একটা অভিযোগের ছুঁতো খুঁজে চলে যায় সেখান থেকে, এরপরে মামুনের সাথে ফজল সাহেবের শুধু- কেমন আছেন? পর্যন্তই সম্পর্ক।

ফাইল ভর্তি কাজের চূড়ার সামনে বসে থাকা ফজল সাহেব কোন ভাবেই বুঝতে পারছেন না এসব চিন্তা আজ মাথায় ঘুর ঘুর করে মাথাটা খাওয়ার মানে কি! তবে কি মামুনের বলা সেই স্টোরি টেলার গ্রুপের অদৃশ্য সদস্য হতে চলেছি? মানে এখানেই জীবনের শেষ প্রান্ত! কি অদ্ভুত মানুষ কি তার জীবনের প্রান্ত মাপতে পারে! নাহ! ফজল সাহেব আর ভাবতে পারছে না। তাকে এক্ষুনি একটা সিগারেট ধরাতে হবে। সপ্তাহ খানেক হলো সিগারেট ছেড়েছেন তিনি, কিন্তু এসব চিন্তায় কোন মানুষ সিগারেট ছাড়া স্বাভাবিক থাকে বলে মনে হয়না তার। তাই যত দ্রুত সম্ভব একটা শলাকা ও দে-শলাই মেনেজ করা খুব জরুরি। অফিসে সমবয়সী কেউ নেই, এরা সবাই জুনিয়র; একমাত্র মামুনের সাথেই তার দুটো কথার চালান হয়েছিল, বাকিদের সাথে শুধুই করমর্দন পর্যন্ত সম্পর্ক। অবলম্বন না পেয়ে মামুনের কাছেই সিগারেট চাইবে বলে মনস্থির করে ফজল সাহেব কিন্তু মামুন ধূমপান করে কিনা সে সম্পর্কে সম্পূর্ণই অজ্ঞ তিনি, শেষ বয়সে এসে জুনিয়র কলিগের সামনে বেইজ্জতি হজম করা সম্ভব না; তাই মামুন বাদ। সবচেয়ে ভালো হয়, দারোয়ানকে গিয়ে বলা; যেই ভাবা সেই কাজ! দারোয়ানের কাছে একটা সস্তা ডার্বি আর লাইটার নিয়ে হাজির হয় কমন বেলকুনিতে। ফজল সাহেবের ব্র্যান্ড বেনসন। টানা পনের বছর যাবত তিনি এই কোম্পানির রেভিনিউয়্যে যত টাকা যোগ করেছেন সেই অর্থ দিয়ে একটা আস্ত পাঁচতলা বাড়ি বানানো যেত। ফজল সাহেবের ভাবনার কথা কেড়ে নিয়ে মামুন সাহেব যোগ করলেন, কেমন আছেন ভাই? 

কিছুটা হকচকিয়ে পেছন ফেরেন ফজল সাহেব। সিগারেটের তলায় একটা লম্বা টান দিয়ে মুখ ভর্তি ধোঁয়া তুলে অস্পষ্ট ভাবে বলেন, ভালোই। আপনি? 

-আপনি আমাকে আগে কখনও আপনি ডাকেননি। আজ হঠাৎ! 

-এখানে যে?- প্রসঙ্গ এড়ালেন ফজল সাহেব।  

মামুনের বাম হাতের দুটি আঙ্গুল এতক্ষণ একটি সিগারেট আঁকড়ে রেখেছিল; ফজল সাহেবের চোখ পড়েনি সেখানে। মামুন হাত উঁচু করে দেখিয়ে বললেন, মে আই? 

-সিওর! ইউ ডন্ট নিড মাই পারমিশন। 

মামুন সিগারেট ধরিয়ে একসাথে বেশ কয়েকটা টান নিয়ে ধীরে ধীরে নাক দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ছেন। যেন আজ এবং এখন থেকেই তিনি ধূমপান ছেড়ে দেবেন অথবা বেশ কয়েক বছর পরে আজ তিনি দুই ঠোঁটের বেদিতে সিগারেটের পাছা রেখে টান দিচ্ছেন। 

-নিয়মিত? 

-জী। 

-পরিবারের সবাই কেমন আছে? 

-ভালোই আছে সবাই। আপনার?

-ভালোই আছে বোধহয়! 

