বহুবছর পেরিয়ে গেছে, অথচ আজও এই পথটা একটুও বদলায়নি,
খানিক আগে এসে দাঁড়িয়েছিলাম তোমাদের সেই পুরোনো বাড়িটার সামনে।
জানি না, আমাকে আজও তোমার স্মরণে আছে কি না;
কিংবা হয়তো ধূলোজমা স্মৃতির খাতার নিচে ঢাকা পড়ে গেছি আমি।
সেই নীল রঙের কাঠের গেটটা আজও তেমনই আছে,
শুধু রঙ চটে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে কিছু অচেনা দাগ।
বারান্দার কোণে যে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে
তুমি একসময় অঝোর বৃষ্টিতে হাত বাড়িয়ে ভিজতে,
সেখানে আজ রোদের ছায়া এসে পড়েছে ভারী হয়ে।
আমি বেল বাজাইনি, কোনো ডাক দিইনি তোমার জানলায়;
শুধু দূর থেকে দেখেছি, একটা অচেনা পর্দার ওপাশে
কার যেন ব্যস্ত ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরজুড়ে।
তোমাকে আবার দেখার কোনো অধিকার হয়তো আমার আর নেই,
অথচ এই শহরের ভিড় ঠেলে শেষমেশ এখানেই এসে থামে আমার পা।
স্মৃতি তো কোনো সীমানা মানে না, ছবি,
সে শুধু এক বুক নীরবতা নিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে স্মৃতির দরজায়।
একটু হাওয়া এসে ছুঁয়ে গেল মুখ, আমি আলতো হেসে পা বাড়ালাম উল্টো পথে,
কিছু হারিয়ে যাওয়া প্রেম হয়তো দূরে থাকলেই বেশি সুন্দর থাকে।