আয় ছুটকি তোকে নিয়ে হারিয়ে যাই।
কোথায় যাবো?
ঠাকুরমার ঝুলির ভিতরে।
কি আছে সেখানে?
রাক্ষস খোক্কসের গল্প আছে।
আর?
রাজকুমার আর রাজকুমারীর গল্প আছে।
না এসব শুনবো না।
কেন?
আমায় একটা মন ভালো করার দেশে নিয়ে যাবে। যেখানে গেলেই মনটা ভালো হয়ে যায়।
তুই এতটুকুন একটা মানুষ। এতটুকুন একটা মন। তোর মনে আবার দুঃখ কিসের যে মন ভালো করতে হবে?
জানি না। তুমি বুঝবে না। বলো না নিয়ে যাবে এমন দেশে?
চল এক্ষুনি নিয়ে যাচ্ছি। বল তাহলে কি কি চাই সেই দেশে?
একটা ছোট্ট খরগোশের ছানা। একটা বিড়ালের ছানা। একটা গাছের উপর বাড়ি। যেই বাড়ির সিঁড়ি হবে রঙধনু দিয়ে। দরজা জানালার পর্দা হবে মেঘ দিয়ে। বাতাসে সারাক্ষণ মেঘ দুলবে…
আর?
আর একটা হাতির বাচ্চা। সাথে জোনাকিপোকা। মস্ত এক সবুজ মাঠ থাকবে। সেখানে আমার সাথে খরগোশ আর বিড়াল ছানা খেলবে। জোনাকিপোকারা হাত তালি দিবে। হাতির বাচ্চার পিঠে চড়ে ঘরে ফিরবো। কোনো পড়ালেখা থাকবে না সেই দেশে। কোনো স্কুল না।
তোর বন্ধুদের নিয়ে যাবি না ছুটকি?
নাহ। ওরা আমার সাথে ভীষণ ঝগড়া করে। আমার স্কুল ব্যাগ একটু পুরাতন বলে আমাকে কত কথা শুনিয়ে দেয়। ওদের কাউকে নিবো না।
তোর বাবা মাকে নিবি না?
নাহ। ওরা তো সারাদিন সারারাত শুধু ঝগড়া করে। আমার খুব ভয় লাগে ওদের। আমাকে শুধু বকা দেয়। ওদের নিবো না।
আচ্ছা বেশ… চল তাহলে চোখ বন্ধ কর৷ তোকে পঙ্খীরাজে করে সেই নতুন দেশে নিয়ে যাই।
ছুটকি চোখ বন্ধ করতেই ওর ঘুমটা ছুটে গেলো। মা এসেছে ওকে ডাকতে। স্কুলে যেতে হবে। ছুটকির চোখে তখনো পঙ্খীরাজ ভাসছে। মেঘের উপর দিয়ে যাচ্ছিলো ওরা। এমন সময় মা ডাক দিলো। ইশ আরেকটু পরে যদি মা ডাক দিতো তাহলে ওর নতুন দেশটা দেখতে পেতো।
হাত মুখ ধুয়ে স্কুল ব্যাগ গোছাতে এসে ওর মন ভালো হয়ে গেলো। ওর টেবিলে খুব সুন্দর একটা স্কুল ব্যাগ। নিশ্চয় বাবা গতকাল কিনে এনেছে। ওকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য চুপিচুপি ওর টেবিলে রেখে গেছে। এখন একটু মন খারাপ লাগছে ছুটকির। কেন যে ও ওর বাবা মাকে সেই নতুন দেশে নিতে চাইলো না। ওর বাবা মাতো খুব ভালো। ছুটকি আজ নতুন ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাবে। মনটা ভীষণ খুশি হয়ে আছে। কিছুক্ষণ পরে ভুলেই গেলো স্বপ্নে নতুন দেশে যাওয়ার কথা।