FF.
Chapter-1 নতুন শুরুর অপেক্ষা Book page

Chapter 1

Chapter-1 নতুন শুরুর অপেক্ষা

Sep 25, 2026 5 min read

📖 I WILL KEEP YOU SAFE

Chapter– ১

নতুন শুরুর অপেক্ষা

জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন মানুষ শত চেষ্টা করেও নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না। যতই চেষ্টা করুক না কেন, প্রতিবারই তাকে ফিরে আসতে হয় শূন্য হাতে।

আহমেদের জীবনটাও যেন ঠিক তেমনই হয়ে গিয়েছিল।

সকালের নরম রোদ জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকছিল। ছোট্ট দুই রুমের ফ্ল্যাটটির এক কোণে বসে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল আহমেদ।

তার সামনে খোলা ছিল বিভিন্ন চাকরির ওয়েবসাইট।

একটার পর একটা কোম্পানিতে সে আবেদন করে যাচ্ছিল।

"Application Submitted."

স্ক্রিনে ভেসে ওঠা লেখাটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

এটা ছিল আজকের ত্রয়োদশ আবেদন।

কিন্তু তার মন বলছিল, আগের বারগুলোর মতো এবারও হয়তো কিছু হবে না।

ফটোগ্রাফি ছিল তার নেশা, স্বপ্ন আর ভালোবাসা। কিন্তু শুধুমাত্র স্বপ্ন দিয়ে তো আর সংসার চলে না।

আহমেদ মাথা ঝাঁকিয়ে আবার নতুন একটি কোম্পানির বিজ্ঞাপন খুলল।

হঠাৎ একটি আর্টিকেলে তার চোখ আটকে গেল।

আর্টিকেলের উপরে ছিল একজন নারীর ছবি।

তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ছবিতে মেয়েটির মুখ দেখা যাচ্ছিল না। শুধু তার পেছনের অংশ দেখা যাচ্ছিল।

লম্বা কালো চুল, কালো পোশাক আর এক ধরনের রহস্যময় উপস্থিতি।

ছবির নিচে বড় বড় অক্ষরে লেখা—

"Aurora Black Widow"

অনেক কষ্ট করে ইংরেজি নামটা পড়ে আহমেদ ভ্রু কুঁচকে বলল,

— "এটা আবার কেমন নাম?"

সে কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

কেন জানি না, মেয়েটির মধ্যে এক ধরনের অদ্ভুত রহস্য লুকিয়ে আছে বলে মনে হলো তার।

কিন্তু পরক্ষণেই মাথা নাড়িয়ে সে আর্টিকেলটি বন্ধ করে দিল।

একজন অচেনা নারীকে নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করার মতো সময় তার হাতে নেই।

কারণ তার এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটা চাকরি।

আর চাকরি ছাড়া তার আর আমাতুল্লাহর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

আমাতুল্লাহ।

মেয়েটির কথা মনে পড়তেই আহমেদের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।

এই পৃথিবীতে তার নিজের বলতে একমাত্র মানুষ তার ছোট বোন।

মা অনেক আগেই মারা গেছেন। আর বাবার কথা মনে পড়লে এখনো বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে আসে।

মাথার ভেতর পুরোনো স্মৃতিগুলো ভিড় করার আগেই আহমেদ ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল।

আজ আর কোনো কাজ হবে না।

---

পরদিন সকাল

আহমেদ তখনও ঘুমিয়ে ছিল।

হঠাৎ ফোনের তীব্র রিংটোনে তার ঘুম ভেঙে গেল।

ঘুম জড়ানো চোখে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।

আমাতুল্লাহ কলিং...

ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো চেনা কণ্ঠ।

— "আসসালামু আলাইকুম, ভাইয়া!"

আহমেদ হেসে বলল,

— "ওয়ালাইকুমুস সালাম। কী খবর?"

ওপাশ থেকে উত্তেজিত কণ্ঠে আমাতুল্লাহ কিছু একটা বলল।

কথাটা শুনে আহমেদ বিছানা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠল।

— "সত্যি? আচ্ছা, আমি এক্ষুনি আসছি!"

ফোন কেটে দিয়েই সে দ্রুত তৈরি হতে শুরু করল।

কারণ অনেকদিন পর তার জীবনে হয়তো নতুন কোনো সুযোগ আসতে চলেছে।

---

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট পর আহমেদ একটি বিশাল বিল্ডিংয়ের সামনে এসে দাঁড়াল।

বিল্ডিংটি এতটাই বড় যে, এক নজরে পুরোটা দেখা সম্ভব নয়। চকচকে কাঁচে মোড়ানো বিশাল ভবনটির সামনে বড় বড় অক্ষরে লেখা—

Black Widow Enterprises

নামটা দেখেই আহমেদ থমকে গেল।

কেন যেন নামটা তার খুব পরিচিত মনে হচ্ছে।

সে ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ নামটার দিকে তাকিয়ে রইল।

— "কোথায় যেন দেখেছি নামটা... কিন্তু কোথায়?"

ঠিক তখনই পেছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো—

— "আহমেদ ভাইয়া!"

আহমেদ পেছন ফিরে দেখল, আমাতুল্লাহ হাসিমুখে তার দিকে এগিয়ে আসছে।

অনেকদিন পর বোনকে দেখে তার মুখেও হাসি ফুটে উঠল।

সে এগিয়ে গিয়ে আমাতুল্লাহকে জড়িয়ে ধরল।

— "কেমন আছিস?"

