হেমন্তের এই ক্লান্ত প্রহরে, পাতার ওপরে জমে থাকা শিশিরের বিন্দুতে
জ্বলে ওঠে মৃত তারার বিবর্ণ আলো, যেন ঝরে পড়া রজনীগন্ধার ক্লান্ত পাপড়ি।
সে এক স্তব্ধতা, যা চিরে দেয় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে থাকা ধুলো,
আর বাতাসের নিশ্বাসে ভেসে আসে কোনো মরা নদীর করুণ তান।
আমার আঙুল ছুঁয়ে যায় শিউলির রুক্ষ বাকল,
যেখানে খোদাই করা আছে সময়ের নিঃশব্দ ইশারা ও রূপোলি বিষাদ।
কেঁপে ওঠে সোনালী ধানের খেত,
ডুমুরের মিষ্টি রসে গলে যায় রোদ,
আর নিভৃত গহন বনে ঘুমিয়ে থাকে একাকী কোনো দোয়েলের শেষ সুর।
রূপ আর অমরত্বের এ অদ্ভুত যুগলবন্দী।
কোথাও এক ফোঁটা তীক্ষ্ণ তামাটে আলো, আবার কোথাও রেশমি উষ্ণতা।
শহর বদলায়, বন্দরগুলোর গায়ে জমে শ্যাওলার সবুজ আস্তর,
তবু নিঝুম সন্ধ্যায় রোমন্থন করি সেই আদিম সুন্দরের তীব্র বিভ্রাট।
এখন পাতার আড়ালে ঘনায়মান দীর্ঘ ছায়া,
একখণ্ড চাঁদের আলো কাটার মতো বিঁধে থাকে রাতের আকাশে।
সেখানে নেই কোনো বাহুল্য, শুধু কংক্রিটের ওপারে বাজে
অমর সৌন্দর্যের এক ম্রিয়মাণ ও শাশ্বত প্রতিধ্বনি।