ভোরের আলো ফোটে ঠিকই, অথচ আমার জীর্ণ শোবার ঘরের
অন্ধকার কোনোদিনই কাটে না; প্রতিটি নতুন ভোর
যেন ডাকপিয়নের মতো এসে চুপচাপ হাতে দিয়ে যায়
ব্যর্থতার নতুন কোনো বার্তা।
সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় পাতা উল্টাতেই যেখানে বিজ্ঞাপনের ভিড়,
সেখানে ভেসে ওঠে শুধু এক শূন্য আশার মরীচিকা,
আমার চেনা স্বপ্নগুলো প্রতিনিয়ত ধুলোয় মিশে গিয়ে
কেমন মলিন আর নিঃস্ব হয়ে যায়।
একদা অহংকারের সনদপত্রগুলো আজ টেবিলের কোণে
পড়ে থাকা কিছু নিতান্তই মূল্যহীন কাগুজে স্মারক মাত্র;
কাজের সন্ধানে অচেনা কোনো অনিশ্চিত গলি ধরে
হাঁটতে হাঁটতে আমার পা দুটো কখন যে ক্লান্ত হয়ে পড়ল!
বন্ধুদের কোলাহল আর সাফল্যের প্রকাণ্ড ভিড়ে
আমি আজ বড্ড একা, কেবল এক নির্বাক পরাজিত দর্শক;
আর বুকের ভেতর থেকে যে হাহাকারটা প্রতিনিয়ত উঠে আসে,
তা আজ পর্যন্ত কাউকেই স্পষ্ট করে বলা গেল না।
বাবার ওই থমথমে কঠিন নীরবতা আর মায়ের
যে করুণ ব্যাকুল দৃষ্টি, তা প্রতিদিন চাবুকের মতো
এসে পড়ে আমার উন্মুক্ত পিঠে; আত্মীয়দের চতুর প্রশ্নমালা
এড়াতেই কি আজকাল আমি নিজের ছায়া থেকে দূরে আড়ালে থাকি?
প্রতিটি গোধূলির আবছায়া নামলেই বুকের খুব গোপনে
জমা হতে থাকে এক তীব্র ও গুমোট যন্ত্রণা;
মনে হয়, শরীরের ক্ষুধার চেয়েও কি এই বেকারত্বের গ্লানি
মানুষকে প্রতিদিন তিল তিল করে খুব নিখুঁতভাবে মারে?
রাতের নিঝুম নিঃসঙ্গতা যখন চারপাশ গ্রাস করে নেয়,
তখন হতাশার কান্নায় আমার ভেতর অচেনা তুফান।
তবুও ছাইভস্মের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ওই ছাইচাপা আগুনের মতো
বুকের গভীরে আজও বাঁচিয়ে রাখি জবাফুলের মতো এক চিলতে আশা।
একদিন হয়তো জীবনের এই ঘোর অমানিশার অবসান ঘটবেই,
আকাশের সব মেঘ কেটে গিয়ে ফুটবে উজ্জ্বল ও নতুন এক আলোকময় সকাল।