📖 I WILL KEEP YOU SAFE
Chapter – ১৫
অদৃশ্য পরিবর্তন ও অপ্রত্যাশিত ঝড়
নাহিদের আগমনের পর প্রথম কয়েকদিন অফিসের পরিবেশ কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল।
তবে আহমেদ যথাসম্ভব তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল।
সে নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকত।
অন্যদিকে, Aurora-ও আগের তুলনায় প্রায়ই স্টুডিওতে আসতে শুরু করেছিল।
প্রথমে কেউ বিষয়টা খেয়াল না করলেও ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে শুরু করল, তাদের বসের স্টুডিওতে আসার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।
তবে সেই কারণটা একমাত্র Mary-ই জানত।
আর Mary প্রতিবারই মুচকি হেসে বিষয়টা উপভোগ করত।
এদিকে, আহমেদ আর Aurora-র সম্পর্কও ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল।
আগের মতো আর আহমেদ Aurora-কে দেখলেই কাঁপতে শুরু করত না।
যদিও ভয়টা পুরোপুরি যায়নি, তবুও এখন সে অন্তত স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারত।
প্রায় প্রতিদিনই Aurora কোনো না কোনো অজুহাতে আহমেদের সাথে দেখা করত।
কখনো নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা, কখনো আরিয়ানের ব্যাপারে পরামর্শ, আবার কখনো শুধুই কফি খাওয়ার জন্য।
একদিন কফি খাওয়ার সময় আহমেদ হেসে বলল,
— "আপনি জানেন, অফিসে সবাই আপনাকে অনেক ভয় পায়?"
Aurora নির্বিকার মুখে বলল,
— "তুমিও কি ভয় পাও?"
আহমেদ কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
— "আগে খুব পেতাম। এখন... একটু কম পাই।"
Aurora ভ্রু তুলে বলল,
— "অর্থাৎ এখনো পাও?"
আহমেদ হেসে বলল,
— "আপনি চাইলে আমি সত্যিটা না-ও বলতে পারি।"
কথাটা শুনে Aurora-র ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা Mary মনে মনে বলল,
"আমাদের বস সত্যিই বদলে যাচ্ছে।"
কয়েক সপ্তাহ এভাবেই কেটে গেল।
এখন Aurora প্রায়ই আহমেদের জন্য চকলেট পাঠাত।
আর আহমেদও মাঝে মাঝে Aurora-র জন্য কফি নিয়ে যেত।
তবে তাদের এই অদ্ভুত বন্ধুত্বের কথা অফিসে আর কেউ জানত না।
সবাই শুধু এটুকুই জানত যে, তাদের কঠোর বস অজানা কোনো কারণে নতুন ফটোগ্রাফারটিকে বেশ গুরুত্ব দেন।
আর এই বিষয়টাই সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করছিল নাহিদকে।
সে দূর থেকে আহমেদ আর Aurora-কে একসাথে কথা বলতে দেখে মুষ্টিবদ্ধ হাত শক্ত করে ফেলল।
তার চোখে স্পষ্ট ঈর্ষা আর রাগ ফুটে উঠল।
সে নিচু স্বরে বলল,
— "দেখি, কতদিন এভাবে চলতে পারো, আহমেদ..."
নাহিদের চোখের সেই দৃষ্টি যেন ভবিষ্যতের কোনো অশুভ ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল।
কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই পুরো অফিসে একটা খবর ছড়িয়ে পড়ল।
আহমেদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
খবরটা শুনে পুরো স্টুডিও স্তব্ধ হয়ে গেল।
আমাতুল্লাহ বিশ্বাসই করতে পারছিল না।
আরিয়ানও অবাক হয়ে বলল,
— "হঠাৎ করে কেন?"
কিন্তু কেউই স্পষ্ট কোনো কারণ জানত না।
অফিসের সবাই শুধু এটুকুই জানত, নতুন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর নাহিদের সিদ্ধান্তেই এই কাজটা হয়েছে।
নিজের ডেস্ক গুছিয়ে নীরবে অফিস থেকে বেরিয়ে এল আহমেদ।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সে কোনো প্রতিবাদ করল না।
কারণ, সে নিজেও বুঝতে পারছিল না তার ভুলটা কোথায় ছিল।
বাসায় ফিরে সে চুপচাপ সোফায় শুয়ে রইল।
তার মাথায় বারবার একই প্রশ্ন ঘুরছিল—
"আমি কী ভুল করেছি?"
ঠিক তখনই তার ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল—
আমাতুল্লাহ কলিং...
ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে আমাতুল্লাহ বলল,
— "ভাইয়া, তোকে তো ফায়ার করে দিল! এখন কী করবি?"
আহমেদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— "ভাবছি, একটা সলো ট্রিপে যাব।"
— "সলো ট্রিপ?"
— "হ্যাঁ। অনেকদিন কোথাও যাওয়া হয়নি। হয়তো একটু ঘুরে আসলে মনটা ভালো হবে।"
আমাতুল্লাহ উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
— "তুই ঠিক আছিস তো?"
আহমেদ হালকা হেসে বলল,
— "আমি ঠিক আছি, পাগলি। এত চিন্তা করিস না।"
কিন্তু তার নিজের কাছেই কথাটা পুরোপুরি সত্যি মনে হলো না।
ফোন রেখে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল আহমেদ।
তারপর জানালার বাইরে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
একটা চাকরি হারানো তার জন্য নতুন কিছু নয়।
কিন্তু এবার কেন যেন কষ্টটা একটু বেশি লাগছিল।
হয়তো কারণ, এই অফিসের সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে গেছে।
হয়তো কারণ, সে কিছু মানুষকে মিস করবে।
আর হয়তো...
একজন বিশেষ মানুষকেও।
ঠিক তখনই আবার তার ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি নাম।
Aurora Calling...
আহমেদের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
সে কয়েক সেকেন্ড ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে কল রিসিভ করল।
চলবে...