— "আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। তুমি?"

— "আমিও ভালো আছি।"

কিছুক্ষণ গল্প করার পর আহমেদ বলল,

— "আচ্ছা, এবার বল তো, হঠাৎ এত জরুরি তলব কেন?"

আমাতুল্লাহ দুষ্টু হেসে বলল,

— "এত তাড়াহুড়া কিসের? আগে ভেতরে চলো।"

আহমেদ আবারও বিল্ডিংয়ের নামের দিকে তাকাল।

— "আচ্ছা শোন, এই নামটা কোথায় যেন দেখেছি। ঠিক মনে করতে পারছি না।"

আমাতুল্লাহ অবাক হয়ে বলল,

— "কোন নাম?"

আহমেদ সাইনবোর্ডের দিকে ইশারা করল।

আমাতুল্লাহ হেসে ফেলল।

— "আরেহ ভাইয়া, এটা তো আমাদের কোম্পানির নাম! আমাদের বসের নাম থেকেই কোম্পানির নামটা রাখা হয়েছে।"

— "ওহ!"

— "চলো, দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

আহমেদ আর কিছু না বলে বোনের সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করল।

ভবনের ভেতরে ঢুকেই আহমেদ বিস্ময়ে চারপাশ দেখতে লাগল।

মার্বেল পাথরে মোড়ানো বিশাল লবি, অত্যাধুনিক সাজসজ্জা আর কর্মচারীদের ব্যস্ত চলাফেরা দেখে বোঝাই যাচ্ছে কোম্পানিটি কতটা বড়।

রিসেপশনের সামনে দাঁড়াতেই সবাই আমাতুল্লাহকে সম্মান জানিয়ে সালাম দিল।

বিষয়টা দেখে আহমেদ অবাক হয়ে বলল,

— "তুই এখানে বেশ জনপ্রিয় মনে হচ্ছে।"

আমাতুল্লাহ হেসে বলল,

— "এতদিন ধরে কাজ করছি, তাই সবাই চেনে।"

কথা বলতে বলতে তারা লিফটে উঠে গেল।

লিফট থেকে নেমে আমাতুল্লাহ আহমেদকে একটি বড় স্টুডিওর সামনে নিয়ে এলো।

ভেতরে কয়েকজন কর্মচারী ব্যস্তভাবে বিভিন্ন সেট সাজাচ্ছিল।

আমাতুল্লাহ বলল,

— "আসলে আজ কোম্পানির নতুন ক্যাম্পেইনের জন্য ফটোশুট হবে। আমাদের একজন ফটোগ্রাফার জরুরি কাজে বাইরে চলে গেছে। তাই আমি তোমার কথা বলেছি।"

আহমেদ কিছুটা অবাক হয়ে বলল,

— "তুই আগে বলিসনি কেন?"

— "বললে যদি না আসতে?"

আহমেদ মুচকি হেসে মাথা নাড়ল।

— "পাগলি একটা।"

ঠিক তখনই মাঝবয়সী একজন ভদ্রলোক তাদের দিকে এগিয়ে এলেন।

আমাতুল্লাহ সম্মানের সঙ্গে বলল,

— "স্যার, এ হচ্ছে আমার ভাই আহমেদ।"

ভদ্রলোক হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে দিলেন।

— "আমি রাশেদ, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর। তোমার কাজের কিছু নমুনা দেখেছি। বেশ ভালো লেগেছে।"

আহমেদ ভদ্রভাবে বলল,

— "ধন্যবাদ, স্যার।"

রাশেদ বললেন,

— "আজকের ফটোশুটটা ভালো হলে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগও থাকতে পারে।"

কথাটা শুনে আহমেদের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।

স্থায়ী চাকরি!

এটাই তো সে এতদিন ধরে খুঁজছে।

রাশেদ আবার বললেন,

— "তাহলে শুরু করা যাক?"

আহমেদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা নাড়ল।

— "জি, স্যার।"

এরপর সে নিজের ক্যামেরা হাতে নিয়ে কাজে নেমে পড়ল।

কাজের সময় সে যেন সম্পূর্ণ অন্য মানুষ হয়ে যায়।

ক্যামেরার লেন্সের ওপাশে থাকা পৃথিবীটাই যেন তার আসল পৃথিবী।

প্রায় দুই ঘণ্টা টানা কাজ করার পর ফটোশুট শেষ হলো।

সব ছবি কম্পিউটারে ট্রান্সফার করে রাশেদের কাছে দেওয়া হলো।

রাশেদ মনোযোগ দিয়ে ছবিগুলো দেখতে লাগলেন।

একটার পর একটা ছবি দেখে তার চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল।

কিছুক্ষণ পর তিনি মুখ তুলে বললেন,

— "ইমপ্রেসিভ!"

আহমেদ কিছু বলল না।

সে শুধু অপেক্ষা করতে লাগল।

রাশেদ হাসলেন।

— "আমাদের সিদ্ধান্ত তোমাকে খুব দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে।"

আহমেদ মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

কিন্তু তার মন জুড়ে তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—

সে কি সত্যিই এই চাকরিটা পাবে?

আর সে তখনও জানত না, এই চাকরির দরজায় পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তার জীবনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত অধ্যায়ের শুরু হয়ে গেছে।

চলবে...

Picked up where you left off

Conversation

(0)

Log in to join the conversation.

No comments on this chapter yet.