উস্কোখুস্কো চুলে জড়ানো
ধোঁয়া আর ঘামের মিশেলে ময়লার আস্তর।
তবু তার চোখে জলহীন এক নদীর রেখা,
যার তীরে দাঁড়িয়ে ছিল একদিন মা।
খালি পায়ের নিচে
ভাঙা কাঁচ নয়, কংকর নয়, বাবার মুখভঙ্গি,
লাল রক্তে নতুন নকশা আজ ঘরের দেয়ালে।
জানালার কাঁচে এখন রৌদ্র নয়,
আছড়ে পড়ে বারুদ।
চারদিকে আশ্চর্য মাতম।
তার ছোট্ট বোন,
মায়ের বুকে কুয়াশার মত মৃদু, শিশিরের মতো ছোট,
এখন কি পোড়া খেলনার ভেতর সে?
নাকি দেয়াল চাপায় পাখির ছায়া হয়ে গেছে?
শিশু জানে না, সে কী খোঁজে!
খাবার খুঁজছে, নাকি বাবা-মায়ের মুখ?
মাঝে মাঝে কপালের ঘাম মোছে সে।
সে কপালে যুদ্ধগল্প লিখে চলেছেন ঈশ্বর উদার হস্তে!
ধর্ম এসেছে বহুবর্ণ পতাকায়,
অথচ যুদ্ধের মুখখানা একইরকম,
গাজা, তেহরান, তেলআবিব বা ইউক্রেনে।
লাশ, কান্না, হাহাকার, বুটের তলায় মানুষের বুক,
ঈশ্বর কি সেসবের কিছুই জানেন না?
সবখানে বুলেট ছুটে গন্তব্য ছাড়া।
পরিণতি কেবল লাশ আর লাশ।
হয়তো শিশুটি হাঁটছে এক উপমার ভিতর,
যেখানে ভাঙা খেলনা মানে শব,
আর জ্বলে ওঠা দালান মানে
মায়ের চুলে লেগে থাকা আগুন।
তার পেটে ক্ষুধা নেই এখন,
আছে এক স্থায়ী শূন্যতা,
ক্ষুধায় সে ভাবতে থাকে, মাটি কি খাওয়া যায়!
রাতের আকাশে তাকিয়ে সে ঈশ্বরকে খোঁজে।
সেখানে একেকটি নক্ষত্র যেন
মারা যাওয়া বাবা মায়ের নিখোঁজ সংবাদ।
তার স্বপ্নে বোমার শব্দ ফোটে,
কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ
একটা জলজ ফুলকে ভেসে যেতে দেখে সে।
মায়ের কণ্ঠে শেষবার শুনেছিল যেটি,
ভয় পেয়ো না, আমি আছি।
এখন সে হাঁটছে,
একটি প্রশ্নের আকারে,
এবং একটি অসীম প্রশ্নকে বুকে নিয়ে।
আকাশে ঈশ্বর থাকলেও
ধ্বংসস্তূপে তিনি নেই কেন?
নাকি ধর্মের গল্পগুলোই বানোয়াট!
শিশুটি জানে না কবিতা কী,
তবু তার প্রতিটি পা
লিখে যায় একেকটি শোকের ছন্দ।
যেখানে শব্দ নয়,
নীরবতাই হাহাকারের ভাষা।
ঈশ্বর আকাশেই থাকেন,
আর জমিনে মানুষের লাশ
যুদ্ধের দামামায় একাকী শিশু উত্তর খোঁজে,
ধর্ম কি স্রেফ পরিহাস।