এক চিলতে রোদ্দুর আর শিউলি ঝরার দিনে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম,
তখন আমাদের বুকের ভেতরটা ছিল এক অদ্ভুত লাল ঘুড়ির আকাশ।
তুমি ছিলে রিকশার হুডের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোনো অচেনা কবিতা,
আর আমি, কেবলই এক উদাসীন পথচারী,
যে কিনা তোমার চোখের পলকের শব্দেই পাল্টে ফেলত নিজের পথ।
আমরা কত দুপুর কাটিয়েছি পুরান ঢাকার কোনো রাস্তাগুলোতে!
অথবা রমনার ছায়ায় বসে কদম ফুলের ঘ্রাণে বুঁদ হয়ে।
তখন রাষ্ট্র বা সংবিধানের চেয়েও অনেক বড় ছিল আমাদের ছোট ছোট চাওয়া;
একটা লাল টিপ, কিংবা রিকশার ঘড়ঘড় শব্দে মিলিয়ে যাওয়া মৃদু ফিসফিস।
তুমি যখন হাসতে, মনে হতো বুড়িগঙ্গার জলও বুঝি জোয়ারে কেঁপে উঠেছে,
আর আমার সব কবিতাগুলো অজুহাত খুঁজত তোমার শাড়ির আঁচল ছুঁতে।
সময় তো কাউকে ছাড়েনি, রাষ্ট্র বদলেছে, পতাকা বদলেছে,
আমাদের চুলে জমেছে পেকে যাওয়া বরফের কণা।
তবু একা একা যখন এই ব্যস্ত শহরের ফুটপাতে হাঁটি,
আজও বুকের গভীরে টের পাই সেই অপ্রকাশিত আগুন,
যে আগুন তোমার চোখের ইশারায় প্রথম জ্বেলেছিলে।
আজও যদি কোনো ভোরে হুট করে দেখা হয়ে যায় মেঘে ঢাকা আকাশের দিনে,
জেনে রেখো, সেই পুরনো রিকশা আর লাল টিপের দিনগুলো মরে যায়নি।
তারা আজও বেঁচে আছে এই তীব্র, অবাধ্য ভালোবাসার গভীরে।