“তুমি আছ? শুনতে কি পাও আমার ডাক? নাকি নেই?”
“তোমার অন্তর কী বলে? চারি পাশের দর্শন কী বলে? জ্ঞান কী বলে?
ধ্যান করেছিলে কখনো? মনের মনে ডুব দিয়েছিলে? বাতাস দেখেছ কি?
আকাশের দিকে তাকাও—আবার তাকাও—খুঁত দেখতে পাও?
জমিনে দেখো, খালের পাড়—পাহাড়পর্বত—ক্ষুদ্র নদীনালা হতে সমুদ্র—দেখেছ?
আসমান-জমিনে কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখতে পাও?
আমি না থাকলে এসব শৃঙ্খলাবদ্ধ কীভাবে? তুমি কোত্থেকে এলে? কেন এলে?
তোমার এই এত সুন্দর—এত সুশ্রী অবয়ব অন্যকোনো জীবে আছে?
ভাবো, দেখো—দেহের গঠন যদিওবা এক—আমি সুশ্রী বলে মানবজাতি সুন্দর
কীটপোকার দিকে তাকাও—বিশ্রী ও ভয়ংকর জন্তুটিকে দেখো
পরিবর্তনের ফলে তুমি কি হতে পারতে না ওসব বিশ্রী কীটপতঙ্গ? জীবজন্তু?”
“তারা বলে—কোটি কোটি বছর ধরে বিবর্তনে আজকের রূপান্তর!”
“কাঁচ ভেঙে কোটি বছরে জোড়া লাগে?
তারা এই জ্ঞান পেল কীভাবে? কে দিয়েছে তাদের এই চিন্তাশক্তি?
তারা কীসে গবেষণা করে? আমার কিতাব পড়েনি? মানে না? বিশ্বাস করে না?
নবিগণ কেমন? নবিরাসুলদেরকে তাদের পূর্বপুরুষেরা দেখেনি? মেলামিশা করেনি?
জিব্রাইল কে? নবিরা তো তাকে দেখেছে? কী? দেখেনি? কথোপকথন হয়নি তাদের?
বিবর্তনের ফলে তারা যা মানবরূপান্তর ধারণা করছে সেটা তাদের অলীক কল্পনা
এদের কিছু সংখ্যক বিলুপ্ত হলেও বেশিরভাগ এখনো বিদ্যমান—চারি দিকে চোখ ঘুরিয়ে দেখো
বীজ খুবই ক্ষুদ্র—যখন প্রকাণ্ড মহীরুহরূপ ধারণ করে তখন বীজের নিশানা থাকে? থাকে না
কোথায় খুঁজে পাবে তুমি এই গাছটি যে ক্ষুদ্র একটা বীজ ছিল?
বীজের প্রমাণ না পেলে বলবে—এটা এমনি এমনি হয়ে গেল?
তোমার স্রষ্টার সৃষ্টিও এমন একটা ক্ষুদ্র বীজে...ওতপ্রোতভাবে বিন্দুতে ছিল...”
“তা হলে দুঃখ কেন চিরস্থায়ী? সুখ কেন ক্ষণস্থায়ী? শান্তি কী? কীভাবে মিলে?”
“তোমার দুঃখ আছে? সুখ কি একটুও পাওনি জীবনে?
শান্তি কী তুমি বলো? কীভাবে মিলতে পারে তোমাকে তো জ্ঞান দেওয়া হয়েছে—চিন্তা করো
সুখদুঃখ, রোগশোক, শান্তি-অশান্তি, অভাব-অনটন না থাকলে তুমিও কি মানতে আমি আছি?
শান্তি বলে দুনিয়াতে ভোগের কোনো পণ্য নেই, এটা জন্নাতেরই অংশ—কিছুটা দুনিয়াতে মিলে
হাঁ, সুখদুঃখ ও রোগশোক দুনিয়ারই বস্তুবিশেষ
তোমরা জান্নাতি হও শান্তি অনুভব করতে পারবে
আমি আছি বললে তোমারই লাভ, আমি নেই বললে আমার কোনো ক্ষতি নেই
তোমাকে চক্ষু, নাককান, কণ্ঠ, অন্তর দেওয়া হয়েছে, জ্ঞান ও বুদ্ধিবিবেক দেওয়া হয়েছে
তুমি চিন্তা করে দেখো—এখানে তুমি চিরস্থায়ী কি না? হতে পারবে?
তোমাকে মাথাখাটানোর দক্ষতা দেওয়া হয়েছে বলে নিজেকে ভেবো না তুমি প্রকাণ্ড...”
“এই যে দেশে দেশে যুদ্ধ চলছে—
এত নরনারী, শিশু, বৃদ্ধবৃদ্ধা—নিরীহ মানুষজন মরছে—মারা যাচ্ছে
তুমি কি তাদের প্রতি একটুও সদয় হবে না?
তুমি চাইলে তো সবকিছু মুহূর্তের মধ্যেই রুখে দিতে পারো?
অন্যায়কারী ও জুলুমবাজকে ধ্বংস করে দিতে পারো? পারো কি না?”
“আমার জন্যে কিছুই অসম্ভব না—সুযোগ দেওয়া আমার নীতি—ছেড়ে দেওয়া না
আমার কোনো ধর্ম নেই—তুমি ভালো করলে সেটা তোমার ধর্ম—আমার কাছে গ্রহণযোগ্য
আমি গুটিয়ে নেব একদিন সব আমার মুঠে
মানুষের কল্যাণে আমি সৃষ্টি করেছি সব—মানুষকে ভালোবেসেছি বলে
মানুষ ক্ষণকালের জীবন পেয়ে আমাকেই অস্বীকার করলে—নিজেকে ভেবে নিলে স্বয়ম্ভু
তোমরা মনে করছ আমি কোথাও নেই? এমনি এমনি হয়ে যাচ্ছে সব?
যুদ্ধক্ষেত্রে আমি নেই? ধ্বংসের লীলাভূমিতে আমি নেই? আমি সঙ্গ দিই জুলুমবাজের?
নীরব থাকি অন্যায় দেখে? বিচার করি শুধুই নিরীহের?
তোমরা কি মনে করো আমি নাইনসাফি করি সবখানে? মোটেই না—
কামড় তো একটা পিঁপড়ায় দেয়...মানুষের কর্মদোষেই মানুষকে আমি ত্যাগ করি...”