তুমি একটু থামো।
তোমার উত্তাল ফেনায় আমি নোঙর বাঁধব।
তুমি থামো।
একটা ঢেউ তুলে রাখো আমার বুকের ওপর।
কিংবা বালুচরের ওপর, মানচিত্রের ওপর রাখো তোমার ক্ষিপ্ত জলধারা।
তুফানভেদী এক মাতাল জাহাজ হঠাৎ যেমন নোঙর ফেলে,
তেমনভাবে নোনা হাওয়ায়, দিশাহারা নাবিকের চোখের ওপর
দিগন্তজুড়ে থমকে দাঁড়াও।
স্থির যেন নীল স্ফটিক তুমি।
এক এক ঢেউয়ে তোমায় আঁকি, ভাঙি তোমার ঔদ্ধত্য জলছটা।
নোনা জলেই কাজল গুলে, শ্যাওলা ঘষে ঘষে বানাচ্ছি বিষাদ।
তুমি একটু শোনো।
তোমার স্রোতের শব্দে আমি আরেকটু রাত নামাবো।
তুমি শোনো।
এখন তোমার প্লাবন থামিয়ে রাখো আমার শিউরে ওঠা ত্বকে।
পাহাড়ের বাঁকে, প্রবালের খাঁজে রাখো তোমার আদিম গর্জন।
বজ্রপাতের মিছিল হঠাৎ যেমন থমকে দাঁড়ায় মেঘের ভিড়ে,
তেমনভাবে নিশীথ রাতে, নিঃসঙ্গ বাতিঘরের ম্লান আলোর ওপর
অতল সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে থমকে দাঁড়াও।
স্থির যেন মহাকালের স্তব্ধতা তুমি।
এক এক তরঙ্গ শিকলে বাঁধি, ভেঙে দিই তোমার উদ্দাম গতিপথ।
সমুদ্রফেনায় রক্ত ঢেলে, মুক্তোচূর্ন দিয়ে তোমায় সাজাতে চাই।
দিগন্তের সীমা অব্দি তুমি স্থির হও,
আমার মন্ত্রপূত স্পর্শে, তুমি হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যাও এই রাতের নির্জনে।