আজ হঠাৎ
তুমি ফোন করে বললে,
আলকাতরার মতো কালো
একটা আকাশ চাই,
যেখানে শহরের বাতিগুলো
একটাও এসে তারাদের
চোখ ধাঁধিয়ে দেবে না।
তুমি বললে,
একটা জায়গা খুঁজে দাও বন্ধু,
হাওরের মতো বিস্তীর্ণ, অথবা
কোনো পাহাড়ের নির্জন ঢালে,
যেখানে রাত নামলে
পৃথিবীটা নিজের সমস্ত শব্দ গুটিয়ে নেবে
অন্ধকার বাতি জ্বেলে।
তুমি আমায় বললে,
তখন আমরা কোন কথা বলবো না
শুধু অন্ধকার আকাশের দিকে
তাকিয়ে থাকবো শূন্য দৃষ্টি নিয়ে
অনেকদিন তারা না দেখার তৃষ্ণা নিয়ে।
তোমার এই কাব্যিক কথাটুকু শুনে
আমার মনে হলো,
তুমি আসলে কোনো জায়গা খুজছো না,
বন্ধু, তুমি খুজছো তোমার সেই শৈশবের উঠোন; যেখানে রাত মানেই আঁধার, দূরের কোনো কুকুরের একটানা করুন ডাক; শীতল বাতাসে ধানের গন্ধ;
আর খোলা আকাশের নিচে
চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা এক ছোট্ট কিশোর।
সেই কিশোর তখনো জানত না
একদিন বড় হয়ে যাবে,
তার মাথার ওপর এত ছাদ উঠবে,
এত আলো জ্বলবে,
আকাশ ঢেকে যাবে কংক্রিটের দেয়ালে;
গাছেরা মুখ লুকাবে বালির স্তূপে;
অথচ সেই কিশোরকে একদিন
তারাদের জন্য একটুকরো অন্ধকার
খুঁজে বেড়াতে হবে;
তখন একটা তারা খসে পড়লে,
তুমি হয়তো মনে মনে কিছু চাইতে;
আর ভাবতে, আকাশ বুঝি
সত্যিই মানুষের কথা শোনে।
আজ এত বছর পর
তোমার ইচ্ছেটা শুনে মনে হলো,
সেই কিশোরের কোনো চাওয়া
এখনও পূর্ণ হয়নি।
হয়তো সে আজও
কোনো এক অন্ধকার উঠোনে
শুয়ে আছে; দুই হাত মাথার নিচে রেখে,
তারাদের গুনছে; আর অপেক্ষা করছে
কেউ একজন এসে বলবে,
“চল বন্ধু, আজ আর বাড়ি ফিরব না।
আজকের রাতটা শুধু তারাদের সাথে।”
আমরা হয়তো,
খুঁজে বের করবো
সেই উঠোন;
তা, হাওরের ধারে হোক;
পাহাড়ের কোলে হোক; অথবা
পৃথিবীর এমন কোনো প্রান্তে;
যেখানে, রাত মানে সত্যিই অন্ধকার।
আমরা দুজন
পাশাপাশি শুয়ে থাকব।
কথা হবে না খুব বেশি।
শুধু তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে
তোমার হারিয়ে যাওয়া শৈশবটাকে খুঁজবে;
আর আমি চুপ করে দেখব; তোমার চোখের ভেতর
একটার পর একটা তারা জ্বলে উঠছে।
সেদিন বুঝবো,
তারারা আসলে আকাশে হারায়নি বন্ধু;
আমরাই বড় হতে হতে আকাশ থেকে দূরে সরে গেছি।
আর যদি কোনো রাতে
তোমার চোখে জল এসে যায়;
আমি কিছু জানতে চাইবো না;
শুধু পাশে শুয়ে থাকব।
কারণ, কিছু বেদনার কোনো ভাষা হয় না;
কিছু ব্যথার কোনো চিকিৎসা নেই;
কিছু স্মৃতির কোন বিস্মৃতি নেই।