✨ স্টেথোস্কোপে লেখা তুমি - পর্ব ৩ ✨
#আফরা আনাম #স্টেথোস্কোপে লেখা তুমি #পর্ব১
ওই রুম থেকে বের হয়ে আমি ভাইয়ার কেবিনে চলে আসলাম। একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা ভাবছিলাম। বুকের ভেতরটা তখনও কাঁপছিল। ঘাড়ে হাত দিলেই তার ছোঁয়াটা মনে পড়ছিল। এর ভেতরে ভাইয়ার রুমে আগমন ঘটলো।
*ইয়াশ ভাইয়া:* কিরে বুড়ি, আজ হঠাৎ খাবার নিয়ে আসলি?
*আমি:* এমন ভাবে বলছিস যেন আমি তোর কেয়ার করি না।
*ইয়াশ ভাইয়া:* আরে মজা করছি। মুখটা এমন করিস না, তুই রাগ করলে তো আমারই কষ্ট হয়।
*আমি:* হয়েছে, ঢং করিস না। খাবার খা।
*ইয়াশ ভাইয়া:* তুই খাবি না?
*আমি:* না, বাসায় যাবো, ভালো লাগছে না।
*ইয়াশ ভাইয়া:* কি হইছে? বল ভাইয়াকে।
*আমি:* কিছু না, এমনি।
*ইয়াশ ভাইয়া:* আচ্ছা, সাবধানে যাবি।
*আমি:* আচ্ছা।
আমি ভাইয়ার থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। হাসপাতালের করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় বার বার পেছনে তাকাচ্ছিলাম। যদি তিনি আবার কোথাও থেকে চলে আসেন? কিন্তু কেউ আসলো না।
বাসায় এসে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। চোখ বন্ধ করলেই শুধু তার মুখটা ভাসছিল। রাগী চোখ, আবার সেই যত্ন করে মলম লাগিয়ে দেওয়া। মানুষটা আসলে কেমন? যে হাত দিয়ে কষ্ট দিলো, সেই হাত দিয়েই আবার মলম লাগিয়ে দিলো।
ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গেছি জানি না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল। ফোনটা হাতে নিয়ে তার আইডিটা খুঁজলাম। তার কোনো ছবি নেই। তবুও বার বার তার প্রোফাইলে ঢুকছিলাম। নিজের ওপরই রাগ হচ্ছিল। কেন আমি এত বেহায়া? যে মানুষটা আমাকে শুধু বকে, তার জন্য কেন আমার এত মায়া?
আমি ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ৯:১৭। এটা দেখে তো আমি লাফিয়ে উঠলাম! আজ তো স্যারের ক্লাস! তাড়াহুড়ো করে রেডি হয়ে, না খেয়েই দৌড় দিলাম।
ক্লাসে ঢুকতেই সবাই তাকিয়ে আছে। সামনে দাঁড়িয়ে তিনি।
*স্যার:* এত লেট কেন?
*আমি:* সরি স্যার, ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়ে গেছে।
*স্যার:* রাতে কি চুরি করতে যাও? যাও গিয়ে বসো।
সবার সামনে বকা খেয়ে চোখে পানি চলে আসলো। আমি চুপ করে বসে পড়লাম। তিনি পড়াচ্ছেন, আমি শুধু তার দিকেই তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছিল চিৎকার করে বলি, কাল রাতে আপনি আমাকে কাঁদিয়েছেন, আজ আবার সবার সামনে কাঁদালেন। আপনার মন কি একটুও পোড়ে না?
ক্লাস শেষে সবাই বের হয়ে গেল। আমি ইচ্ছে করে আস্তে আস্তে খাতা গুছাচ্ছিলাম।
তিনি বের হয়ে যাচ্ছিলেন, আমি পেছন থেকে ডাকলাম।
*আমি:* স্যার!
তিনি থেমে গেলেন।
*আমি:* কালকের জন্য... থ্যাংকস। মলমের জন্য।
তিনি আস্তে করে তাকালেন। চোখে আর রাগ নেই, কেমন একটা অপরাধবোধ।
*স্যার:* ঘাড়ে এখনও ব্যথা আছে?
*আমি:* না।
*স্যার:* হুম। ঠিক আছে।
আমার বুকটা ধক করে উঠলো। এতটুকুই? আর কিছু বলবেন না?
*আমি:* আপনি কেন রাগ করেন স্যার? আমি তো আপনার কেউ না।
*স্যার:* ঠিকই বলছো। তুমি আমার কেউ না। আর কেউ না বলেই এইসব কথা ক্লাসের বাইরে বলতে এসো না। তোমার পড়াশোনায় মন দাও।
বলেই তিনি চলে গেলেন। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।
তার বলা কথাটা বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধলো। আমি তো তার কেউ না, এটা আমি নিজেই বলেছিলাম। তবুও তার মুখ থেকে শুনতে এত কষ্ট কেন লাগলো? কাল রাতে যে মানুষটা এত যত্ন করলো, আজ সেই মানুষটাই বললো আমি তার কেউ না।
তাহলে কালকের ওই যত্নটা কি ছিল? শুধুই দায়িত্ব? নাকি অপরাধবোধ?
চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়লো। আমি তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিলাম। কেউ দেখে ফেললে আবার কি না কি ভাববে।
ভালোবাসা যে এত কষ্টের হয়, সেটা আমি আজ বুঝলাম।
*আমি কি সত্যিই তার কেউ না? নাকি সে ইচ্ছে করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে?* 🫣
*[চলবে...]* ✨