এই ঘর দুয়ারের হাসি খেলায় একটা জীবন কাটিয়ে দিলাম, অথচ টের পাইনি
কখন মাথার ওপরকার আকাশটা একটু একটু করে ছোট হয়ে এসেছিল;
উদাস যুবকের মতো আমিও তো ঘড়ি দেখতে ভুলে গিয়েছিলাম,
তোমার হাতের ইশারায় কখন যে জীবনের সব হিসেব ওলটপালট হয়ে গেল।
দরজা খুললেই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে শ্রাবণের ভিজে হাওয়া,
উঠোনে পড়ে থাকে অবহেলায় ছড়ানো আমাদের কিছু পুরোনো কথা,
চায়ের কাপে জমে থাকা বিকেলের আলো, সব মিলিয়ে এই মায়াজাল;
কে ভেবেছিল, এই চার দেওয়ালের বন্দিদশাও এত সুন্দর হতে পারে?
তুমি যখন চুল বাঁধো জানালার সামনে দাঁড়িয়ে, আয়নায় কাঁপতে থাকে রোদ,
আমার সমস্ত ক্লান্তি তখন ওই একটা ফ্রেমে এসে চুপটি করে জিরিয়ে নেয়;
লোকে বলে জীবন নাকি অনেক বড়, পৃথিবীতে হাজার রঙের খেলা,
কিন্তু আমি তো এই ঘরের মায়ায় কাটিয়ে দিলাম , সবই তবে মায়ার মেলা।
যদি কোনোদিন সব আলো নিভে যায়, যদি সময় ফুরিয়ে আসে হঠাৎ করে,
তবু যেন এই ঘরের ধুলোবালি আর তোমার গলার স্বরটুকুই সঙ্গে থাকে।
জীবনের খাতাটা শূন্য থাক না হয়, তাতে কার কী এমন এসে যায়?
আমরা না হয় এমনই রইলাম, এমনই ভালোবাসায়।