প্রত্যুত্তরে কোন জবাব না পাওয়ায় ফজল সাহেব বুঝতে পারে এই লোক হয় ধূমপান করতে এসে কাকতালীয় ভাবে এখানে দেখা নয়ত সে নিজের কথা বলতে এসেছে যেটা আমাকে বুকে পাথর রেখে হলেও শুনতে হবে।

আরও কিছুক্ষণ নীরবতা কেটে গেলে মামুন বলেন, ফজল ভাই আপনার সেইদিনের কথাটা আমার এখনও কানে বাজে।

ফজল বুঝতে পারে মামুন কোন দিনের কথা বলছে। কারণ মামুনের সাথে তার কথা হয়েছে হাতে গোনা দুই তিন দিন। তবু তিনি অজ্ঞতার ভান করে বললেন, কোন দিনের কথা?- যেন কোন কিছুই ফজল সাহেবের মনে নেই। এই আশ্চর্য আচরণ তিনি কেন করলেন তার জানা নেই। হয়ত এটাই মানুষের স্বাভাবিক আচরণ, যা যুক্তির পক্ষে বেশিরভাগ সময় অস্বাভাবিক হয়ে যায়। মানুষের চিন্তা, আবেগ, আচরণ যদি যুক্তির পক্ষে গাইতো, যদি ম্যাথম্যাটিক্যাল সূত্রে প্রবাহিত হতো, যদি পদার্থের নানান 'ল আর রসায়নের ধরাবাঁধা বিক্রিয়ার মতো করে এগিয়ে চলত তবে কি মানুষ বাঁচতে পারত? সুখ পেত? রসবোধ বলতে কিছু থাকতো? 

যেদিন আপনি আমাকে বললেন, এই বয়সে বন্ধুরা আমাকে ঘিরে রাখবে মৌমাছির মধু কালেকশনের মতো। - মামুন নিজের মতো করে বলে চলেছে। 

ফজল সাহেব নীরব থাকায় মামুন তার বাহুতে হাত দিয়ে বলেন, ফজল ভাই! শুনেছেন?

-হু শুনেছি। মনে পড়েছে। কিন্তু সে তো অনেক আগের কথা! কত বছর চলে গেল, আপনার এখনও মনে আছে? 

-আসলে আমার ইচ্ছে ছিল আপনাকে বোঝাব কেন আমি স্টোরি টেলার গ্রুপের কথা ভাবছিলাম কিন্তু সেই ইতস্ততা আর মন থেকে মুছেনি তাই আর বলা হয়ে ওঠেনি। 

-এখন বলুন। 

-আদতে আমার কোন বন্ধু ছিল না। কেউ মিশতে চাইত না বা কেউ মিশতে পারতো না! জানিনা আমি আসলে। বিয়ের পরে তো বউ পরম বন্ধু হওয়ার কথা কিন্তু তা-ও হয়নি। হয়ত আমাকে ভয় পায়, নয়ত আমাকে পছন্দ করেনা অথবা আমি কারো সাথে মিশে যাবার মতো মানুষ নই। একটা মেয়ে সন্তান আছে, সাত বছর বয়স। সে তার মায়ের সাথে ঠিকই কথা বলছে, খেলছে, হাসছে, খাচ্ছে কিন্তু আমার কাছেও কখনও আসে না। শুনেছিলাম বেটিরা নাকি বাপের খুব আদরের হয়। আমি আমার মেয়ের চোখে তাকিয়ে ঠিক কবে সুন্দর করে কথা বলেছি আমার স্মরণ নেই। এদিক থেকে আপনি অনেক ভাগ্যবান। সন্তানরা মানুষ হয়েছে, বিলেতে সেটেলড। নিশ্চয়ই সবাই আপনার অনেক আদরের তাই না! আপনিও চলে যান; এখানে থেকেই বা কি করবেন? মাত্রই তো কদিন বাকি এই অফিস জীবনের। 

-আপনি এসব কোথায় শুনেছেন?

