দিন শেষে সূর্য ডোবার আগে,
একটি নাম তুমি প্রতিদিন লিখে যাও নীরবে,
ঐশ্বরিক অক্ষরে, যেভাবে জোছনা এসে
রাত্রির বুকে নিঃশব্দ সাক্ষ্য রেখে যায়।
মৃত্যু, তুমি আমার অন্ধকারের বধূ,
জীবনের রৌদ্রে থেকেও তুমি অদেখা ছায়া,
তুমি সেই পাতার শিরা, অদৃশ্য সবুজ তন্তু।
স্রষ্টার তাঁতে বুনে যাও সবুজের মায়া।
ফুরোয় না যেন এ পথ, এই নিঃশ্বাসের চক্র,
আমি এগোতে থাকি, তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছো,
পাখির কণ্ঠে যেন তোমার ফিসফিস কন্ঠ।
তোমার আগমনের শব্দ, নিভৃত সেই নাচ।
অস্তগামী সন্ধ্যার নদীপথে যেন
ছলাত ছলাত শব্দে নৌকা এগোয় অজানায়।
আমার প্রতিটি প্রভাত এবং প্রতিটি রাতে,
তোমার সুরের অনুরননে আমার অপেক্ষা।
মৃত্যু, তুমি সকল প্রেমের শেষ স্তবক,
জীবনের রাগিণীতে শেষ মূর্ছনার তান,
তুমি সেই চিরসাথী, অদেখা আজীবন,
যে পথে হারাবো আমি, মৃত্যু তোমার নাম।
তোমার আঁধারে মেশে আলোর শিখা,
তোমার নিঃশব্দতায় বাজে প্রাণের আকুতি
তুমি সেই মুক্তির দূত, জীবনের শেষযাত্রা।
নিঃশেষের মাঝে অনন্তের সুরে বিদায়ের পদযাত্রা।
(কবিতাটি আমার লেখা নিষিদ্ধ হয়েছিল আমার বন্ধু নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া)