দিনের আলো নেভার আগেই ফুটপাথের সিমেন্টটা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়,
তখন এই শহরের একটা নতুন জন্ম হয়।
আমার ছেঁড়া কাঁথাটার ওপর দিয়ে দিনভর হাজারটা জুতো হেঁটে যায়।
কখনও পালিশ করা চামড়া, কখনও বা কোনো ক্লান্ত মেয়ের হাই হিল।
কেউ কোনোদিন আমার দিকে তাকায় না,
সবাই যেন কেবল একটা অদৃশ্য ঠিকানার দিকে দৌড়ে চলেছে।
কাচের জানলার ওপার থেকে কফি কাপের বাষ্পের গন্ধ ভেসে আসে।
আর এপারে আমি, খালি বাটি হাতে কুয়াশার মতো, কারো চোখে পড়িনা।
এই কংক্রিটের জঙ্গলে মানুষগুলো কত অচেনা, কত ব্যস্ত!
কারও পকেটে দামি আইফোন, কারও বুকজুড়ে কোনো গোপন ব্যাংক ব্যালেন্স,
অথচ কারও দু'মুঠো ভাতের জন্য এতটুকু সময় নেই।
এ শহর আস্ত এক লোহার রাক্ষস,
যে কেবল গিলতে জানে, আর ঘাম শুষে নিতে জানে।
ট্রাফিকের লাল আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা লাল রঙের গাড়িটার কাচ নামতেই
আমি একমুঠো চাল বা কয়েকটা খুচরো পয়সার আশা করি।
কখনও কয়েনটা পড়ার টুংটাং শব্দে বুকটা একটু জুড়িয়ে যায়,
আবার কখনও কোনো সিকিউরিটি গার্ডের জুতোর বাড়ি খেয়ে
পিছন সরে আসি অন্ধকার কোনো দেওয়ালের আড়ালে।
এ শহরের আলো যত ঝিলমিল করে,
আমার রাতগুলো তত গাঢ় কালো হয়ে নামে।
তবুও এই অদ্ভুত ইট পাথরের শহরেই আমি বেঁচে আছি,
কারো ফেলে যাওয়া রুটির টুকরো আর ট্রাফিক সিগন্যালের ধুলো গায়ে মেখে।
সবাই বলে এই নগরী নাকি সবার,
অথচ আমার কোনো ঠিকানা নেই, একটুকরো ছাদ নেই।
আমি একজন ভিখারী কিংবা এই চলন্ত ফুটপাথের এক জীবন্ত পাথর।