আগুনের প্রথম শিখা
কলেজের মাঠে ফুটবল খেলা চলছিল। রোদ ঝলসে পড়ছিল ঘাম-মাখা মুখে, খেলোয়াড়রা দৌড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু অরিন্দমের চোখ বারবার চলে যাচ্ছিল গ্যালারির দিকে।
সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণী, সাদা ওড়নায় মোড়া, মুখে হালকা হাসি। তার চোখে যেন অদ্ভুত উজ্জ্বলতা, চুলের এক ঝলক রোদে ঝলমল করছে। অরিন্দমের ধড়ফড় করছে, কিন্তু সে চেষ্টা করছে নিজেকে শান্ত রাখার।
বন্ধু বিকাশ থামিয়ে বলল—
—“এই ক্যাপ্টেন, গোলের দিকে মন দে না, ওইদিকে তাকিয়ে কী দেখছিস?”
অরিন্দম হাসল, মুখে কিছুই বলল না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঠিক করে ফেলল—যেভাবেই হোক, তাকে অবশ্যই চিনতে হবে।
খেলার পরদিন অরিন্দম লাইব্রেরির দিকে যায়। সে জানে, মেয়েটি প্রায়ই সেখানে বই পড়তে আসে। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে বলল—
—“শোনো, তুমি কি এখানে সবসময় পড়তে আসো?”
মধুমিতা চমকে তাকাল, হাতে বই ধরে বলল—
—“হ্যাঁ, প্রাইভেসি পছন্দ। তুমি কে?”
—“আমি অরিন্দম। তোমার সাথে বই নিয়ে কথা বলতে চাই।”
মধুমিতা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর হেসে বলল—
—“ভালো, তাহলে দেখি তুমি কতটা বইপাগল।”
এই ছোট্ট কথাবার্তাই ছিল তাদের পরিচয়ের শুরু।
পরের সপ্তাহগুলোতে তারা প্রায়ই দেখা করতে লাগল। কখনও স্যান্ডউইচ ভাগ করে খাওয়া, কখনও কলেজের ছাদে বসে সান্ধ্য আলোতে গল্প বলা। তাদের মধ্যে জন্ম নিল অদ্ভুত এক বন্ধুত্ব, যেখানে অনুভূতি মিশে গেছে ধীরে ধীরে।
একদিন রাস্তায় হঠাৎ অরিন্দম বলল—
—“মধু, আমি জানি হয়তো হঠাৎ বলছি, কিন্তু আমি চাই তুমি জানো, তোমাকে না দেখলে আমার দিন অসম্পূর্ণ লাগে।”
মধুমিতা হেসে বলল—
—“তুমি সবসময় এমন হঠাৎ কথা বলো নাকি?”
অরিন্দমের মুখে হালকা হাসি, চোখে অদ্ভুত উষ্ণতা।
এই মুহূর্তে তারা দুজনেই বুঝতে পারল, তাদের মধ্যে শুধু বন্ধুত্ব নয়, কিছু গভীর আবেগ জন্ম নিয়েছে।
মহল্লার ছোট্ট রিকশা ভরা রাস্তার মোড়ে বসে তারা দুজনের কথা চলল রাতভর। অরিন্দম বলল—
—“একদিন আমরা একসাথে থাকব, নিশ্চয়ই। তুমি ছাড়া আমি কিছু ভাবতেই পারি না।”
মধুমিতা হেসে বলল—
—“হয়তো একদিন। তবে এখন শুধু এই মুহূর্তের আনন্দ উপভোগ করি।”
(চলবে)