তুমি তো জানোই, মেঘ জমে উঠলেই আকাশটা আর আগের মতো থাকে না।
পুরোনো খড়খড়ির ফাঁক দিয়ে কেবল ভিজে যাওয়া উঠোনটা দেখা যায়,
অথচ আমাদের কথা শেষ হতে হতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামে না তখনও।
আমরা দুজন পাশাপাশি বসে থাকি, কিন্তু মাঝখানে এক অচেনা নদী বয়।
তুমি বলেছিলে, কোনো একদিন একটা আস্ত শিমূলবাগান কিনে নেবে,
যেখানে কেবল ঝরা পাতার ওপর বৃষ্টি পড়ার আলতো শব্দ থাকবে।
আমি শুধু হেসেছিলাম, কারণ আমি জানতাম
এ শহরের ট্রাফিক কোনোদিন শেষ হয় না।
মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা ধুলোবালি
সহজে মোছা যায় না কোনো ভেজা রুমালে।
আমি জানি, তুমি এখন অন্য কোনো উঠোনে বসে বৃষ্টি দেখো,
তোমার হাতে হয়তো অন্য কোনো নস্টালজিয়ার বই,
নতুন কোনো মানুষের দীর্ঘশ্বাস।
আমাদের ভুলগুলো খুব একটা বড় ছিল না,
শুধু সময়টাই একটু অগোছালো ছিল।
অথবা আমরা দুজনেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম।
একই স্টেশনে নেমেও আমরা দুজন দুটো আলাদা ট্রেনের দিকে হেঁটে গেলাম।
কেউ কাউকে ধরে রাখতে পারতাম, কিন্তু অভিমানে কেউ হাত বাড়াইনি।
এখন খুব বুঝতে পারি,
ধরে রাখার চেয়ে ছেড়ে দেওয়াটাই কত সহজ ছিল!
রাতে এ শহরটায় চাঁদ দেখা যায় না।
তোমাকে চাঁদ বলে ডাকতাম।
দূর থেকে ভেসে আসে কোনো কোন রিকশার ঘণ্টা।
আমি দেশলাইয়ের একটা কাঠি জ্বেলে অন্ধকারটাকে একটু ছুঁয়ে দেখি,
অন্ধকার আর তুমি; আমার কাছে একই।
স্মৃতি তো স্মৃতিই, তোমাকে আর নতুন করে ভেবে লাভ কী?
তুমি ভালো থেকো তোমার চেনা নির্জনতায়,
তোমায় ভেবে আমার কী!