মানুষের ভীড়ে 'মৃত্যু' খুঁজে বেড়াই- ছিল আমার প্রিয়জন, তিনি আপন!
ইলফোর্ড লেনে নানান দেশের মুখাবয়বের অভিব্যক্তিতে কোথায় সে-
সড়কের শেষ বাড়িটি 'মেম্বারবাড়ি' নামেই পরিচিত নয়ানগর গ্রামে;
ঐতো দেখা যাচ্ছে উকুন বসায় গিয়াস, আমার বাবার বড় ভাই হিজল তলে,
জুট মিলে সারাদিন পরিশ্রম করে এসেছেন, খালি গায়ে গামছা হাতে-
দাঁতে গুল মাজন করছেন, মাগরিবের আগেই হাজী বাড়ির পুকুরে গোসল সারবে।
আমি তখন সদ্য কৈশোরে, জেঠিমার সাথে এক আনসার ক্যাম্পে গেলাম।
নয়নতারার মত সুন্দরী জেঠিমার স্বামী আনসারের পোশাকে এগিয়ে আসে-
গিয়াস, আমার বাবার বড় ভাইকে দেখে আমার বন্ধুর মতো লাগে।
তাঁরা স্বামী স্ত্রী যত্ন-আদরে আমার কৈশোরকে আপ্যায়ন করলো!
একদিন কাইকারটেক হাঁটে যাচ্ছি আমার প্রিয় জ্যাঠার সাথে, গিয়াস উদ্দিন!
আমি যেনো হাঁটে তলিয়ে না যাই কাঁধে তুলে নিলেন, কিনে দিলেন কটকটি।
সুঠাম দেহে পাখির মতো বয়ে হাঁটের এপ্রান্ত ওপ্রান্ত দেখালেন বর্ণনা করে।
নয়ানগর তখন বিদ্যুৎবিহীন, মাঝরাতে আমার ঘুম ভাঙতো অজানা ভয়ে-
জ্যাঠা আসতো আমার কান্না শুনে, বাবাকে বলতো- বাবুল, জাবেরকে নিয়ে আয়!
জ্যাঠা-জেঠির সাথে কতরাত এমন আমার, তাঁদের ওমে ভয় কেটে যেতো-
হারিকেনের নিভু নিভু আলো মশারীর ঐপাড়ে, নয়ানগর বিদ্যুৎবিহীন।
ঝলমলে লন্ডনের আলো থেকে আজ সুদূর মাটির গ্রামটি দেখি- মিটিমিটি জেগেছিল;
ইলেকট্রিসিটির ছোঁয়া, মেম্বার বাড়িটিতেও নিয়ন আলোয় হারিকেন নিভে গেছে।
তদানিন্তন সময়ের গোমরে ফেঁসে গেল একদিন গিয়াস, অশিক্ষা নয় অজ্ঞতা;
বহুল কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ-ই কেড়ে নিল নিঃশ্বাসের শেষটুকু, বর্ষার জল থইথই চারিদিকে।
মাত্র আটদিন আগে সতের শ্রাবণে আমার সাথে জ্যাঠার দেখা বন্দর বাজারে-
পরীক্ষার ফলাফলে খুশি হয়ে বলেছিলেন- মানুষ হইয়ো বাবা!
আমি আবেগের গোপন কুঠির থেকে আমার নায়কটিকে দেখলাম-
গিয়াসের মনটা কেমন উদাস লাগলো!
পেটানো শরীরটা সেদিন নিরবে হেঁটে মিলিয়ে গেলো গার্লস স্কুলের মোড়ে।
শেষ সাক্ষাৎ!
এরপর আসে সেই ক্ষণ- কতদিন ভেবেছি চিত্র-শিল্পী হলে ছবিটা এঁকে রাখতাম-
গিয়াসের মৃত গালে কপালে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিচ্ছে আবার বাবা- ভাই কথা কও!
নাহ্, কাঁদছি কেন- লন্ডনের রাস্তা উন্নত, হাঁটতে হাঁটতে কাঁদা যাবেনা!
মানুষের ভীড় ভেঙে স্টেশনে চলি- খুজি আমার প্রিয়জন, মৃত্যু - তিনি আমার আপন।
২২.০১.২০২৬
ইলফোর্ড ও বার্কিং
Comments
First reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.
-
-
অনেক সুন্দর লিখেছেন। পড়ে অনেক ভালো লাগলো। অনেক অনেক শুভকামনা। সামনে এরকম আরো কিছু লেখা চাচ্ছি।