আজ যদি শ্রাবণ নামে তোমার চেনা শহরে,
যদি জলের রেখা মুছে দেয় চেনা সব পথের ব্যবধান,
তবে জানলার কাচে একবার হাত রেখে আমায় স্মরণ করো।
আমরা তো কোনোদিন প্রাচুর্যের ভাষায় কথা বলিনি,
আমাদের ভালোবাসা ছিল শব্দহীন এক নিবিড় আশ্রয়।
আজ এই অঝোর বর্ষণে যখন স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে নাগরিক কোলাহল,
তখন বহুদূরে বসেও আমি বুঝতে পারি তোমার নিঃশব্দ উপস্থিতি।
তোমাকে মনে পড়া মানে কোনো আকস্মিক ঝড়ের মাতলামি নয়,
এটি তোমার ভাবনায় আমার ভেতরের আয়ুক্ষয়ের পুরনো শিলালিপি।
শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততার আড়ালে যে তৃষ্ণা আমি বয়ে বেড়াই প্রতিদিন,
আজকের মেঘলা আকাশ তাকে এনে দাঁড় করিয়েছে এক অচেনা মোহনায়।
তুমিও কি তবে মেঘের শব্দে থমকে দাঁড়িয়েছ কোনো এক কাজে?
নাকি হাত বাড়িয়ে মেপে নিচ্ছ কতখানি জল জমেছে তোমাদের অলিন্দে?
দূরত্ব কেবল ভূগোলের বানানো এক কৃত্রিম প্রতারণা,
প্রকৃত অনুরাগে প্রতিটি ভাবনা হয়ে ওঠে আমাদেরই অনুভূতির অনুবাদ।
কত কথা বলা হয়নি আমাদের, কত অভিমান জমা হয়ে আছে আড়ালে,
আজ এই বৃষ্টি যেন সেই সব না বলা পংক্তির এক নির্জন পাঠ।
আমি শব্দ দিয়ে ঢাকতে চাই না আমার এই সুগভীর যাতনা,
কেননা বিচ্ছেদ তো ভাষায় নয়, ধরা পড়ে বুকের খাঁ খাঁ শূন্যতায়।
তোমার শহরের হাওয়ায় যদি হঠাৎ ভেসে আসে ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ,
জেনে রেখো, ওটা কেবল ঋতু বদলের কোনো সাধারণ বার্তা নয়।
ওটা আমারই তৃষ্ণার্ত আত্মার এক ব্যাকুল আহ্বান,
যা সমস্ত সীমানা ডিঙিয়ে নিঃশব্দে ছুঁয়ে যেতে চায় তোমার স্পর্শ।
বৃষ্টি থেমে গেলেও থেকে যাক এই অনুচ্চারিত আবেশ,
যেন প্রতিটি ফোটায় বেঁচে থাকে আমাদের গোপন অস্তিত্বের শেষটুকু।