জীবনের এক একটা দিন যেন ক্যালেন্ডারের ছেঁড়া পাতা,
হাতে জমা হয়, তারপর হাওয়ায় ভেসে যায় দূরে,
আমরা ভেবে নিই, দিনগুলোকে তো আমিই পার করে দিচ্ছি,
অথচ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে দিনগুলোই আসলে ভেতর থেকে ক্ষইয়ে দিচ্ছে আমাকে।
সকালে ঘুম ভাঙলে যে রোদটা এসে পড়ে ঘরের মেঝেতে,
সেটা নতুন কিছু নয়,
পুরোনো কোনো ক্ষতের ওপর হালকা একটু আস্তরণ দেওয়া মাত্র।
কাজের টেবিলে চায়ের কাপ ঠান্ডা হতে থাকে,
আমরা জমার ঘরে লিখে রাখি অর্জনের লম্বা হিসাব।
অথচ খরচের খাতায় নীরবে লিখে রাখা হয়,
খানিকটা আয়ু, এক ফোঁটা চেনা বিষাদ,
আর একলা হেঁটে যাওয়ার একটা নীরব ক্লান্তি।
প্রতিটি সন্ধ্যা দরজায় এসে দাঁড়ায় এক নীরব বিচারক হয়ে।
জিজ্ঞেস করে না কতটা স্বাধীনভাবে বাঁচলে,
শুধু হিসাব চায়, আজ কতটা নিজেকে বদলে ফেললে অভ্যাসের টানে?
রাত হলে আমরা অন্ধকারের ভেতরে মুখ লুকিয়ে নিই,
ভাবি কাল সকালটা হয়তো একদম অন্যরকম হবে।
কিন্তু দিনগুলো তো আর ফিরে আসার জিনিস নয়,
ওরা চুপিচুপি চলে যাওয়ার সময়
আমাদের আসল মুখের কিছুটা আলো সঙ্গে করে নিয়ে যায়।