আমাদের সন্তানেরা বড় হয়ে উঠছে অন্য এক অচেনা বাতাসে,
তারা আজকাল আর মাটির গন্ধ চেনে না,
চেনে কেবল চকচকে পর্দায় জ্বলে ওঠা আলোর ছলনা।
আমরা যে নদীকে ভালোবেসে ভুল করেছিলাম একদা,
যে বুনো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বুনেছিলাম অবাস্তব সব স্বপ্ন,
ওরা সেই রূপকথাগুলোর দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাসের হাসি হাসে।
ওদের হাতে কোনো পুরোনো দিনলিপি নেই,
নেই বুক পকেটে গুঁজে রাখা কোনো গোপন ব্যর্থতার চিঠি।
ওরা খুব হিসেবী, খুব আধুনিক, বড় বেশি প্রাপ্তবয়স্ক,
অথচ ওদের চোখের গভীরে লুকিয়ে থাকে এক অদ্ভুত শুষ্কতা।
আমরা হয়তো চেয়েছিলাম ওরা আমাদের অসম্পূর্ণ সেতুটা পার হোক,
আমাদের ডানায় ভর দিয়ে উঁকি দিক অজানা দিগন্তে।
কিন্তু ওরা নিজস্ব মানচিত্র বানিয়ে নিয়েছে ইতিমধ্যেই,
যেখানে আমাদের কোনো নাম নেই, নেই আশ্রয় চাওয়ার কোনো অধিকার।
মাঝে মাঝে মধ্যরাতে যখন ঘর জুড়ে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে আসে,
আমি ওদের বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে ভাবি,
এরা কি সত্যিই আমাদেরই রক্ত, নাকি অন্য কোনো ভবিষ্যতের বার্তাবাহক?
ওদের জন্য প্রতিদিন অল্প অল্প করে জমে ওঠে আমাদের ভয়,
শহরের ইট-কাঠের ভিড়ে ওরা যদি কোনোদিন দিশা হারিয়ে ফেলে!
কিন্তু ওরা তো আমাদের স্পর্শ এড়িয়ে অনেক দূর হেঁটে গেছে,
যেখান থেকে আর আমাদের ডাক ওদের কানে পৌঁছায় না।
তবুও এই বিকেলের ধূসর আলোয় দাঁড়িয়ে আমি প্রার্থনা করি,
ওদের আকাশে অন্তত কিছুটা অন্তত নীল বেঁচে থাক।
ওরা যেন আমাদের মতো অত সহজে হেরে না যায় জীবনযুদ্ধে,
ওরা যেন ভালোবাসতে শেখে, নিজস্ব কোনো ভুল আর আবেগকে সঙ্গী করে।