এই মরা ভাগাড়ে চরে শকুনের দল আজ খুব ভালো ডিভিডেন্ড গুনছে,
কঙ্কালের মিছিলে নাম লিখিয়ে লোকাল ট্রেনের টিকিট কাটছে গণতন্ত্র;
দরজায় কড়া নাড়ছে ফ্যাকাসে একটা মফস্বলি রোদের টুকরো,
তার পকেটে লেখা আছে এই শতাব্দীর সবচেয়ে জঘন্যতম চুক্তিপত্র।
শহরের পথে পথে হেঁটে যাওয়া ক্লান্ত কুকুরটার চোখেও আজ বিপ্লবের ডাক,
অথচ টেবিলের ওপর থমকে আছে আধ খাওয়া পাউরুটি আর লাল কালির হিসেব;
কারা যেন রাতেই মুছে দিয়ে গেছে দেয়ালে লেখা ইস্তেহারের শেষ লাইনটা,
আর তার জায়গায় সেঁটে দিয়েছে ডিটারজেন্টের বিজ্ঞাপনের বিরাট একটা পোস্টার।
আমাদের লাশের মিছিলে এখন দারুণ প্রফিট, স্টক এক্সচেঞ্জে বাড়ছে দাম,
বুভুক্ষু পেটগুলো সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কোনো এক ভন্ড দাসের লাইনে;
সংসদের এসি ঘরে বসে কেউ একজন খুব যত্নে চিবোচ্ছে মানুষের কাঁচা মাংস,
আর টেবিলের নিচে পড়ে ছটফট করছে এই ভূখণ্ডের পোড়ামাটির নাড়িভুঁড়ি।
ভোর হতে না হতেই পেপার, হকারটা ব্রেকিং নিউজ ছুড়ে দিয়ে যায় দরজায়,
আজও কেউ বেঁচে নেই, সবাই খুব ভালো আছে, নিয়ম মেনেই চলছে দেশ!
তাসের ঘরের মতো ধসে পড়া এই বজ্জাত সমাজের মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে
অন্ধকারের বুক চিরে হেঁটে যাক আমাদের চিরকালের হাহাকারের চিৎকার।