পাঁচতলা ভবনটা আমার বুকের উপর।
অথচ এখানেই সকল সুখ স্মৃতি।
যেখানে তখন দাদার কাঁধে চড়তাম,
আর এখন নিজের কাঁধে চাপাই আইডি কার্ড।
বাড়ির পাশে যে পুকুর ছিল,
তা এখন রেস্তোরাঁর নিচে।
খেতে বসে শুনি মাটির তলার ছলাত ছল।
এদিকে টেবিলের উপর শুধু পানির বোতল।
এটি আমার শহর না।
তবু আমি এই শহরের মতো হয়ে যাচ্ছি।
ঠোঁটে ধোঁয়া, চোখে রিংলাইট,
আত্মজীবন লিখি স্টোরিতে।
একদিন ভাবতাম,আমি বড় হলে কবি হবো।
এখন বড় হয়ে ভাবি,
পোস্টে লাইক কম কেন?
ভালোবাসা খুঁজি না, ভিউ খুঁজি।
মায়ের গলার শব্দ এখন স্রেফ নোটিফিকেশন।
বাবা, ভালো আছো?
আমি টাইপ করি, হ্যাঁ।
কিন্তু চোখের পাশে মেঘ জমে।
পাঁচতলা আমার বাড়ির ঠিকানা।
ভেতরে ভাঙনের রূপরেখা।
প্রতিদিন কিছু ইট ফসকে পড়ে,
আমার ঠোঁটে তখন মুচকি হাসি।
টাকা আসে, চলে যায় দিন।
মুখে জমে কৃত্রিম হাসির স্তর,
ফ্রিজে রুটি থাকে, অথচ মন ফাঁকা।
এই শহর খাদ্য খায়,
কিন্তু হজম করে আমার মাটি।
তুমি যদি এখন এসে আমায় দেখতে,
আমি আর সেরকম গেঁয়ো নেই।
হোয়াইট কলার চাকরি,
চলছি ইঞ্জিনের মতো, একঘেয়ে, শীতল।
কোথাও যেন আমি এখনো পড়ে আছি,
ছেলেবেলার সাইকেলের ঘণ্টায়।
রাস্তার পাশে পেঁয়াজু ভাজার গন্ধ সেখানে।
খালি পায়ের তলায় স্নেহ মাখা মাটি।
সেসবকে আবার নিয়ে আসা যায় না?
এই শহরে সবাই সবসময় ক্লান্ত।
এই পাঁচতলা বাড়িটা আমার বুকের উপর।
বড্ডো ভারি, বড্ডো ভারি, আর সইতে পারছি না।
Comments
Be this story’s first reader
+40 XPNobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.
Sign in to claimFirst reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.