-আপনাকে নিয়ে অফিসে গসিপ হয় প্রায়ই। এইযে আপনি একাকি থাকেন, কারো সাথে মিশেন না, কথা বলেন না মন খুলে। জীবনের কিছু শেয়ার করেন না কারো সাথে। ছেলের বিয়ে দিলেন অথচ কাউকে দাওয়াত দিলেন না, কেউ জানতেও পারলো না। অনেকে মনে করে এই চাকরি জীবন আপনার পছন্দ ছিল না তাই এখানকার কারো সাথেই আপনি মিশেন না। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আপনার আমার মধ্যে কোন না কোন দিক থেকে মিল রয়েছে। 

-আমার কথা রাখুন। আপনার কথা শেষ করুন। 

-হ্যাঁ যা বলছিলাম। বাবা-মা মারা যাবার পরে আমাকে বুঝতে পারার মতো কেউ নেই। এখন আমার কাছে দুইটা মানুষ ছাড়া কেউ নেই। আমার আত্মীয়-স্বজনও খুবই কম। কাছের দুজন মানুষও হাতের কাছে কিন্তু নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

-সৃষ্টিকর্তা আপনার জীবন থেকে দুইজন মানুষ কেড়ে নিয়ে দুইজনকে দিয়ে গেছে, তাদের যত্ন কিভাবে নিবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার! 

-আমিও চাই ভাই। কিন্তু কোথায় যেন একটা সমস্যা চলেই আসে আমার মধ্যে।

-নিজের ইচ্ছার প্রায়োরিটি কমাতে হবে। সম্পর্ক বলিদান চায়। একটি সম্পর্ক বহুপাক্ষিক হয়। কোন না কোন পক্ষ নিজের দেয়াল ভেঙ্গে ভেঙ্গে একদিন মরে যায়। সবার মনেই থাকে যে, আজকে আমি একজনের জন্য আমার দেয়াল ভাঙ্গছি, কাল অন্য কেউ আমার জন্য তার দেয়াল ভাঙ্গবে। 

-কিন্তু সম্পর্ক তো অনেক ধরনের হয়। যেখানে এক পক্ষের মেহনতই থাকে সর্বোচ্চ, অন্য পক্ষের জিরো। 

-যে মেহনত করতে চায়না, সেও হয়ত তার ভাঙ্গা দেয়াল চাঙ্গা করতেই সম্পর্কে জড়িয়েছে। 

-আপনার সম্পর্কে, ভাবি নাকি আপনি সবচেয়ে মেহনতি? 

ফজল সাহেব বেলকুনির কোণে থাকা সোফায় পায়ের উপরে পা তুলে আরাম করে বসলেন। শার্টের বুকে লেপটে থাকা শলাকার ছাই মুছতে মুছতে বললেন, দুজনেরই অবদান ছিল; কিন্তু ইদুর শাবকের মতো আরেকজনের টা দেখার মতো চোখ ছিল না কারো। আর আমার এই অন্ধত্ব পরিবার থেকে বিচ্যুত করেছে। আপনি যা শুনেছেন তা পুরোটা সত্য নয়। আপনি সেদিন আমাকে যে স্টোরি টেলার গ্রুপের নাম বলেছিলেন, মনের অজান্তেই আমি সেই গ্রুপের সন্ধানে ছুটছি। আজ আমি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে আমার সন্তান এবং বউ আমাকে শেষ দেখা দেখতে পাবে না। আমি তাদেরকে দেখে মরতে পারব না। শেষ বয়সে জীবনের লক্ষ্য কি-বা থাকতে পারে মানুষের? 

মামুন আরেকটি সিগারেট ধরিয়ে বেলকুনির পশ্চিম কোণে থাকা সোফা টেনে ফজল সাহেবের সম্মুখে এসে বসলেন। এবারের টানগুলো বেশ ধীর। কোন উত্তেজনা নেই, তাড়া নেই।

এবার মামুনকে দেখে ফজল সাহেবের বিশ্বাস হলো যে তিনি আসলেই নিয়মিত ধূমপান করেন। কাচের টেবিলে পত্রিকার উপরে পড়ে থাকা এস্ট্রেতে ধুম্রশলার ছাই ফেলতে ফেলতে তিনি বললেন, ভাবি এখন কোথায় আছেন? 

