Poetry

অদৃশ্য জলঘড়ি

October 13, 2026

26 views

হে আত্মা,
তুমি কি শুনতে পাও,
তোমার শিরায় টিক টিক শব্দের অদৃশ্য জলঘড়িকে,
যার প্রতিটি ধ্বনি নিয়ে যাচ্ছে তোমায়
মহাকালের পথে।
জাগতিক বেঁচে থাকা,
স্রেফ অন্ধকারে হাতড়ে খোঁজা ভবিতব্য।

কুয়াশার দিনে আয়নায়
স্রষ্টার দীর্ঘশ্বাসে লেখা হীরক-অক্ষর?
আমরা কেবল ধূলোর নৃত্য দেখলাম।
অথচ ধূলোর কুণ্ডলীতে ভেসে উঠে বহু কথা।
আমরা সেসব পড়তেও শিখিনি।
প্রজ্ঞা একা একা হতাশ আত্মার মহাসাগরে।
যেখানে চিন্তার নৌকা ডুবে যায়,
সেখানে মুরাকাবার পাল তোলে প্রেম।

রাত্রির ছাদ ফুঁড়ে
একটি নীরব তারা বলে উঠে,
তুমি খণ্ড নও, তুমিই পুরো আকাশ,
তোমাতেই বসে আছেন, যিনি সব জানেন।

হে সাধক,
তোমার হৃদয় তো এক উদ্ভাসিত মসজিদ,
যেখানে স্রষ্টা জেগে থাকেন নিঃশব্দ আজানে।
জলঘড়ি তখনো নিজ মনে চলছে; টিক, টিক, টিক।
ধ্যান করো, গভীরতর ধ্যান,
তাহলে ধরা দেবে সেই অনন্ত কবি,
যিনি প্রতিটি পাথরের ভেতর লিখে রেখেছেন,
আমি আছি, আমিই প্রেম, আমিই সব।

শরীর তো কেবল পোশাক,
আত্মা আসলে তার পোষা পাখি,
জলঘড়ির শব্দে আত্মার সিরর।
চামড়ার দেহ তারই খাঁচা।
জাগতিক দৃশ্যের মুখোশ খুললে
যা থাকবে, সে কেবল এক ফিসফিস শব্দ,
এবং সেই শব্দই তো সৃষ্টির ধ্বনি।

তুমি কি কখনও বোঝোনি,
তোমার নিঃশ্বাসে কার স্পর্শ লেগে থাকে?
সেইতো খোদ প্রেমিক, স্রষ্টা নিজে,
যিনি দৃশ্যমান অনুপস্থিতিতেই হয়ে ওঠেন পূর্ণ উপস্থিত।
হায়! আমাদের চর্মচক্ষু কিছুই দেখে না!


(কবিতাটি আমার লেখা নিষিদ্ধ হয়েছিল আমার বন্ধু নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login