-আপনি কি করেন?
-আমি মানুষের গোপন কথা শুনি।
-গোপন কথা শুনেন মানে? সেটা আবার কেমন ধরনের কাজ?
-জ্বি, গোপন কথা শোনাও একধরনের কাজ। পৃথিবীর সব সভ্য-উন্নত দেশে সরকারি, বেসরকারি এজেন্সি থাকে যাদের অন্যতম রুটিন কাজ মানুষের গোপন কথা শোনা।
শাহেদ প্রায় আধঘণ্টা হলো লবিতে বসে আছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড: মনজুরুল ইসলামকে দেখাবে সে। সিরিয়াল নম্বর ৯। বিগত একবছর ধরে তার কানে সমস্যা। প্রায় কিছুই শুনতে পায় না। আমাদের মনে হতে পারে কানের সমস্যায় সে ইএনটি ডাক্তারের কাছে যাবে, এখানে কেন? আসলে শাহেদ এর আগে দুইজন বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছে। সব মিলে মোট পঁয়ত্রিশ হাজার সাতশ টাকার ইনভেস্টিগেশন শেষে, কিছুই পাওয়া যায়নি। ওষুধও কাজ করেনি। দ্বিতীয়জন একজন সাইকিয়াট্রিস্টকে রেকমেন্ড করেছেন। তারই চেম্বারে সে অপেক্ষা করছে।
আপাতত লবিতে বসে মনে মনে বিভিন্ন ধরনের কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছে সে।
-আপনার পছন্দের শব্দ কি, মানে কোন ধরনের শব্দ শুনতে আপনি পছন্দ করেন?
-পাখির ডাক আমার ভালো লাগে, বড় গাছের পাতার শরশর শব্দ, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ, মানবশিশুর হার্টবিট……….
-আচ্ছা বাদ দেন। আপনার সমস্যার কথা বলেন।
-শুরু থেকে বলবো?
-জ্বি, বলেন।
-সমস্যাটা শুরু হয়েছিলো গতবছর। যখন আমার করা রিপোর্টের ভিত্তিতে একজন অন্তঃসত্ত্বা ভদ্রমহিলা মারা যান অ্যাকসিডেনটালি।
-তারপর?
-তারপর থেকে আমি কানে কম শুনি। কখনো কখনো তব্দা মেরে থাকে। এখন প্রায় কিছুই শুনিনা।
-তাহলে গোপন কথা শুনেন কেমন করে?
-শুনি না। রিপোর্ট অ্যাসেম্বেল করি, অন্যান্য বাইরের কাজও করি।
-প্রথম কবে বুঝতে পারলেন, আপনি কানে শুনতে পাচ্ছেন না?
-আমার স্ত্রী গতবছর কনসিভ করেছিলেন। ডাক্তারের চেম্বারে সবাই হার্টবিট শুনতে পেয়েছে শুধু আমি পাইনি।
-তারপর?
-চারমাস পর মিসক্যারিজ হয়ে যায়।
-আচ্ছা, তারপর?
-আমি দুইজন ডাক্তার দেখাই এর মধ্যে। কানের সমস্যার সমাধান হয়নি।
কিন্তু আমার স্ত্রী আবার সন্তানসম্ভবা হয়েছেন।
মিস্টার শাহেদুর রহমান, মিস্টার শাহেদুর রহমান আছেন?
এটেন্ডেনটের লিপ রিড করে উঠে দাঁড়ায় শাহেদ। তাকেই ডাকা হচ্ছে।
লেখকের নোট: মৌলিক, অপ্রকাশিত এ আইবিহীন গল্প।