ফজল সাহেবের দীর্ঘনিঃশ্বাস বলে দেয় স্ত্রী দূরত্ব তাকে কতটা পীড়ায় রেখেছে। সেলফ এথিকসের বাইরে যেতে পারেন না বলে একটি  দীর্ঘনিঃশ্বাসকে সমাধান হিসেবে খুঁজে নেন তিনি। টেবিলে পড়ে থাকা দেশ ম্যাগাজিনটা হাতে নিয়ে বলতে শুরু করেন, বেশ কয়েক বছর আগে থেকে ছেলের সাথে থাকছে। আমাকেও যেতে বলে কিন্তু আমার বিলেতে মরার কোন ইচ্ছে নেই। কিন্তু তার এক কথা শেষ বয়সে ছেলে-মেয়ে নাতিপুতি তো বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে ওঠে! সে চলে গেল, আমি রয়েই গেলাম আমার এতো বড় বাড়িতে একটি পিঁপড়ের মতো। লাস্ট কয়েকদিন যাবৎ ফোন ধরি না, নিয়মিত ফোন করে। ফোন করলেই যেতে ইচ্ছে করে। আবার যেতে নিলে কান্না পায়। এসব শৈশবের ভিটে মাটি ফেলে যেতে খুব কষ্ট হয়। ছেলে পড়তে গিয়ে সেখানেই পছন্দ করে বিয়ে সেরে ফেলেছে। একবার নিয়ে এসেছিল, সেটাই সরাসরি তাকে এবং বৌমাকে লাস্ট বারের মতো সচক্ষে দেখা। দেখতে ইচ্ছে হয় সবাইকে কিন্তু এই ইচ্ছের কোন মূল্য নেই তাই কখনও বলা হয়ে ওঠেনি। আমার কখনও চাপিয়ে দেবার অভ্যাস ছিল না। এখনও নেই। তারা তাদের মতো চলুক, বড় হয়েছে, স্বাধীনতা না পেলে হয়ত আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করবে।

ফজল সাহেবের প্যান্টের পকেটে ফোন ভাইব্রেট হচ্ছে। পকেট থেকে বের করে ফোন টা টেবিলের ওপর রেখে বলছেন, এইযে দেখুন আজকেও ছেলে আবার ফোন করেছে। মামুনের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বললেন, ফোন টা কি ধরব এখন? কেটে দেই। আপনিই কেটে দেন তো ।

মামুন ফোন টা কেটে দিল। ফোন টা হাতে নিয়ে কথার শুরুতেই আবারো ছেলের নামে ফোন বেজে ওঠে ভঁ ভঁ করে।

মামুন বললেন, এবার ধরুন। জরুরি কলও হতে পারে! 

ফজল সাহেব ফোন স্ক্রিনের বাম হতে ডানে সুইপ করে কানে দেন। ওপাশ হতে শোনা যায় বেশ ভারী গলার একজন পুরুষের আওয়াজ- আব্বা, আম্মা আর নেই।

ফজল সাহেব কি বলবে বুঝতে পারছে না। যেন কথা বলে ফেলেছে অনেক কিন্তু কেউ শুনতে পারছেনা অথবা কোন শব্দ বেরুচ্ছে না। এরই মাঝে তিনি খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় বলে ফেললেন, হোয়াট হ্যাপেন্ড? 

-হার্ট এটাক! আপনি আসবেন? 

-কিভাবে যাবো? ভিসা নেই। 

-ভালো থাকবেন আব্বা, নিজের যত্ন নিয়েন। 

-অল রাইট। ইউ টু।

মামুন বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ফজল ভাই, আমি খুশি হলাম শুনে যে আপনি যাচ্ছেন। কবে যেতে চাচ্ছেন? 

-যাচ্ছি না। 

-কেন আপনার ছেলে কি বলল ফোনে? সরি, ইফ ইউ ডন্ট মাইন্ড মে আই আসক?

- সে বলল আমার স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে। মহিলাদের স্বামী বিয়োগ হলে তাদের বিধবা নাম দেওয়া হয়, তাহলে পুরুষদের কি বলা হয়? জানা আছে আপনার?

–কথাগুলো অকপটে খুব স্বাভাবিক স্বরেই বেলকুনিতে থাকা ক্যাকটাস গাছটার দিকে তাকিয়ে বলে চলেছেন ফজল সাহেব।  

অর্ধ নির্বাক মামুন ঢেঁকুর তুলে বলছে, না ভাই জানা নেই। 

ফজল সাহেব টেবিলে ম্যাগাজিনটা রেখে বললেন, বিপত্নীক বোধ হয়! যাই হোক, সে ঠিকই আমার সাথে দেখা না করে ভূলোক ত্যাগ করল। শেষ বলিদানটিও আমাকে দিতে হলো। আসলে সম্পর্কগুলো ক্যাকটাসের মতো। পুরোটা জুড়ে থাকে জ্বালাময়ী সৌন্দর্য।

#habib_rahman #stort_story

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+25 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login